Dhaka , Wednesday, 25 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
লাখো পর্যটকে টইটম্বুর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রামগঞ্জে মাদক প্রতিরোধে মিনি ম্যারাথন ও ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ মধুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান পুড়ে ছাই লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতি পরিদর্শনে ডিসি ও প্রশাসন “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না—সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বন্ধ পাটকল চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী রূপগঞ্জে স্বামীর গলায় ছুরি ধরে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবক গ্রেফতার পাইকগাছায় ইউএনও’র সঙ্গে ঢাবি ছাত্র কল্যাণ সমিতির মতবিনিময় পাইকগাছায় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের শিল্পায়নের সম্ভাবনা শীর্ষক সভায় ত্রাণমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে মাদকসহ আটক ১: ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ সিরাপ জব্দ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবেও ষড়যন্ত্রের ছায়া:- গিয়াস কাদের চৌধুরী ঈদের ছুটিতে তীর্থস্থানে সনাতনীদের ঢল: ভক্তি, বিশ্বাস ও পূণ্যলাভের মহামিলন চন্দনাইশ প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈকত দাশ জাজিরায় ঈদের দিনেও দায়ীত্বে, রোগীদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন দুই চিকিৎসক টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখতে হবে….ডাক, টেলিযোগাযোগ তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ৬ মাসের মধ্যে ভূমি অফিসের দুর্নীতি ‘ওয়ান ডিজিটে’ নামিয়ে আনার প্রত্যয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য নগরে পরিণত করতে কাজ করছি আসুন সম্প্রীতি ও মানবিকতার সমাজ গড়ে তুলতে ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিই:- ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরুন, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব এর রজতজয়ন্তীতে ডেপুটি স্পিকার রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা ওসমানকে এলোপাতাড়ি গুলি, মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ লক্ষ্মীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ১ জন নিহত সিন্দুরমতি দিঘিকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে রূপান্তরের নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন ত্রাণমন্ত্রী মৌলভীবাজারে পৌর ঈদগাহে তিন জামাত অনুষ্ঠিত, অংশ নিলেন এমপি এম নাসের রহমান সাতকানিয়ায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি: নগদ ৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট  কয়রায় মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় বিশ্ব পানি দিবস পালিত; ওয়াটার সেফটি প্ল্যান নিয়ে আলোচনা পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক বন দিবস পালিত

বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে দেলওয়ার হোসেনের ‘মোর নয়া মিয়া আর ফিরি আসপে না’

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:04:01 pm, Friday, 18 March 2022
  • 299 বার পড়া হয়েছে

বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে দেলওয়ার হোসেনের ‘মোর নয়া মিয়া আর ফিরি আসপে না’

