
নিজস্ব প্রতিবেদক,
অবৈধভাবে স্পেনে মানব পাচার করে কোটি কোটি টাকা আয়ের অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের দরিগাঁও এর আবদুল কাইয়ুম কানু মিয়া ওরেফে আদম দালাল কানু ও তার দুই ছেলে আবদুল মজিদ সুজন ওরফে হিজড়া সুজন ও সুমন মুন্সীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, পিতা-পুত্রের এই সিন্ডিকেট গত কয়েক বছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক লোককে অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্পেন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। বিভিন্ন প্রকার ভিসার মাধ্যমে সুকৌশলে এই প্রতারক চক্র ঢাকা ও সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে লন্ডন বা চায়নায় ট্রানজিট দিয়ে লোকজনকে স্পেনে প্রবেশ করায়।
তাছাড়াও স্পেনে সমকামিতায় লিপ্ত হয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করে। এসব অপকর্ম করে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার মালিক হয়েছে তিনি। এসব অবৈধ টাকা হালাল করতে স্পেনে রয়েছে ৩টি দোকান, নিজ গ্রামে করেছেন দুই কোটি টাকা ব্যায়ে আলিশান প্রাসাদ। একসময় কানু মিয়া সৌদি সহ মধ্যপ্রাচ্যর বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা করে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাত করে দেওলিয়া হয়েছিল। এতে বাড়িঘরও বিক্রি করে দেয়। তাদের অবৈধ মানব পাচার সহ সকল অপকর্ম নিয়ে রোববার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছে বাঞ্ছারামপুরের স্থানীয় লোকজন।
জানা গেছে, এই চক্রের হাত ধরে স্পেন গিয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের ইমামনগর গ্রামের নয়ন মিয়ার ছেলে পলক মিয়া, দরিকান্দি কাজী বাড়ির অলিম কাজির ছেলে নাঈম মিয়া, দরিকান্দি ভোরের বাজারের রহিস মিয়ার ছেলে পিন্টু, ভেলানগরের মেহেদী হাসান, ভেলানগরের মেহেদী হাসান, দরিকান্দির নয়া হাটির মালেক মিয়ার ছেলে বাবুল সহ আরো অনেকে।
কানুর ছেলে আবদুল মজিদ সুজন একই গ্রামের স্পেন প্রবাসী মালেক মিয়ার ছেলে বাবুলের সাথে ১২ বছর যাবত অবৈধভাবে সমকামিতার সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। যা নিয়ে স্পেনে কয়েকবার বিচার হয়েছে । এছাড়াও স্পেনিশ এক বয়স্ক লোকের সাথে তার সমকামিতা সর্ম্পক রয়েছে। যা তার অর্থ উপার্জনের মূল উৎস।
যুবক ছেলেদের তার পছন্দ হলে তাদের মোবেইলে মেসেজ দিয়ে টাকা অফার করে তার সাথে সমকামিতার করার জন্য। স্পেনে মারিকন নামে পরিচিত সুজন, যার বাংলা অর্থ হিজড়া।
এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কানু মিয়ার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্পেন প্রবাসী সুজন মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এই আদম দালাল সিন্ডিকেটকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
এলাকাবাসী দাবি, মানবপাচার দমনে তাদের বিরুদ্ধে সরকার যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
























