Dhaka , Thursday, 19 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রূপগঞ্জে সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ২০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ রূপগঞ্জে কথিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ, অপপ্রচারের অভিযোগ নাসির উদ্দীনের প্রযুক্তির আড়ালে জুয়ার আসর: লালমনিরহাটে ডিবির জালে ৩ জন, জব্দ বিপুল পরিমাণ সিম ও স্মার্টফোন মানবতার বন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থা -পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার ও মেহেদী উৎসবের আয়োজন নোয়াখালীতে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু, আহত ২ শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাতের প্রস্তুতি: প্রশাসনের আশাবাদ, আনন্দঘন আয়োজনের প্রত্যাশা যন্ত্রপাতি বিক্রি করে ১৬ লাখ টাকা উদ্ধার তিন মাস পর বেতন পেয়ে স্বস্তিতে ১৩০ শ্রমিক পাইকগাছায় সাইবার অপপ্রচারের শিকার ব্যবসায়ী রেজাউল মোড়ল, থানায় জিডি রামগঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত শরীয়াতপুরের ডামুড্যায় সাইকেল-ট্রলির সংঘর্ষে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু স্বস্তির ঈদযাত্রা-যানজট কম, মুখে হাসি ঘরমুখো মানুষের ঈদকে ঘিরে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এতিমখানায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শরীয়তপুরে ১০১ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক সম্রাট সুমন শিকদার গ্রেফতার বিলাসপুরে গভীর রাতে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসত ঘরে বোমা হামলা, করলেন ভাঙচুর শ্রীপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সহায়তার অর্থ বিতরণ রূপগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলাসহ ১২ মামলার আসামি গ্রেফতার ঈদ ঘিরে গুলিস্তানে নতুন নোটের রমরমা বাজার, বাড়তি দামেও ক্রেতার চাপ কলমাকান্দায় চার শহীদ পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল চরভদ্রাসনে বিএনপি’র রিশাদ বেগের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। তিন পুলিশ প্রত্যাহার রূপগঞ্জে ঈদকে ঘিরে ৩শ’ মাদকের স্পট সক্রিয়॥ বিপুল মাদকদ্রব্য মজুদ পুলিশের উপর হামলাসহ ১২ মামলার আসামি রূপগঞ্জে সন্ত্রাসী ফয়সাল গ্রেফতার রূপগঞ্জে এমপি দিপুর নির্দেশনায় ১০০০ হাজার দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ দক্ষিণ বঙ্গপসাগর উপকূলীয় অঞ্চল থেকে আত্মসমর্পণকৃত ১২৭ জন আলোর পথের অভিযাত্রীদের মাঝে মহা-পরিচালক র‌্যাব ফোর্সেস এর পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ বিজিবির ধাওয়ায় মালামাল ফেলে পালালো চোরাকারবারীরা: ঝাউরানী ও মোগলহাট সীমান্তে মাদক ও চিনি জব্দ মধুপুরে অসহায় পরিবারকে ঢেউটিন প্রদান চরভদ্রাসনে ছাত্রদলের শামীম রেজার উদ্যোগে দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ। কৃষি বিপ্লব ও মানবতার সেবায় ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু: লালমনিরহাটে বড়ুয়া খাল ও ১ টাকায় ঈদ বাজারের শুভ উদ্বোধন রাউজান থানা পুলিশের অভিযানে ০৯ জন আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার টাঙ্গাইলে ঈদ বাজারে ক্রেতা কম, বিপাকে ব্যবসায়ীরা ঝড়ের রাতে চরে আটকা লঞ্চ, ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার শতাধিক যাত্রী

রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি যেন মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য

রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি যেন মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য।
মাদকের অভয়াশ্রম হওয়ায় প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকা মাদক। এই মাদক ব্যবসাকে ঘিরে তৈরী হচ্ছে সন্ত্র্যাসী, ঘটছে খুন জখমের ঘটনা। পুলিশের নাকের ডগায় মাদক ব্যবসা চললেও মাশোহারায় খেলনা ভূমিকায় পুলিশ।

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন অবস্থিত চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র। এলাকায় ‘চনপাড়া বস্তি’ নামে পরিচিত। লক্ষাধিক জনসংখ্যা নিয়ে গড়ে ওঠা বিশাল এলাকাটি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর আরেকটি পরিচয় গড়ে উঠেছে। বলা হয়, মাদক কারবারি, খুন-রাহাজানি, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান-মলম পার্টিসহ বিভিন্ন অপরাধীর আশ্রায়স্থল।

