Dhaka , Thursday, 5 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রোহিঙ্গা পরিচয়ের অভিযোগে ফায়সালের ভুয়া এনআইডি-পাসপোর্ট, রাঙ্গুনিয়ায় আটক মাদক সেবনের দায়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলী আহম্মেদকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও বহিষ্কার কুড়িগ্রামে ১১৭০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার, একজনের বিরুদ্ধে ২০টি মাদক মামলা ‘এই পৃথিবীর জন্য বড্ড নরম মনের মানুষ আমি’: মেঘনা আলম পাইকগাছায় নাশকতা, জুয়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪ বি‌লে‌তের মা‌টি‌তে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ ও গুণীজন সম্মাননা ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষককে বিদায় সংবর্ধনা:: সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত, পুলিশের গাড়িতে আগুন, ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সিলেট টেস্টে ব্যাটিং অর্ডারে রদবদলের ইঙ্গিত, তিনে নামতে পারেন অধিনায়ক ১৯ বছরেই এমবাপ্পেকে টপকে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ ‘মিথ্যা’: সংবাদ সম্মেলনে সেলিম উদ্দিন খাগড়াছড়িতে ৫৫তম পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত, ‘গিরিস্বপ্ন ২০২৬’-এর মোড়ক উন্মোচন রূপগঞ্জ পূর্বাচলের ৩০০ ফুটে প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি \ চালকসহ তিন জন গ্রেফতার সীতাকুণ্ডে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে সচিবকে ডিসির চিঠি, ২৪ ঘণ্টায় নানা পদক্ষেপ আসামে উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন ৪ হাজার বাঙালি মুসলিম ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের আহ্বান জিএম কাদেরের জয়পুরহাটে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান একনেক সভায় বিসিসির জন্য ৭০১ কোটি টাকা অনুমোদন : অবহেলিত থেকে গেল দক্ষিণাঞ্চল মধুপুরে সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিচ্ছে জাইকা, চট্টগ্রামে নির্মিত হবে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সাভারে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০ ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ নারায়ণগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ কালিয়াকৈরে শ্রমিকের আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন নেত্রকোনার পূর্বধলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)’র কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে আওয়ামী সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:58:41 pm, Friday, 13 March 2026
  • 109 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)-এর কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ শুক্রবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ১৪ মার্চ বিকালে নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ইফতার মাহফিলের নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছে। বাস্তবে এটি একটি রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা, যা নিষিদ্ধ সংগঠন ও তাদের অনুসারীদের পুনরায় সংগঠিত করার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ বলে আমাদের দৃঢ বিশ্বাস। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারন সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানসহ নেতৃবৃন্দ জানান, ইতিপূর্বেও এই চক্রটি পুলিশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টাওয়ারের সামনে এক সমাবেশে পুলিশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাসহ জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে সমাবেশ শেষ করে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, সিইউজে নামের এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির কথিত সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরীসহ এর অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগের পলাতক ফ্যাসিস্ট নেতৃত্বের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি চট্টগ্রামের সর্বমহলে সুবিদিত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের কাছে এমনও তথ্য রয়েছে যে, উক্ত কর্মসূচির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, যারা বর্তমানে জনসমক্ষে সক্রিয় হতে না পেরে ইফতার মাহফিলের মতো সামাজিক আয়োজনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে। এই চক্রটি সরকার বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জেলে আটক শ্যামল দত্তসহ আরো অনেককে তাদের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে সবসময় সরকার বিরোধী অবস্থান নেয়। শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষনা ও বিগত জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্য রিয়াজ হায়দারসহ কতিপয় সাংবাদিক স্বাক্ষর করে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের মুখোশ উম্মোচন করেছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় পর্যায়েও এই সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং কেউ কেউ পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তারা মূলত পলাতক আওয়ামী লীগ

নেতাদের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে জনমনে দৃঢ় ধারণা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামেও এই নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পলাতক ফ্যাসিস্ট নেতৃত্ব ও তাদের সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বিগত কমিটি সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এটি একটি প্রতারণামূলক ও অনৈতিক পদক্ষেপ। কারণ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী ও নিয়মতান্ত্রিক সাংবাদিক সংগঠন, যার মর্যাদা ও নিরপেক্ষতার আড়ালে ফ্যাসিস্ট ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিদর্শন করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