আমিরুল হক, নীলফামারী ।।

৩৩ বছর ধরে সুইডেনে বসবাস করছেন নিভৃতচারী সাংবাদিক ও লেখক দেলওয়ার হোসেন। আশির দশকের প্রারম্ভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরুর সময় থেকেই যুক্ত হন সাংবাদিকতায়। শেষাবধি সাংবাদিকতাকেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন। প্রবাস জীবনেও সক্রিয় থেকেছেন এই পেশায়। এবছর একুশের বই মেলায় তিনি বের করলেন তার প্রথম বই সন্তানহারা এক মায়ের আত্মাহুতি -‘মোর নয়া মিয়া আর ফিরি আসপে না’।
৭১-এ সৈয়দপুরে শহীদ বাবার সন্তান দেলওয়ার হোসেন তার পরিবারের আত্মত্যাগের বিয়োগান্তক পরিণতিকে উপজীব্য করে তার বইয়ে তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধের দালিলিক ক্যানভাস তাঁর বাবা ডা. এম এ আজিজ সরকার ওরফে নয়া মিয়ার দুর্দমনীয় স্বাধীকার চেতনার কথা তুলে ধরেছেন তার বইতে। লেখক দেলওয়ার হোসেন একাত্তরে তার বাবার আত্ম ত্যাগের কথা লিখতে গিয়ে তাঁর মা হামিদা বেগম ও দাদী আছিয়া বেগমের মর্মান্তিক পরিণতিকে যেভাবে তুলে ধরেছেন- সেই মর্মস্পর্শী বর্ণনা পড়তে গিয়ে পাঠক তীব্র বেদনার আঘাতে হবেন ক্ষত-বিক্ষত ।
পরিবারের বড় সন্তানকে হারানোর পর শোকে পাথর হওয়া দাদীর বিশ্বাস ছিল, তার সন্তান একদিন ফিরে আসবেই। দীর্ঘ দশটি বছর অধীর প্রতীক্ষার পর যখন বুঝলেন মিথ্যে আশা মরীচিকা। বুকের মানিক নয়া মিয়া আর ফিরে আসবে না, তাই অপেক্ষা করে আর কী লাভ, আর কেনই বা বেঁচে থাকা। সে কথাই তিনি জানান দিয়ে যান আত্মাহুতির একদিন আগে। মোর নয়া মিয়া আর ফিরি আসপে না, মুই আর বাঁচি থাকি কি করিম।
দাদীর এই মর্মন্তুদ আহাজারি থেকেই করেছেন বইটির নামকরন।
লেখক তাঁর বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন, বিখ্যাত ব্যক্তিরা আত্মজীবনী লেখেন। আমি বিখ্যাত নই। তাই নিজেকে নিয়ে লেখারও কিছু নেই। লেখার কিছু থাকলেও বা মানুষ তা পড়বে কেন- আমার মতো অচেনা অখ্যাত কারো লেখা। এখানে লেখার বিষয়বস্তু আমি নই। আমার বাবা। তিনি বিখ্যাত কোন ব্যক্তি নন। তিনি আমার মতই অতি সাধারণ। তবে সাধারণ হলেও একটি বিশেষ ক্ষেত্রে আমার বিবেচনায় তিনি অসাধারণ। শুধু মানুষহিসেবে নয়, তিনি অসাধারণ তার কর্মেও।
বিশেষ ক্ষেত্রে তার সেই অনন্য কর্মকান্ড ও ভূমিকার বিষয়ে ভাবতে ভাবতে স্বাধীনতার ৫০টি বছর কেটে গেছে। দীর্ঘ এই ৫০টি বছরে আমি আমার প্রতিদিনের নিঃশ্বাসে তাকে স্মরণ করেছি। তার মত কত অখ্যাত মানুষের সততা, মানবিকতা, দেশপ্রেম, বীরত্ব গাঁথার কথা নিরব মৃত্যুর সাথেই মুছে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এদেরকে নিয়ে লেখার দায়বদ্ধ মানুষের সংখ্যা বা স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ দেখা যায় কতজনে ভেতর? সেই নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটায় সমাজ অনেক পিছিয়ে। তাই সমাজের সংশ্লিষ্টদের দায় না থাকলে, নিজের কথা নিজেকেই বলতে হয়।