প্রকাশ্যে চনপাড়ার এই বস্তির অলিগলিতে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের কেনাবেচা হয়।
অথচ পুলিশের ভুমিকা নিরব। অভিযোগ রয়েছে মাশোহারায় পুলিশকে ম্যানেজ করে চলে এই মাদকের বেচাকেনা।

গত (১১ নভেম্বর) র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রাশেদুল ইসলাম শাহীন ওরফে সিটি শাহীনের মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় আসে এই জনপদটি।

সন্ত্র্যাসী শাহিন ছিলেন ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চনপাড়া মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য সচিব। এলাকাবাসী বলেন, শাহিন একজন শীর্ষ সন্ত্র্যাসী যার নামে হত্যা মামলাসহ ২৩ টি মামলা রয়েছে সে কি করে রাজনীতি করে। যিনি রূপগঞ্জের বড় মাদক ব্যবসায়ী, অথচ মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য সচিব ও সে।

শাহিন বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ রূপগঞ্জবাসী। তাদের হামলা ও নির্যাতনের ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস নেই কারও।

নাম না প্রকাশের শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, শাহীন ও তার দলবল মানুষের কাছে চাঁদা দাবী করত, চাঁদা না পেলে তাদের বাড়িতে লুটপাট চালাত। এমনকি ঘরের দামি আসবাব থেকে শুরু করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যেত প্রকাশ্যে। অসহায় প্রতিবেশীদের নীরবে এসব দেখা ছাড়া প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ ছিল না।

চনপাড়ার এই বস্তিটি বিশাল আয়তন হওয়ায় নিয়ন্ত্রকরা এটিকে নয়টি মহল্লায় ভাগ করেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাঁচ-ছয়টি গ্রুপ রয়েছে সেখানে। তবে বিভিন্ন সূত্র এবং স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, বস্তির প্রধান নিয়ন্ত্রক হলেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড (চনপাড়া বস্তি এলাকা) মেম্বার এবং রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা বজলুর রহমান। সব মাদক কারবারির কাছ থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে টাকা নেন তিনি। আর মাদকের এই বিপুল অর্থ তিনি প্রসাশনের কিছু অসাধু লোকসহ বিভিন্ন প্রভাবশালীদের কাছে বন্টন করেন।
এছাড়া একটি গ্রুপের হোতা জয়নাল আবেদিন ছিলেন বজলুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন। সব অপকর্মে তাঁকে ব্যবহার করতেন জয়নাল। এই মাদকের টাকার ভাগবাটোয়ায় শাহীনের প্রতিপক্ষ ছিলেন জয়নাল । প্রায় ছয়-সাত মাস আগে শাহীন গ্রুপ ও জয়নাল গ্রুপের মধ্যে মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি হয়। এতে শাহীনের পক্ষের একজন মারা যায়। ওই মামলায় জয়নাল আবেদিন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। জয়নাল কারাগারে যাওয়ার পর শাহীনকে কাছে ডেকে নেন আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমান। এরপর থেকে শাহীন আরও রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। সম্প্রতি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বজলুর রহমান এখন জামিনে আছেন।

পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান বলেন, চনপাড়া বস্তির তিন নম্বর এলাকার বালুর মাঠে মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে র‌্যাব-১-এর একটি দল অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে দেখা যায়, সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহীন পড়ে আছে। তার পাশ থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও ২০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহিন নিহত হওয়ার ঘটনায় গত শুক্রবার র‌্যাব-১-এর সিপিসি-১-এর পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বলা হয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় মাদক কারবারিদের গুলিতে শাহীন নিহত হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোমেন বলেন, শাহিন একজন শীর্ষ সন্ত্র্যাসী এমন কোন অপরাধ নাই যা সে করেনি। তাকে একাধিকবার গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে ছিল প্রসাশন। কিন্তু তারা সংঘবদ্ধ হওয়ায় শাহিনকে গ্রেফতার করা যায়নি। এর আগে তার লোকজন র‌্যাবের ওপর হামলা করেছিল। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এএফএম সায়েদ বলেন, গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে র‌্যাব চনপাড়া বস্তিতে অভিযান চালায় এ সময় শাহীন ও তাঁর লোকজন র‌্যাবের কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় র‌্যাব-১-এর নায়েক সুবেদার তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এতে আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানসহ ৩১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই মামলায় বজলু জামিন পেলেও তাঁর ছোট ভাই কারাগারে আছেন। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শাহীনের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার ইতি গন মাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে শাহিন বাসা থেকে চনপাড়া দুই নম্বরে যাওয়ার কথা বলে চলে যান। বাসা থেকে বের হওয়ার পর গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান। পরে দেখেন তার স্বামী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মারা যায়।

