Dhaka , Saturday, 31 January 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান আগামী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান—শহিদুল আলম বাহাদুরের সমর্থনে ঈদগাঁওয়ে বিশাল গণমিছিল খুরুশকুলে ধানের শীষের বিশাল জনসভা: উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার লুৎফুর রহমান কাজলের বান্দরবানে আরআইসির অভিযানে শটগানের কার্তুজ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার রূপগঞ্জে ধানের শীষে ভোট চেয়ে মুড়াপাড়ায় উঠান বৈঠক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা পর্দা নামছে আজ শেষ মূহুর্তে লোকে লোকারণ্য ॥ মূল্যছাড়ে কেনাকাটার ধুম ॥ বিক্রেতারা খুশি পাঁচবিবি মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ সাভারে গার্মেন্টসে ভাঙচুর: ৭ নারীসহ ২৩ শ্রমিক গ্রেফতার আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর করা হবে চসিককে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অনির্বাচিত সরকার কখনও দেশের মানুষের আশা পূরণ করতে পারে না :- দক্ষিণ হালিশহরে গণসংযোগে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আসন্ন সংসদ নির্বাচন: দিনাজপুরে বিজিবি মোতায়েন ও ১৩টি বেইস ক্যাম্প স্থাপন যারা শংকার সৃষ্টি করছে তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে:– দক্ষিণ আগ্রাবাদে গণসংযোগকালে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী… সিএমপি’র পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ৫২টি বিভিন্ন ব্রান্ডের চোরাই মোবাইল ফোন সহ ০৩ জন আসামী গ্রেফতার কটিয়াদীতে ভাতিজার টেটার আঘাতে বিএনপি সভাপতি কামাল মেম্বার নিহত,গ্রেপ্তার ২ আফতাবনগরে নাহিদ ইসলামের গণসংযোগে ভোটারদের দাবি, সুশাসনের বার্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নোয়াখালীতে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়ে বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষ, আহত ১২ ক্ষমতায় যাওয়ার আগে জনগণ যাদের হাতে নিরাপদ নয়,ক্ষমতায় যাওয়ার পর আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে : ডা.শফিকুর রহমান ভোটের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন খালেদা জিয়া: মেয়র মজিবর রহমান সাতকানিয়ায় অগ্নিসংযোগ নাটক: পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর রহস্য লালমনিরহাটে ধানের শীষের সমর্থনে ছাত্রদলের মিছিল আদিতমারী সীমান্তে বিজিবির অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা ও চিনি জব্দ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষ্যে বিয়ামে মতবিনিময় সভা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ জমি বিরোধের জেরে কক্সবাজারে মামার হাতে ভাগিনা খুন সংসদ নির্বাচন: অনলাইনে নয়, সাংবাদিক কার্ড ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে ইসি হরিপুরে ড্যাবের উদ্যোগে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সিলেটে সেনাবাহিনী প্রধানের মতবিনিময় সভা পাইকগাছায় দিনব্যাপী দাঁড়িপাল্লা প্রার্থীর মতবিনিময় ও গণসংযোগ পাইকগাছায় ফ্রি চক্ষু ও ডেন্টাল চিকিৎসা পেল সাড়ে তিন শতাধিক রোগী আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর এখন চবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ফরিদপুরে ঝোপঝাড় হতে থানা লুট হওয়া গ্রেনেড- কার্তুজ, পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১০

রূপগঞ্জে জাহাজ শিল্পের সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:37:46 pm, Sunday, 6 June 2021
  • 444 বার পড়া হয়েছে

রূপগঞ্জে জাহাজ শিল্পের সম্ভাবনা

নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ –

শীতলক্ষ্যা ও বালুনদের তীরে গড়ে উঠছে নতুন নতুন জাহাজ তৈরীর কারখানা। দিনে দুপুরেও মানুষের যাতায়াত ছিল না বললেই চলে। নির্জন নিরিবিলী স্থান। মাদকসেবীদের আখড়া নামেই পরিচিত ছিল এসব স্থান। স্বাধীনতা পরবর্তী হঠাৎ করেই কে বা কাহারা ছাওয়ালপীরের নামে একটা আস্তানা খুলে বসে। মাঝে মধ্যে কিছু লালসালু পরিহিত ভন্ড সাধুর আগমন হত। তখন থেকে মাদকসেবীদের আনাগোনা আরো বেড়ে গেল। নব্বই দশকের দিকে ত্রিমুহনী এলাকার কিছু যুবক ইটা তৈরির কারখানা বানালেন। এরপর থেকে এর নাম ইটাখোলা। এ ইটা খোলায় এখন জাহাজের বিশাল শিল্প কারখানার কর্মযঙ্ঘ।

