Dhaka , Wednesday, 2 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
শত বছরের খাল প্রশাসনের অভিযানে দখলমুক্তর পরে ফিরে পেলো প্রাণ- ভরাটের মালামাল নিলাম লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম, শত ডলার ছুঁইছুঁই সরকারবিরোধী অপপ্রচারের প্রতিবাদে চবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ ঘোড়াশাল-পলাশ সারকারখানায় বকেয়া বেতন ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেছে প্রধানমন্ত্রী তার সুবিধামতো সময়ে ভারতে যাবেন: চিফ হুইপ আজ আমরা প্রথম গণতন্ত্রের মাকে ছাড়া প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালন করছি: আনোয়ার হোসেন মাস্টার জনগণের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কাজ করে : এলজিআরডি মন্ত্রী ড. মঈন খান মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মানোয়ার হোসেন এমপি, সহ-সভাপতি নেওয়াজ হালিমা আরলী রামুতে ভোক্তা অধিকার অভিযানে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ মিয়া ইন্তেকাল করেছেন রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা রামুতে জমি বিরোধের ঘটনায় আহত মোহাম্মদ হোসেন অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রামে বনাঢ্য আয়োজনে ভিওডি বাংলার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন পাইকগাছা চৌকি কোর্টের ছাদ ধসে আতঙ্ক; ঝুঁকিতে বিচার কার্যক্রম কাউখালীতে প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর ত্রাণ বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ও পোনা মাছ অবমুক্ত করেন ধর্মপাশায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন রাজনগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল র‍্যালি নেপাল নিয়ে বিদেশিদের যে অনুরোধ মনীষার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির স্মরণীয় ১০ অধ্যায় ২০২৭ সালের রোজা শুরু কবে থেকে, জানা গেল মাদারীপুরে মসজিদের ইমামের ঘরে বিস্ফোরণ আগস্টের ৩০ দিনে প্রবাসী আয় ৩৪৮০৯ কোটি টাকা বিএনপির ৪৮ বছরের ৪৮ অর্জন তুলে ধরলেন মাহদী আমিন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে: ট্রাম্প বিমান বাহিনীর জিপ দুর্ঘটনায় ৩ সদস্য নিহত, আহত ৪ আইন অমান্য করে পুকুরের ওপর দোতলা ভবন, গুঁড়িয়ে দিচ্ছে প্রশাসন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী:দুর্গাপুরে পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ কলমাকান্দায় নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘হালিম গ্রুপ’ এর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:16:13 pm, Thursday, 17 July 2025
  • 389 বার পড়া হয়েছে

শওকত আলম, কক্সবাজার

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘হালিম গ্রুপ’। ক্যাম্প-২, ক্যাম্প-৭ এবং বালুখালীর ক্যাম্প-৮ (ইস্ট)-এ একের পর এক অপহরণ, চাঁদাবাজি, ইয়াবা কারবার ও সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে বাহিনী প্রধান আব্দুল হালিম ও তার অনুসারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘আরসা’ থেকে বেরিয়ে আব্দুল হালিম তার নিজের নামে ‘হালিম গ্রুপ’ গঠন করেন। ক্যাম্পের একাধিক মাঝি ও স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, এ গ্রুপটি ক্যাম্পজুড়ে নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।

আব্দুল হালিমের প্রকৃত নাম কেফাউত উল্লাহ। তিনি মিয়ানমারের মংডুর নাফ্ফুরা পাড়ার বাসিন্দা এবং আরসার সাবেক ক্যাম্প কমান্ডার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর তিনি আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ২০২১ সালে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর আরসা ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে নিজস্ব গ্রুপ তৈরি করেন হালিম।

ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, হালিম গ্রুপের সদস্যরা প্রকাশ্যে লুটপাট, ধর্ষণ, নির্যাতন চালাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। ভয়ে কেউ এপিবিএন কিংবা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতেও সাহস পায় না।

সম্প্রতি ক্যাম্পে কয়েকটি পরিবারে হামলা চালিয়ে নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানি ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় রোহিঙ্গারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে হালিমের ডানহাত হিসেবে কাজ করছে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আইয়ুব নুর ওরফে টুপি নুর। তার নেতৃত্বে ইয়াবা ও অস্ত্র পাচারসহ চাঁদাবাজি ও রেশন ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।

