
চঞ্চল, লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত চন্ডিমারি কুটিরপাড় তিস্তা নদীর চরে কিছু ব্যক্তি রাতের আঁধারে গোপনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহণ করছিলেন এমন খবর পান চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম বকুল। সাংবাদিক বকুলের অভিযোগ, ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে ও তার সহকর্মীকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এছাড়াও তার মোটরসাইকেল, ভিডিও ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ভাঙচুর ও লোপাট করা হয়।
এই ঘটনায় শুক্রবার “২৮ ফেব্রুয়ারি” রাতে সাংবাদিক বকুল বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক বকুল বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের “পাউবো” ওয়াপদা বাঁধের উপর দিয়ে বালু উত্তোলনের ট্রাক যেন চলতে না পারে তাই কর্তৃপক্ষ ওয়াপদার রাস্তায় খুঁটি বসিয়ে দেন। স্থানীয়রা আমার কাছে অভিযোগ করেন যে, সেই খুঁটি রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে তিস্তা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সে সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে তোলা বালুর ট্রাক আটকালে আমি সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করি। আমি ভিডিওধারণ করার সময়ে সেখানে হট্টগোল শুরু হয় ও স্থানীয় অভিযোগকারীদের সাথে অভিযুক্তদের মারামারি লেগে যায়। ওই মারামারিতে ৩ জন আহত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ফলে আমি আত্মরক্ষার্থে সেখান থেকে সরে আসি। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে থাকা আমার মোটরসাইকেলসহ ৪টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আমার ব্যাগে রাখা ক্যামেরা, বুমসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য জিনিসপত্র লোপাট করেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।“
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবু তালেব মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে লালমনিরহাটের একজন সাংবাদিকের সাথে আবু তালেব মেম্বারের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড পাওয়া যায়। যেখানে বালু উত্তোলন ও মারামারির ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আবু তালেব বলেন ,”থানা থেকে পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে। আমি সেখানে ছিলাম না ও সাংবাদিককে মারিনি। ওই সময় আমি ঘুমাচ্ছিলাম। গ্রামের মানুষ ড্রাইভার ও হেল্পারকে মারধর করেছিল। তখন মারামারি বাঁধে। আমি বালু তুলিনি। তিস্তায় এখন চর জেগেছে সেখানে আমার জমি আছে। মহিষখোঁচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমাকে আমার ওয়ার্ডে একটি সরকারি রাস্তার জন্য মাটি দিতে বলেছিলেন। তাই আমি আমার জমি থেকে মাটি দিয়েছি। তাছাড়া আমি তার গাড়ি বা ক্যামেরা হাত দিইনি।”
আদিতমারী থানার ওসি আলী আকবর জানান, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

























