Dhaka , Wednesday, 18 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি ভুক্তভোগীর রূপগঞ্জে সাংবাদিকদের হুমকি-অপহরণে নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের উদ্বেগ শরীয়াতপুরের পদ্মার বুকে ভাসমান মরদেহ, রহস্যে ঘেরা অজ্ঞাত তরুণের মৃত্যু লালমনিরহাটে পৌর কাউন্সিলর কল্যাণ পরিষদ গঠিত, সভাপতি সালাম, সম্পাদক সেনা নিলক্ষা ইউনিয়নের বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠিতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, তিন দিনের মধ্যে জবাবের নির্দেশ ঝালকাঠিতে বন বিভাগের গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে জুয়েলার্স ব্যবসায়ী অপহরণ, উদ্ধারে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মধুপুরে ৩ মাদক কারবারিকে ১ বছরের কারাদণ্ড রূপগঞ্জে পথচারী ও চালকদের মাঝে ইফতার বিতরণ পাইকগাছায় অনুমোদনহীন ক্লিনিকে অভিযান; জরিমানা ও কারাদণ্ড বিজিবির ধাওয়া খেয়ে গাঁজা ফেলে পালালো চোরাকারবারী: অনন্তপুর সীমান্তে বড় সাফল্য মেহনতি মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী, চট্টগ্রামে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করলেন ডা. শাহাদাত রূপগঞ্জে বরিশাল ও চাঁদপুরগামী যাত্রীদের বিকল্প নৌপথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘরমুখী ও কর্মজীবী যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর- নৌ-পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারালেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবা চট্টগ্রামের নতুন ডিআইজি মনিরুজ্জামান, সিএমপি’র নতুন কমিশনার শওকত আলী বুড়িমারী স্থলবন্দরে ১১ দিনের বিরতি: বন্ধ থাকছে আমদানি-রপ্তানি স্বপ্ন কেড়ে নিল ঘাতক ট্রাক: পাটগ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যের করুণ মৃত্যু বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য রমজানের উপহার পাঠালেন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন চন্দনাইশে ফসলি জমির টপসয়েল কাটায় প্রশাসনের অভিযান: এসকেভেটর জব্দ নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন সিএমপি কমিশনার পাইকগাছায় সমুদ্রগামী জেলেদের মাঝে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ পাইকগাছায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পাইকগাছায় ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান রূপগঞ্জের শিমুলিয়া টুরিস্ট ঘাট থেকে চাঁদপুর ও বরিশালগামী বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু ॥ খুশি ঘরমুখো যাত্রীরা রূপগঞ্জের সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি থানায় জিডি রামগঞ্জের ‎ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বিএএফ শাহীন হাজী আশ্রাফ আলী স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন

রূপগঞ্জে জাহাজ শিল্পের সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:37:46 pm, Sunday, 6 June 2021
  • 451 বার পড়া হয়েছে

রূপগঞ্জে জাহাজ শিল্পের সম্ভাবনা

নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ –

শীতলক্ষ্যা ও বালুনদের তীরে গড়ে উঠছে নতুন নতুন জাহাজ তৈরীর কারখানা। দিনে দুপুরেও মানুষের যাতায়াত ছিল না বললেই চলে। নির্জন নিরিবিলী স্থান। মাদকসেবীদের আখড়া নামেই পরিচিত ছিল এসব স্থান। স্বাধীনতা পরবর্তী হঠাৎ করেই কে বা কাহারা ছাওয়ালপীরের নামে একটা আস্তানা খুলে বসে। মাঝে মধ্যে কিছু লালসালু পরিহিত ভন্ড সাধুর আগমন হত। তখন থেকে মাদকসেবীদের আনাগোনা আরো বেড়ে গেল। নব্বই দশকের দিকে ত্রিমুহনী এলাকার কিছু যুবক ইটা তৈরির কারখানা বানালেন। এরপর থেকে এর নাম ইটাখোলা। এ ইটা খোলায় এখন জাহাজের বিশাল শিল্প কারখানার কর্মযঙ্ঘ।