২০-৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। দিন রাত চলে কার্যক্রম। কেউ জ¦ালা দিচ্ছে। কেউ গ্রান্ডিং করছে। কেউ ডিজাইং করছে। প্লেট কাটছে। রং করছে। অনেকে পাহাদারের কাজও করছে। নির্জন এ স্থানটিতে বর্তমান জাহাজ নির্মান, মেরামত, পুরাতন জাহাজ কাটা, নতুন পুরাতন জাহাজ বেচাকেনা এসব কার্যক্রমকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে বিশাল বাজার। পথ চলতেই টুক্ টাক্ শব্দে আপনার কান ঝাপাপালা হবার উপক্রম হবে।
ডেমরা থেকে বালু নদীর পশ্চিম তীর ঘেষে উত্তরে কালো অজগরের মতো একেবেকে গেছে পীচঢালা সড়ক। সেই রাস্তা ধরে মাত্র ৩ কিলোমিটার এগুলোই জাহাজ তৈরীর অসংখ্য কারখানার দেখা মিলবে। কোনটি সবে তৈরি হচ্ছে, কোনটি সমাপ্তির পথে। যে কারো চোখ ধাঁধিয়ে যাবে বড় বড় জাহাজ দেখে। ইতোমধ্যেই বালুনদের পাড়ের এ চরটি এখন এলাকাবাসির কাছে জাহাজের চর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
নয়ামাটি এলাকার সুজন মিয়া বলেন, “একটা সময় কাজের সন্ধানে ছুটতাম। এখন আমার আন্ডারেই কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে। নয়ামাটি এলাকায় বালুনদের তীরে প্রথম ছোট্ট করে শুরু করি। তারপর নব্বই দশকের দিকে আমিই প্রথম এ ইটা খোলায় থ্রি-স্টার নামে ডকইয়ার্ড চালু করি। এরপর আমার পাশাপাশি অনেকেই জাহাজ তৈরির কাজ শুরু করেন। এখন হাজার হাজার জাহাজ তৈরি হচ্ছে এখানে। সময়ের ব্যবধানে সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য জাহাজ তৈরীর শিল্প। হাজার মানুষের পদচারনায় নির্জন ইটাখোলা এখন এক কর্মমূখর জনপদ।” এছাড়াও বালুরপাড়, ইদেরকান্দি, পূর্বগ্রাম, ভাওয়ালীয়াপাড়া, ডাক্তারখালী, বড়ালু, মাঝিনা, হড়িনা, ও ইছাখালীর চরে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক জাহাজ তৈরীর কারখানা। এছাড়া উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানগর ও দড়িকান্দির চরে রয়েছে আরো ৮/১০টি প্রতিষ্ঠান। মাষ্টার ডকইয়ার্ড, থ্রিস্টার ডকইয়ার্ড, ফাইভ ইস্টার ডকইয়ার্ড, খান ডকইয়ার্ড, ফাহিম ডকইয়ার্ড, শামস ডকইয়ার্ড, তালহা ডকইয়ার্ড, আমির ডকইয়ার্ড, মালেক ডকইয়ার্ড, রাজু ডকইয়ার্ড, লিটন ডকইয়ার্ড, ফটিক ডকইয়ার্ড, ভাই ভাই ডকইয়ার্ড, মনির ডকইয়ার্ড, মাস্টাং ইঞ্জিনিয়ারিং জাহাজ কারখানাগুলোর অন্যতম। আড়াই‘শ ফিট থেকে শুরু করে শত ফিটের কোষ্টার বা মালবাহি জাহাজ, সরোঙ্গা, ফেরী, জেটি, পল্টন, বালুবাহি ট্রলার, বলগেট আর ড্রেজার তৈরী হয় এসব কারখানায়।