লেখক তাঁর বাবার কথা স্মৃতিচারন করতে গিয়ে লিখেছেন সারা বাংলার মুক্তিযোদ্ধাদের মহিমান্বিত আত্মত্যাগের কথা। প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে একই মলাটে তিনি বন্দি করেছেন স্বাধীনতার অজস্্র দলিল ও ঘটনার কথা। বইয়ে দাদীর কথা বলতে গিয়ে লিখেছেন-আব্বাকে হারানোর সংবাদ শোনার পর থেকে তিনি একটি রাতও ঘুমাননি। খাটের উপর বসেননি। মাটির ঘরের মেঝেতে খড় বিছিয়ে তার ওপর কাঁথা পেতে শুয়েছেন । তিন বেলার আহার বাদ দিয়ে বারো মাস রোজা রেখেছেন সন্তানের ফিরে আসার প্রার্থনায়। একদিনও একটু ভাল খাবার মুখে দেননি। শুধু পানি আর জোর পূর্বক এক গøাস দুধ পান করে অবিশ্বাস্যভাবে প্রায় দশটি বছর বেঁচে ছিলেন।
লেখক লিখেছেন, আমাদের পরম প্রিয় দাদীর সান্তনা নিয়ে বেঁচে থাকার মত কিছুই ছিল না। বুকের মানিক তার হারিয়ে গেছে। জীবনটা যেন তার হয়ে উঠেছিল এক দুর্বহ শোকের পাথারে পরিণত। এখানে কেউ হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসে না। দাদী সেই বোধ শক্তিটুকু হারিয়ে ফেলেছিলেন প্রায় দশটি বছর অধীর অপেক্ষায় দিন গুণে। শোকের ভারে কাতর দাদীর যখন শরীর-মনের ভগ্ন দশা তখন একদিন হঠাৎ স্বপ্নে তিনি আব্বার দেখা পেলেন, আব্বা দাদীকে বলছেন , মা তুমি ঘুমাও না কেন? আর কতকাল তুমি আমার জন্য উপোস করে নির্ঘুম রাত কাটাবে মা ? আমিতো আর ফিরে আসবো না মা । এখন তুমি ঘুমাও।
এই স্বপ্নটি দেখার পর দাদী বুঝলেন তার বুকের মানিক ’নয়া মিয়া’ আর ফিরে আসবে না। মিথ্যে আশা মরীচিকা বুঝে মৃত্যুর আগের দিন দাদী আমার সেঝো চাচীকে ডেকে এই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করে বলেন, শোনো সাজুর মা, আমার মানিক-মোর নয়া মিয়া আর ফিরি আসপে না। তাই- মুই আর বাঁচি থাকি কী করিম? এই শেষ কথাটি বলে পরদিন ভোর বেলায় কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। দাদীর তখন বয়স ছিল ৯০ বছর।
এই বইতে আরও পাওয়া যাবে মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ও উত্তরকালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। বইয়ের পটভূমি সৈয়দপুরের মুক্তিযুদ্ধ’ হলেও লেখক একাত্তরের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন সারা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক অনবদ্য ও সচিত্র প্রতিবেদন।
একুশে গ্রন্থমেলায় বইটি প্রকাশ করেছে ছায়াবীথি প্রকাশনী। বইটির মূল্য ৬০০ টাকা। এছাড়াও ’রকমারী ডট কম’-এর মাধ্যমে অনলাইনেও রয়েছে বইটি।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখো পর্যটকে টইটম্বুর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে দেলওয়ার হোসেনের ‘মোর নয়া মিয়া আর ফিরি আসপে না’