ইতির আরো বলেন, তাঁর স্বামী শাহিন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। এ কারণে চনপাড়ার মাদক কারবারিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এলাকার শমসের, শফিকুল, শাহ আলম ও সাহাবুদ্দিন মাদকের অন্যতম ডিলার। তাদের সঙ্গে শাহীনের দ্বন্দ্ব চলছিল।

উল্লেখ্য ১৯৭৪ সালে নারায়গঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের চনপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভূমিহীন মানুষদের ঠাঁই দিয়েছিলেন। বর্তমান এই জমির আয়তন ১২৬ একর জমি। যা ধীরে ধীরে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রটি বস্তি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এই বস্তিতে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির জনক আশ্রয় দিয়েছিলেন সেই আবাসস্থল এখন হয়েছে সন্ত্রাসীদের জনপদ। যদি চনপাড়ার এই বস্তি প্রশাসন কঠোরভাবে দমন না করতে পারে তাহলে দিন দিন এখানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আতুর ঘর হয়ে উঠবে।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ২০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি যেন মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য

আপডেট সময় : 01:13:36 am, Monday, 14 November 2022

রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি যেন মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্গরাজ্য।
মাদকের অভয়াশ্রম হওয়ায় প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে কোটি টাকা মাদক। এই মাদক ব্যবসাকে ঘিরে তৈরী হচ্ছে সন্ত্র্যাসী, ঘটছে খুন জখমের ঘটনা। পুলিশের নাকের ডগায় মাদক ব্যবসা চললেও মাশোহারায় খেলনা ভূমিকায় পুলিশ।

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন অবস্থিত চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র। এলাকায় ‘চনপাড়া বস্তি’ নামে পরিচিত। লক্ষাধিক জনসংখ্যা নিয়ে গড়ে ওঠা বিশাল এলাকাটি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর আরেকটি পরিচয় গড়ে উঠেছে। বলা হয়, মাদক কারবারি, খুন-রাহাজানি, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অজ্ঞান-মলম পার্টিসহ বিভিন্ন অপরাধীর আশ্রায়স্থল।

প্রকাশ্যে চনপাড়ার এই বস্তির অলিগলিতে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের কেনাবেচা হয়।
অথচ পুলিশের ভুমিকা নিরব। অভিযোগ রয়েছে মাশোহারায় পুলিশকে ম্যানেজ করে চলে এই মাদকের বেচাকেনা।

গত (১১ নভেম্বর) র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রাশেদুল ইসলাম শাহীন ওরফে সিটি শাহীনের মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় আসে এই জনপদটি।

সন্ত্র্যাসী শাহিন ছিলেন ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চনপাড়া মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য সচিব। এলাকাবাসী বলেন, শাহিন একজন শীর্ষ সন্ত্র্যাসী যার নামে হত্যা মামলাসহ ২৩ টি মামলা রয়েছে সে কি করে রাজনীতি করে। যিনি রূপগঞ্জের বড় মাদক ব্যবসায়ী, অথচ মাদক নির্মূল কমিটির সদস্য সচিব ও সে।

শাহিন বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ রূপগঞ্জবাসী। তাদের হামলা ও নির্যাতনের ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস নেই কারও।

নাম না প্রকাশের শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, শাহীন ও তার দলবল মানুষের কাছে চাঁদা দাবী করত, চাঁদা না পেলে তাদের বাড়িতে লুটপাট চালাত। এমনকি ঘরের দামি আসবাব থেকে শুরু করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যেত প্রকাশ্যে। অসহায় প্রতিবেশীদের নীরবে এসব দেখা ছাড়া প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ ছিল না।