জাহাজ তৈরীতে মূলত ব্যবহার হয় লোহার প্লেনশীট আর এঙ্গেল, মেশিন সরাসরি আমদানী করতে হয় চীন থেকে। অতিরিক্ত উপাদান বলতে টি-গার্ডার, বিট-গার্ডার, রং, ইট, বালি ,সিমেন্ট, গ্যাস সিলিন্ডার, অক্সিজেন, ওয়েল্ডিং রড আর লেদ মেশিনের কিছু খুচরো কাজ। একটি বড় মাপের কোষ্টার জাহাজ তৈরীর জন্য প্রথমে রাজমিস্ত্রি বেইস লাইন তৈরী করে দেন। পরে ঠিকাদারের নির্দেশনাক্রমে ফিটাররা জাহাজের মলিন তৈরী করেন। ওয়েল্ডার ঝালাইয়ের মাধ্যেমে জাহাজটির খাচা তৈরী নির্মান করেন।
একটি বডি দাড় করানোর পর চলে মেশিন স্থাপন আর রংয়ের কাজ। বড় জাহাজে ৩/৪টি খুপড়ি বা হেস থাকে। যেখানে ৩/৪শ টন পর্যন্ত মাল বহন করা যায়। প্লেনশীট আসে চট্রগ্রাম থেকে। বিদেশী কাটা জাহাজের ৮ থেকে ১২ মিলির শীট ব্যবহার করা হয় জাহার তৈরীতে। ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে শীট কিনতে হয়।
আর লোহার অঙ্গেল ৭৫/৭৬ টাকায় পাওয়া যায় স্থানীয় বাজারে। ৮/৯ লাখ টাকায় জাহাজের মেশিন আমদানী করা হয় চীন থেকে আর অন্যান্য মালামাল আছে ঢাকার বংশালে অথবা চট্রগ্রামের ভাটিয়ারীতে। সময় ও অবস্থাবেধে উপাদানের মূল্যেরও হেরফের হয়। সর্বসাকুল্যে একটি বড় জাহাজ তৈরীতে ৯/১০ কোটি টাকা খরচা হয়। এরপর মালিকরা সুবিধে মতো লাভ করে তা বিক্রি করেন। একটি জাহাজ ২০/২৫জন কারিগর মিলে তৈরী করলে সময় লাগে ১২ থেকে ১৫ মাস।
কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে।
এখন আর আগের মত মানুষ জাহাজ বানায় না। তাই খুব একটা ভালো নেই এর নির্মাণ শ্রমিকরা। সকলের সাথেই কথা বলে পাওয়া গেলো হতাশার সুর। লোহার মতো শক্ত সামর্থ্য শরীর তাদের। কিন্তু তাদের ঘরের খুটি অত্যন্ত দূর্বল নড়বড়ে। জীবন জিবিকা আর বাসস্থানের মান নগন্য।
ফিটার আমির, মোজ্জামেল, মোক্তার, জয়নাল ওয়েল্ডার পান্নু, আলমাছ আনোয়ারসহ আরো অনেকে জানান, হিসেব কষে খেয়ে দেয়ে বাকি টাকাটুকু তুলে রাখেন পরিবার পরিজনদের জন্য। তারা বলেন কাজের তুলনায় বেতন অনেক কম তারপরও করার কিছু নেই। এই কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজ তারা শিখেননি। এটাই করতে হবে তাদের। আর জাহাজের মালিক রেবেকা সুলতানা, আমির খান, আনোয়ার হোসেন, কামাল, মাহফুজ, নুরুল হক বজুরী, আব্দুল মজিদ কৃষ্ণ গোপাল সরকারসহ আরো অনেকে বলেন, রোজ হাজিরা, মালামাল কেনা , বিদ্যু বিল আর জমির ভাড়া এগুলোর ভেতর লুকিয়ে থাকে জাহাজের লাভ লোকসানের ব্যাপার।
এ কারনে হিসেব কষে সকলকে টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া মালামালের দাম যে হারে বাড়ছে জাহাজের দাম কিন্তু আগের তুলনায় বাড়েনি।