২০-৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। দিন রাত চলে কার্যক্রম। কেউ জ¦ালা দিচ্ছে। কেউ গ্রান্ডিং করছে। কেউ ডিজাইং করছে। প্লেট কাটছে। রং করছে। অনেকে পাহাদারের কাজও করছে। নির্জন এ স্থানটিতে বর্তমান জাহাজ নির্মান, মেরামত, পুরাতন জাহাজ কাটা, নতুন পুরাতন জাহাজ বেচাকেনা এসব কার্যক্রমকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে বিশাল বাজার। পথ চলতেই টুক্ টাক্ শব্দে আপনার কান ঝাপাপালা হবার উপক্রম হবে।
ডেমরা থেকে বালু নদীর পশ্চিম তীর ঘেষে উত্তরে কালো অজগরের মতো একেবেকে গেছে পীচঢালা সড়ক। সেই রাস্তা ধরে মাত্র ৩ কিলোমিটার এগুলোই জাহাজ তৈরীর অসংখ্য কারখানার দেখা মিলবে। কোনটি সবে তৈরি হচ্ছে, কোনটি সমাপ্তির পথে। যে কারো চোখ ধাঁধিয়ে যাবে বড় বড় জাহাজ দেখে। ইতোমধ্যেই বালুনদের পাড়ের এ চরটি এখন এলাকাবাসির কাছে জাহাজের চর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
নয়ামাটি এলাকার সুজন মিয়া বলেন, “একটা সময় কাজের সন্ধানে ছুটতাম। এখন আমার আন্ডারেই কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে। নয়ামাটি এলাকায় বালুনদের তীরে প্রথম ছোট্ট করে শুরু করি। তারপর নব্বই দশকের দিকে আমিই প্রথম এ ইটা খোলায় থ্রি-স্টার নামে ডকইয়ার্ড চালু করি। এরপর আমার পাশাপাশি অনেকেই জাহাজ তৈরির কাজ শুরু করেন। এখন হাজার হাজার জাহাজ তৈরি হচ্ছে এখানে। সময়ের ব্যবধানে সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য জাহাজ তৈরীর শিল্প। হাজার মানুষের পদচারনায় নির্জন ইটাখোলা এখন এক কর্মমূখর জনপদ।” এছাড়াও বালুরপাড়, ইদেরকান্দি, পূর্বগ্রাম, ভাওয়ালীয়াপাড়া, ডাক্তারখালী, বড়ালু, মাঝিনা, হড়িনা, ও ইছাখালীর চরে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক জাহাজ তৈরীর কারখানা। এছাড়া উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানগর ও দড়িকান্দির চরে রয়েছে আরো ৮/১০টি প্রতিষ্ঠান। মাষ্টার ডকইয়ার্ড, থ্রিস্টার ডকইয়ার্ড, ফাইভ ইস্টার ডকইয়ার্ড, খান ডকইয়ার্ড, ফাহিম ডকইয়ার্ড, শামস ডকইয়ার্ড, তালহা ডকইয়ার্ড, আমির ডকইয়ার্ড, মালেক ডকইয়ার্ড, রাজু ডকইয়ার্ড, লিটন ডকইয়ার্ড, ফটিক ডকইয়ার্ড, ভাই ভাই ডকইয়ার্ড, মনির ডকইয়ার্ড, মাস্টাং ইঞ্জিনিয়ারিং জাহাজ কারখানাগুলোর অন্যতম। আড়াই‘শ ফিট থেকে শুরু করে শত ফিটের কোষ্টার বা মালবাহি জাহাজ, সরোঙ্গা, ফেরী, জেটি, পল্টন, বালুবাহি ট্রলার, বলগেট আর ড্রেজার তৈরী হয় এসব কারখানায়।