ফ্যাসিস্ট শক্তির সহযোগী হিসেবে পরিচিত একটি সংগঠন প্রকাশ্যে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করায় সাংবাদিক সমাজ, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নিষিদ্ধ শক্তিকে পুনরায় সংগঠিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের দৃঢ় ধারণা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় উক্ত কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনানুগভাবে তদন্তের আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন, ফ্যাসিবাদের এসব দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে, যা জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ বলেন, জনরায়ে নির্বাচিত সরকারের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরাও চাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক। তবে যারা জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রদের রক্ত নিয়ে হোলিখেলা করেছে এবং প্রেস মিডিয়াতে আন্দোলনের যোদ্ধাদের নামে যারা ভীতি তৈরি করেছে, যারা সহযোগিতার ভূমিকা পালন করছে তাদের এ ধরনের অবাধ বিচরণ ও সমাবেশ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমাজের মতো চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজও মেনে নিবে না। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের সমাবেশে কোন ধরনের অপ্রিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ দায়ী থাকবে না। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা পরিচয়ের অভিযোগে ফায়সালের ভুয়া এনআইডি-পাসপোর্ট, রাঙ্গুনিয়ায় আটক

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)’র কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে আওয়ামী সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান।

আপডেট সময় : 03:58:41 pm, Friday, 13 March 2026

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)-এর কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ শুক্রবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ১৪ মার্চ বিকালে নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ইফতার মাহফিলের নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছে। বাস্তবে এটি একটি রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা, যা নিষিদ্ধ সংগঠন ও তাদের অনুসারীদের পুনরায় সংগঠিত করার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ বলে আমাদের দৃঢ বিশ্বাস। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারন সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানসহ নেতৃবৃন্দ জানান, ইতিপূর্বেও এই চক্রটি পুলিশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টাওয়ারের সামনে এক সমাবেশে পুলিশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাসহ জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে সমাবেশ শেষ করে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, সিইউজে নামের এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির কথিত সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরীসহ এর অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগের পলাতক ফ্যাসিস্ট নেতৃত্বের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি চট্টগ্রামের সর্বমহলে সুবিদিত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের কাছে এমনও তথ্য রয়েছে যে, উক্ত কর্মসূচির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, যারা বর্তমানে জনসমক্ষে সক্রিয় হতে না পেরে ইফতার মাহফিলের মতো সামাজিক আয়োজনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে। এই চক্রটি সরকার বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জেলে আটক শ্যামল দত্তসহ আরো অনেককে তাদের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে সবসময় সরকার বিরোধী অবস্থান নেয়। শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষনা ও বিগত জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্য রিয়াজ হায়দারসহ কতিপয় সাংবাদিক স্বাক্ষর করে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের মুখোশ উম্মোচন করেছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় পর্যায়েও এই সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং কেউ কেউ পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তারা মূলত পলাতক আওয়ামী লীগ

নেতাদের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে জনমনে দৃঢ় ধারণা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামেও এই নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পলাতক ফ্যাসিস্ট নেতৃত্ব ও তাদের সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বিগত কমিটি সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এটি একটি প্রতারণামূলক ও অনৈতিক পদক্ষেপ। কারণ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী ও নিয়মতান্ত্রিক সাংবাদিক সংগঠন, যার মর্যাদা ও নিরপেক্ষতার আড়ালে ফ্যাসিস্ট ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিদর্শন করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

ফ্যাসিস্ট শক্তির সহযোগী হিসেবে পরিচিত একটি সংগঠন প্রকাশ্যে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করায় সাংবাদিক সমাজ, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নিষিদ্ধ শক্তিকে পুনরায় সংগঠিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের দৃঢ় ধারণা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় উক্ত কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনানুগভাবে তদন্তের আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন, ফ্যাসিবাদের এসব দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে, যা জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ বলেন, জনরায়ে নির্বাচিত সরকারের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরাও চাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক। তবে যারা জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রদের রক্ত নিয়ে হোলিখেলা করেছে এবং প্রেস মিডিয়াতে আন্দোলনের যোদ্ধাদের নামে যারা ভীতি তৈরি করেছে, যারা সহযোগিতার ভূমিকা পালন করছে তাদের এ ধরনের অবাধ বিচরণ ও সমাবেশ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমাজের মতো চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজও মেনে নিবে না। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের সমাবেশে কোন ধরনের অপ্রিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ দায়ী থাকবে না। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।