 

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান

রূপগঞ্জে জাহাজ শিল্পের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : 07:37:46 pm, Sunday, 6 June 2021

নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ –

শীতলক্ষ্যা ও বালুনদের তীরে গড়ে উঠছে নতুন নতুন জাহাজ তৈরীর কারখানা। দিনে দুপুরেও মানুষের যাতায়াত ছিল না বললেই চলে। নির্জন নিরিবিলী স্থান। মাদকসেবীদের আখড়া নামেই পরিচিত ছিল এসব স্থান। স্বাধীনতা পরবর্তী হঠাৎ করেই কে বা কাহারা ছাওয়ালপীরের নামে একটা আস্তানা খুলে বসে। মাঝে মধ্যে কিছু লালসালু পরিহিত ভন্ড সাধুর আগমন হত। তখন থেকে মাদকসেবীদের আনাগোনা আরো বেড়ে গেল। নব্বই দশকের দিকে ত্রিমুহনী এলাকার কিছু যুবক ইটা তৈরির কারখানা বানালেন। এরপর থেকে এর নাম ইটাখোলা। এ ইটা খোলায় এখন জাহাজের বিশাল শিল্প কারখানার কর্মযঙ্ঘ।

২০-৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। দিন রাত চলে কার্যক্রম। কেউ জ¦ালা দিচ্ছে। কেউ গ্রান্ডিং করছে। কেউ ডিজাইং করছে। প্লেট কাটছে। রং করছে। অনেকে পাহাদারের কাজও করছে। নির্জন এ স্থানটিতে বর্তমান জাহাজ নির্মান, মেরামত, পুরাতন জাহাজ কাটা, নতুন পুরাতন জাহাজ বেচাকেনা এসব কার্যক্রমকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে বিশাল বাজার। পথ চলতেই টুক্ টাক্ শব্দে আপনার কান ঝাপাপালা হবার উপক্রম হবে।
ডেমরা থেকে বালু নদীর পশ্চিম তীর ঘেষে উত্তরে কালো অজগরের মতো একেবেকে গেছে পীচঢালা সড়ক। সেই রাস্তা ধরে মাত্র ৩ কিলোমিটার এগুলোই জাহাজ তৈরীর অসংখ্য কারখানার দেখা মিলবে। কোনটি সবে তৈরি হচ্ছে, কোনটি সমাপ্তির পথে। যে কারো চোখ ধাঁধিয়ে যাবে বড় বড় জাহাজ দেখে। ইতোমধ্যেই বালুনদের পাড়ের এ চরটি এখন এলাকাবাসির কাছে জাহাজের চর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
নয়ামাটি এলাকার সুজন মিয়া বলেন, “একটা সময় কাজের সন্ধানে ছুটতাম। এখন আমার আন্ডারেই কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে। নয়ামাটি এলাকায় বালুনদের তীরে প্রথম ছোট্ট করে শুরু করি। তারপর নব্বই দশকের দিকে আমিই প্রথম এ ইটা খোলায় থ্রি-স্টার নামে ডকইয়ার্ড চালু করি। এরপর আমার পাশাপাশি অনেকেই জাহাজ তৈরির কাজ শুরু করেন। এখন হাজার হাজার জাহাজ তৈরি হচ্ছে এখানে। সময়ের ব্যবধানে সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য জাহাজ তৈরীর শিল্প। হাজার মানুষের পদচারনায় নির্জন ইটাখোলা এখন এক কর্মমূখর জনপদ।” এছাড়াও বালুরপাড়, ইদেরকান্দি, পূর্বগ্রাম, ভাওয়ালীয়াপাড়া, ডাক্তারখালী, বড়ালু, মাঝিনা, হড়িনা, ও ইছাখালীর চরে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক জাহাজ তৈরীর কারখানা। এছাড়া উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানগর ও দড়িকান্দির চরে রয়েছে আরো ৮/১০টি প্রতিষ্ঠান। মাষ্টার ডকইয়ার্ড, থ্রিস্টার ডকইয়ার্ড, ফাইভ ইস্টার ডকইয়ার্ড, খান ডকইয়ার্ড, ফাহিম ডকইয়ার্ড, শামস ডকইয়ার্ড, তালহা ডকইয়ার্ড, আমির ডকইয়ার্ড, মালেক ডকইয়ার্ড, রাজু ডকইয়ার্ড, লিটন ডকইয়ার্ড, ফটিক ডকইয়ার্ড, ভাই ভাই ডকইয়ার্ড, মনির ডকইয়ার্ড, মাস্টাং ইঞ্জিনিয়ারিং জাহাজ কারখানাগুলোর অন্যতম। আড়াই‘শ ফিট থেকে শুরু করে শত ফিটের কোষ্টার বা মালবাহি জাহাজ, সরোঙ্গা, ফেরী, জেটি, পল্টন, বালুবাহি ট্রলার, বলগেট আর ড্রেজার তৈরী হয় এসব কারখানায়।