জাহাজ তৈরীতে মূলত ব্যবহার হয় লোহার প্লেনশীট আর এঙ্গেল, মেশিন সরাসরি আমদানী করতে হয় চীন থেকে। অতিরিক্ত উপাদান বলতে টি-গার্ডার, বিট-গার্ডার, রং, ইট, বালি ,সিমেন্ট, গ্যাস সিলিন্ডার, অক্সিজেন, ওয়েল্ডিং রড আর লেদ মেশিনের কিছু খুচরো কাজ। একটি বড় মাপের কোষ্টার জাহাজ তৈরীর জন্য প্রথমে রাজমিস্ত্রি বেইস লাইন তৈরী করে দেন। পরে ঠিকাদারের নির্দেশনাক্রমে ফিটাররা জাহাজের মলিন তৈরী করেন। ওয়েল্ডার ঝালাইয়ের মাধ্যেমে জাহাজটির খাচা তৈরী নির্মান করেন।
একটি বডি দাড় করানোর পর চলে মেশিন স্থাপন আর রংয়ের কাজ। বড় জাহাজে ৩/৪টি খুপড়ি বা হেস থাকে। যেখানে ৩/৪শ টন পর্যন্ত মাল বহন করা যায়। প্লেনশীট আসে চট্রগ্রাম থেকে। বিদেশী কাটা জাহাজের ৮ থেকে ১২ মিলির শীট ব্যবহার করা হয় জাহার তৈরীতে। ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে শীট কিনতে হয়।
আর লোহার অঙ্গেল ৭৫/৭৬ টাকায় পাওয়া যায় স্থানীয় বাজারে। ৮/৯ লাখ টাকায় জাহাজের মেশিন আমদানী করা হয় চীন থেকে আর অন্যান্য মালামাল আছে ঢাকার বংশালে অথবা চট্রগ্রামের ভাটিয়ারীতে। সময় ও অবস্থাবেধে উপাদানের মূল্যেরও হেরফের হয়। সর্বসাকুল্যে একটি বড় জাহাজ তৈরীতে ৯/১০ কোটি টাকা খরচা হয়। এরপর মালিকরা সুবিধে মতো লাভ করে তা বিক্রি করেন। একটি জাহাজ ২০/২৫জন কারিগর মিলে তৈরী করলে সময় লাগে ১২ থেকে ১৫ মাস।
কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে।
এখন আর আগের মত মানুষ জাহাজ বানায় না। তাই খুব একটা ভালো নেই এর নির্মাণ শ্রমিকরা। সকলের সাথেই কথা বলে পাওয়া গেলো হতাশার সুর। লোহার মতো শক্ত সামর্থ্য শরীর তাদের। কিন্তু তাদের ঘরের খুটি অত্যন্ত দূর্বল নড়বড়ে। জীবন জিবিকা আর বাসস্থানের মান নগন্য।
ফিটার আমির, মোজ্জামেল, মোক্তার, জয়নাল ওয়েল্ডার পান্নু, আলমাছ আনোয়ারসহ আরো অনেকে জানান, হিসেব কষে খেয়ে দেয়ে বাকি টাকাটুকু তুলে রাখেন পরিবার পরিজনদের জন্য। তারা বলেন কাজের তুলনায় বেতন অনেক কম তারপরও করার কিছু নেই। এই কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজ তারা শিখেননি। এটাই করতে হবে তাদের। আর জাহাজের মালিক রেবেকা সুলতানা, আমির খান, আনোয়ার হোসেন, কামাল, মাহফুজ, নুরুল হক বজুরী, আব্দুল মজিদ কৃষ্ণ গোপাল সরকারসহ আরো অনেকে বলেন, রোজ হাজিরা, মালামাল কেনা , বিদ্যু বিল আর জমির ভাড়া এগুলোর ভেতর লুকিয়ে থাকে জাহাজের লাভ লোকসানের ব্যাপার।
এ কারনে হিসেব কষে সকলকে টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া মালামালের দাম যে হারে বাড়ছে জাহাজের দাম কিন্তু আগের তুলনায় বাড়েনি।