ক্যাম্পজুড়ে মাদক ব্যবসার জন্য হালিম গ্রুপ গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। প্রতিটি ক্যাম্পেই আলাদা বাহিনী নিয়োগ দিয়ে ইয়াবা বহন ও বিক্রি করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে জানা গেছে, ক্যাম্প-৭ ছাড়াও আশপাশের এলাকাগুলোতে হালিম গ্রুপ সক্রিয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিছুটা কমে এসেছিল, তবে সম্প্রতি তা আবার বেড়ে গেছে।

আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে মাস্টার মুহিব উল্লাহ, মুফতি হাসিম, হাফেজ শফিকসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে।

বর্তমানে যেসব নেতার নেতৃত্বে ক্যাম্পে হালিম বাহিনী তৎপর, তারা হলেন—আমির রফিক, আবু আনাস, মৌলভী শোহাব, নুরুল বশর, হাফেজ সাইফুল ও রাহামত উল্লাহ।

স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হোসাইন বলেন, “কিছুদিন ক্যাম্পে সন্ত্রাস কমলেও এখন আবার হালিম বাহিনী তৎপর হচ্ছে, যা স্থানীয়রাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।”

এ বিষয়ে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সিরাজ আমিন জানান, “যে কোনো গ্রুপ যদি ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন করার চেষ্টা করে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শত বছরের খাল প্রশাসনের অভিযানে দখলমুক্তর পরে ফিরে পেলো প্রাণ- ভরাটের মালামাল নিলাম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘হালিম গ্রুপ’ এর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ সাধারণ রোহিঙ্গারা

আপডেট সময় : 03:16:13 pm, Thursday, 17 July 2025

শওকত আলম, কক্সবাজার

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘হালিম গ্রুপ’। ক্যাম্প-২, ক্যাম্প-৭ এবং বালুখালীর ক্যাম্প-৮ (ইস্ট)-এ একের পর এক অপহরণ, চাঁদাবাজি, ইয়াবা কারবার ও সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে বাহিনী প্রধান আব্দুল হালিম ও তার অনুসারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘আরসা’ থেকে বেরিয়ে আব্দুল হালিম তার নিজের নামে ‘হালিম গ্রুপ’ গঠন করেন। ক্যাম্পের একাধিক মাঝি ও স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, এ গ্রুপটি ক্যাম্পজুড়ে নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।

আব্দুল হালিমের প্রকৃত নাম কেফাউত উল্লাহ। তিনি মিয়ানমারের মংডুর নাফ্ফুরা পাড়ার বাসিন্দা এবং আরসার সাবেক ক্যাম্প কমান্ডার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর তিনি আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ২০২১ সালে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর আরসা ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে নিজস্ব গ্রুপ তৈরি করেন হালিম।

ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, হালিম গ্রুপের সদস্যরা প্রকাশ্যে লুটপাট, ধর্ষণ, নির্যাতন চালাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। ভয়ে কেউ এপিবিএন কিংবা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতেও সাহস পায় না।

সম্প্রতি ক্যাম্পে কয়েকটি পরিবারে হামলা চালিয়ে নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানি ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় রোহিঙ্গারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে হালিমের ডানহাত হিসেবে কাজ করছে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আইয়ুব নুর ওরফে টুপি নুর। তার নেতৃত্বে ইয়াবা ও অস্ত্র পাচারসহ চাঁদাবাজি ও রেশন ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।

ক্যাম্পজুড়ে মাদক ব্যবসার জন্য হালিম গ্রুপ গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। প্রতিটি ক্যাম্পেই আলাদা বাহিনী নিয়োগ দিয়ে ইয়াবা বহন ও বিক্রি করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে জানা গেছে, ক্যাম্প-৭ ছাড়াও আশপাশের এলাকাগুলোতে হালিম গ্রুপ সক্রিয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিছুটা কমে এসেছিল, তবে সম্প্রতি তা আবার বেড়ে গেছে।

আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে মাস্টার মুহিব উল্লাহ, মুফতি হাসিম, হাফেজ শফিকসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডের মামলা রয়েছে।

বর্তমানে যেসব নেতার নেতৃত্বে ক্যাম্পে হালিম বাহিনী তৎপর, তারা হলেন—আমির রফিক, আবু আনাস, মৌলভী শোহাব, নুরুল বশর, হাফেজ সাইফুল ও রাহামত উল্লাহ।

স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হোসাইন বলেন, “কিছুদিন ক্যাম্পে সন্ত্রাস কমলেও এখন আবার হালিম বাহিনী তৎপর হচ্ছে, যা স্থানীয়রাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।”

এ বিষয়ে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সিরাজ আমিন জানান, “যে কোনো গ্রুপ যদি ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন করার চেষ্টা করে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”