চনপাড়ার এই বস্তিটি বিশাল আয়তন হওয়ায় নিয়ন্ত্রকরা এটিকে নয়টি মহল্লায় ভাগ করেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাঁচ-ছয়টি গ্রুপ রয়েছে সেখানে। তবে বিভিন্ন সূত্র এবং স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, বস্তির প্রধান নিয়ন্ত্রক হলেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড (চনপাড়া বস্তি এলাকা) মেম্বার এবং রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা বজলুর রহমান। সব মাদক কারবারির কাছ থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে টাকা নেন তিনি। আর মাদকের এই বিপুল অর্থ তিনি প্রসাশনের কিছু অসাধু লোকসহ বিভিন্ন প্রভাবশালীদের কাছে বন্টন করেন।
এছাড়া একটি গ্রুপের হোতা জয়নাল আবেদিন ছিলেন বজলুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন। সব অপকর্মে তাঁকে ব্যবহার করতেন জয়নাল। এই মাদকের টাকার ভাগবাটোয়ায় শাহীনের প্রতিপক্ষ ছিলেন জয়নাল । প্রায় ছয়-সাত মাস আগে শাহীন গ্রুপ ও জয়নাল গ্রুপের মধ্যে মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি হয়। এতে শাহীনের পক্ষের একজন মারা যায়। ওই মামলায় জয়নাল আবেদিন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। জয়নাল কারাগারে যাওয়ার পর শাহীনকে কাছে ডেকে নেন আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমান। এরপর থেকে শাহীন আরও রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। সম্প্রতি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বজলুর রহমান এখন জামিনে আছেন।

পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান বলেন, চনপাড়া বস্তির তিন নম্বর এলাকার বালুর মাঠে মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে র‌্যাব-১-এর একটি দল অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে দেখা যায়, সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহীন পড়ে আছে। তার পাশ থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও ২০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহিন নিহত হওয়ার ঘটনায় গত শুক্রবার র‌্যাব-১-এর সিপিসি-১-এর পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বলা হয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় মাদক কারবারিদের গুলিতে শাহীন নিহত হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোমেন বলেন, শাহিন একজন শীর্ষ সন্ত্র্যাসী এমন কোন অপরাধ নাই যা সে করেনি। তাকে একাধিকবার গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে ছিল প্রসাশন। কিন্তু তারা সংঘবদ্ধ হওয়ায় শাহিনকে গ্রেফতার করা যায়নি। এর আগে তার লোকজন র‌্যাবের ওপর হামলা করেছিল। রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এএফএম সায়েদ বলেন, গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে র‌্যাব চনপাড়া বস্তিতে অভিযান চালায় এ সময় শাহীন ও তাঁর লোকজন র‌্যাবের কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় র‌্যাব-১-এর নায়েক সুবেদার তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এতে আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানসহ ৩১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই মামলায় বজলু জামিন পেলেও তাঁর ছোট ভাই কারাগারে আছেন। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শাহীনের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার ইতি গন মাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে শাহিন বাসা থেকে চনপাড়া দুই নম্বরে যাওয়ার কথা বলে চলে যান। বাসা থেকে বের হওয়ার পর গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান। পরে দেখেন তার স্বামী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মারা যায়।

ইতির আরো বলেন, তাঁর স্বামী শাহিন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। এ কারণে চনপাড়ার মাদক কারবারিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এলাকার শমসের, শফিকুল, শাহ আলম ও সাহাবুদ্দিন মাদকের অন্যতম ডিলার। তাদের সঙ্গে শাহীনের দ্বন্দ্ব চলছিল।

উল্লেখ্য ১৯৭৪ সালে নারায়গঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের চনপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভূমিহীন মানুষদের ঠাঁই দিয়েছিলেন। বর্তমান এই জমির আয়তন ১২৬ একর জমি। যা ধীরে ধীরে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রটি বস্তি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এই বস্তিতে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির জনক আশ্রয় দিয়েছিলেন সেই আবাসস্থল এখন হয়েছে সন্ত্রাসীদের জনপদ। যদি চনপাড়ার এই বস্তি প্রশাসন কঠোরভাবে দমন না করতে পারে তাহলে দিন দিন এখানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আতুর ঘর হয়ে উঠবে।