আপডেট সময় : 07:04:01 pm, Friday, 18 March 2022

আমিরুল হক, নীলফামারী ।।

৩৩ বছর ধরে সুইডেনে বসবাস করছেন নিভৃতচারী সাংবাদিক ও লেখক দেলওয়ার হোসেন। আশির দশকের প্রারম্ভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরুর সময় থেকেই যুক্ত হন সাংবাদিকতায়। শেষাবধি সাংবাদিকতাকেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন। প্রবাস জীবনেও সক্রিয় থেকেছেন এই পেশায়। এবছর একুশের বই মেলায় তিনি বের করলেন তার প্রথম বই সন্তানহারা এক মায়ের আত্মাহুতি -‘মোর নয়া মিয়া আর ফিরি আসপে না’।
৭১-এ সৈয়দপুরে শহীদ বাবার সন্তান দেলওয়ার হোসেন তার পরিবারের আত্মত্যাগের বিয়োগান্তক পরিণতিকে উপজীব্য করে তার বইয়ে তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধের দালিলিক ক্যানভাস তাঁর বাবা ডা. এম এ আজিজ সরকার ওরফে নয়া মিয়ার দুর্দমনীয় স্বাধীকার চেতনার কথা তুলে ধরেছেন তার বইতে। লেখক দেলওয়ার হোসেন একাত্তরে তার বাবার আত্ম ত্যাগের কথা লিখতে গিয়ে তাঁর মা হামিদা বেগম ও দাদী আছিয়া বেগমের মর্মান্তিক পরিণতিকে যেভাবে তুলে ধরেছেন- সেই মর্মস্পর্শী বর্ণনা পড়তে গিয়ে পাঠক তীব্র বেদনার আঘাতে হবেন ক্ষত-বিক্ষত ।
পরিবারের বড় সন্তানকে হারানোর পর শোকে পাথর হওয়া দাদীর বিশ্বাস ছিল, তার সন্তান একদিন ফিরে আসবেই। দীর্ঘ দশটি বছর অধীর প্রতীক্ষার পর যখন বুঝলেন মিথ্যে আশা মরীচিকা। বুকের মানিক নয়া মিয়া আর ফিরে আসবে না, তাই অপেক্ষা করে আর কী লাভ, আর কেনই বা বেঁচে থাকা। সে কথাই তিনি জানান দিয়ে যান আত্মাহুতির একদিন আগে। মোর নয়া মিয়া আর ফিরি আসপে না, মুই আর বাঁচি থাকি কি করিম।
দাদীর এই মর্মন্তুদ আহাজারি থেকেই করেছেন বইটির নামকরন।
লেখক তাঁর বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন, বিখ্যাত ব্যক্তিরা আত্মজীবনী লেখেন। আমি বিখ্যাত নই। তাই নিজেকে নিয়ে লেখারও কিছু নেই। লেখার কিছু থাকলেও বা মানুষ তা পড়বে কেন- আমার মতো অচেনা অখ্যাত কারো লেখা। এখানে লেখার বিষয়বস্তু আমি নই। আমার বাবা। তিনি বিখ্যাত কোন ব্যক্তি নন। তিনি আমার মতই অতি সাধারণ। তবে সাধারণ হলেও একটি বিশেষ ক্ষেত্রে আমার বিবেচনায় তিনি অসাধারণ। শুধু মানুষহিসেবে নয়, তিনি অসাধারণ তার কর্মেও।
বিশেষ ক্ষেত্রে তার সেই অনন্য কর্মকান্ড ও ভূমিকার বিষয়ে ভাবতে ভাবতে স্বাধীনতার ৫০টি বছর কেটে গেছে। দীর্ঘ এই ৫০টি বছরে আমি আমার প্রতিদিনের নিঃশ্বাসে তাকে স্মরণ করেছি। তার মত কত অখ্যাত মানুষের সততা, মানবিকতা, দেশপ্রেম, বীরত্ব গাঁথার কথা নিরব মৃত্যুর সাথেই মুছে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এদেরকে নিয়ে লেখার দায়বদ্ধ মানুষের সংখ্যা বা স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ দেখা যায় কতজনে ভেতর? সেই নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটায় সমাজ অনেক পিছিয়ে। তাই সমাজের সংশ্লিষ্টদের দায় না থাকলে, নিজের কথা নিজেকেই বলতে হয়।
লেখক তাঁর বাবার কথা স্মৃতিচারন করতে গিয়ে লিখেছেন সারা বাংলার মুক্তিযোদ্ধাদের মহিমান্বিত আত্মত্যাগের কথা। প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে একই মলাটে তিনি বন্দি করেছেন স্বাধীনতার অজস্্র দলিল ও ঘটনার কথা। বইয়ে দাদীর কথা বলতে গিয়ে লিখেছেন-আব্বাকে হারানোর সংবাদ শোনার পর থেকে তিনি একটি রাতও ঘুমাননি। খাটের উপর বসেননি। মাটির ঘরের মেঝেতে খড় বিছিয়ে তার ওপর কাঁথা পেতে শুয়েছেন । তিন বেলার আহার বাদ দিয়ে বারো মাস রোজা রেখেছেন সন্তানের ফিরে আসার প্রার্থনায়। একদিনও একটু ভাল খাবার মুখে দেননি। শুধু পানি আর জোর পূর্বক এক গøাস দুধ পান করে অবিশ্বাস্যভাবে প্রায় দশটি বছর বেঁচে ছিলেন।
লেখক লিখেছেন, আমাদের পরম প্রিয় দাদীর সান্তনা নিয়ে বেঁচে থাকার মত কিছুই ছিল না। বুকের মানিক তার হারিয়ে গেছে। জীবনটা যেন তার হয়ে উঠেছিল এক দুর্বহ শোকের পাথারে পরিণত। এখানে কেউ হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসে না। দাদী সেই বোধ শক্তিটুকু হারিয়ে ফেলেছিলেন প্রায় দশটি বছর অধীর অপেক্ষায় দিন গুণে। শোকের ভারে কাতর দাদীর যখন শরীর-মনের ভগ্ন দশা তখন একদিন হঠাৎ স্বপ্নে তিনি আব্বার দেখা পেলেন, আব্বা দাদীকে বলছেন , মা তুমি ঘুমাও না কেন? আর কতকাল তুমি আমার জন্য উপোস করে নির্ঘুম রাত কাটাবে মা ? আমিতো আর ফিরে আসবো না মা । এখন তুমি ঘুমাও।
এই স্বপ্নটি দেখার পর দাদী বুঝলেন তার বুকের মানিক ’নয়া মিয়া’ আর ফিরে আসবে না। মিথ্যে আশা মরীচিকা বুঝে মৃত্যুর আগের দিন দাদী আমার সেঝো চাচীকে ডেকে এই স্বপ্নের কথা বর্ণনা করে বলেন, শোনো সাজুর মা, আমার মানিক-মোর নয়া মিয়া আর ফিরি আসপে না। তাই- মুই আর বাঁচি থাকি কী করিম? এই শেষ কথাটি বলে পরদিন ভোর বেলায় কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। দাদীর তখন বয়স ছিল ৯০ বছর।
এই বইতে আরও পাওয়া যাবে মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ও উত্তরকালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। বইয়ের পটভূমি সৈয়দপুরের মুক্তিযুদ্ধ’ হলেও লেখক একাত্তরের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন সারা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক অনবদ্য ও সচিত্র প্রতিবেদন।
একুশে গ্রন্থমেলায় বইটি প্রকাশ করেছে ছায়াবীথি প্রকাশনী। বইটির মূল্য ৬০০ টাকা। এছাড়াও ’রকমারী ডট কম’-এর মাধ্যমে অনলাইনেও রয়েছে বইটি।