জাহাজ তৈরীতে মূলত ব্যবহার হয় লোহার প্লেনশীট আর এঙ্গেল, মেশিন সরাসরি আমদানী করতে হয় চীন থেকে। অতিরিক্ত উপাদান বলতে টি-গার্ডার, বিট-গার্ডার, রং, ইট, বালি ,সিমেন্ট, গ্যাস সিলিন্ডার, অক্সিজেন, ওয়েল্ডিং রড আর লেদ মেশিনের কিছু খুচরো কাজ। একটি বড় মাপের কোষ্টার জাহাজ তৈরীর জন্য প্রথমে রাজমিস্ত্রি বেইস লাইন তৈরী করে দেন। পরে ঠিকাদারের নির্দেশনাক্রমে ফিটাররা জাহাজের মলিন তৈরী করেন। ওয়েল্ডার ঝালাইয়ের মাধ্যেমে জাহাজটির খাচা তৈরী নির্মান করেন।
একটি বডি দাড় করানোর পর চলে মেশিন স্থাপন আর রংয়ের কাজ। বড় জাহাজে ৩/৪টি খুপড়ি বা হেস থাকে। যেখানে ৩/৪শ টন পর্যন্ত মাল বহন করা যায়। প্লেনশীট আসে চট্রগ্রাম থেকে। বিদেশী কাটা জাহাজের ৮ থেকে ১২ মিলির শীট ব্যবহার করা হয় জাহার তৈরীতে। ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে শীট কিনতে হয়।
আর লোহার অঙ্গেল ৭৫/৭৬ টাকায় পাওয়া যায় স্থানীয় বাজারে। ৮/৯ লাখ টাকায় জাহাজের মেশিন আমদানী করা হয় চীন থেকে আর অন্যান্য মালামাল আছে ঢাকার বংশালে অথবা চট্রগ্রামের ভাটিয়ারীতে। সময় ও অবস্থাবেধে উপাদানের মূল্যেরও হেরফের হয়। সর্বসাকুল্যে একটি বড় জাহাজ তৈরীতে ৯/১০ কোটি টাকা খরচা হয়। এরপর মালিকরা সুবিধে মতো লাভ করে তা বিক্রি করেন। একটি জাহাজ ২০/২৫জন কারিগর মিলে তৈরী করলে সময় লাগে ১২ থেকে ১৫ মাস।
কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে।
এখন আর আগের মত মানুষ জাহাজ বানায় না। তাই খুব একটা ভালো নেই এর নির্মাণ শ্রমিকরা। সকলের সাথেই কথা বলে পাওয়া গেলো হতাশার সুর। লোহার মতো শক্ত সামর্থ্য শরীর তাদের। কিন্তু তাদের ঘরের খুটি অত্যন্ত দূর্বল নড়বড়ে। জীবন জিবিকা আর বাসস্থানের মান নগন্য।
ফিটার আমির, মোজ্জামেল, মোক্তার, জয়নাল ওয়েল্ডার পান্নু, আলমাছ আনোয়ারসহ আরো অনেকে জানান, হিসেব কষে খেয়ে দেয়ে বাকি টাকাটুকু তুলে রাখেন পরিবার পরিজনদের জন্য। তারা বলেন কাজের তুলনায় বেতন অনেক কম তারপরও করার কিছু নেই। এই কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজ তারা শিখেননি। এটাই করতে হবে তাদের। আর জাহাজের মালিক রেবেকা সুলতানা, আমির খান, আনোয়ার হোসেন, কামাল, মাহফুজ, নুরুল হক বজুরী, আব্দুল মজিদ কৃষ্ণ গোপাল সরকারসহ আরো অনেকে বলেন, রোজ হাজিরা, মালামাল কেনা , বিদ্যু বিল আর জমির ভাড়া এগুলোর ভেতর লুকিয়ে থাকে জাহাজের লাভ লোকসানের ব্যাপার।
এ কারনে হিসেব কষে সকলকে টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া মালামালের দাম যে হারে বাড়ছে জাহাজের দাম কিন্তু আগের তুলনায় বাড়েনি।