 

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি ভুক্তভোগীর

রূপগঞ্জে জাহাজ শিল্পের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : 07:37:46 pm, Sunday, 6 June 2021

নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ –

শীতলক্ষ্যা ও বালুনদের তীরে গড়ে উঠছে নতুন নতুন জাহাজ তৈরীর কারখানা। দিনে দুপুরেও মানুষের যাতায়াত ছিল না বললেই চলে। নির্জন নিরিবিলী স্থান। মাদকসেবীদের আখড়া নামেই পরিচিত ছিল এসব স্থান। স্বাধীনতা পরবর্তী হঠাৎ করেই কে বা কাহারা ছাওয়ালপীরের নামে একটা আস্তানা খুলে বসে। মাঝে মধ্যে কিছু লালসালু পরিহিত ভন্ড সাধুর আগমন হত। তখন থেকে মাদকসেবীদের আনাগোনা আরো বেড়ে গেল। নব্বই দশকের দিকে ত্রিমুহনী এলাকার কিছু যুবক ইটা তৈরির কারখানা বানালেন। এরপর থেকে এর নাম ইটাখোলা। এ ইটা খোলায় এখন জাহাজের বিশাল শিল্প কারখানার কর্মযঙ্ঘ।

২০-৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। দিন রাত চলে কার্যক্রম। কেউ জ¦ালা দিচ্ছে। কেউ গ্রান্ডিং করছে। কেউ ডিজাইং করছে। প্লেট কাটছে। রং করছে। অনেকে পাহাদারের কাজও করছে। নির্জন এ স্থানটিতে বর্তমান জাহাজ নির্মান, মেরামত, পুরাতন জাহাজ কাটা, নতুন পুরাতন জাহাজ বেচাকেনা এসব কার্যক্রমকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে বিশাল বাজার। পথ চলতেই টুক্ টাক্ শব্দে আপনার কান ঝাপাপালা হবার উপক্রম হবে।
ডেমরা থেকে বালু নদীর পশ্চিম তীর ঘেষে উত্তরে কালো অজগরের মতো একেবেকে গেছে পীচঢালা সড়ক। সেই রাস্তা ধরে মাত্র ৩ কিলোমিটার এগুলোই জাহাজ তৈরীর অসংখ্য কারখানার দেখা মিলবে। কোনটি সবে তৈরি হচ্ছে, কোনটি সমাপ্তির পথে। যে কারো চোখ ধাঁধিয়ে যাবে বড় বড় জাহাজ দেখে। ইতোমধ্যেই বালুনদের পাড়ের এ চরটি এখন এলাকাবাসির কাছে জাহাজের চর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
নয়ামাটি এলাকার সুজন মিয়া বলেন, “একটা সময় কাজের সন্ধানে ছুটতাম। এখন আমার আন্ডারেই কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করে। নয়ামাটি এলাকায় বালুনদের তীরে প্রথম ছোট্ট করে শুরু করি। তারপর নব্বই দশকের দিকে আমিই প্রথম এ ইটা খোলায় থ্রি-স্টার নামে ডকইয়ার্ড চালু করি। এরপর আমার পাশাপাশি অনেকেই জাহাজ তৈরির কাজ শুরু করেন। এখন হাজার হাজার জাহাজ তৈরি হচ্ছে এখানে। সময়ের ব্যবধানে সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য জাহাজ তৈরীর শিল্প। হাজার মানুষের পদচারনায় নির্জন ইটাখোলা এখন এক কর্মমূখর জনপদ।” এছাড়াও বালুরপাড়, ইদেরকান্দি, পূর্বগ্রাম, ভাওয়ালীয়াপাড়া, ডাক্তারখালী, বড়ালু, মাঝিনা, হড়িনা, ও ইছাখালীর চরে রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক জাহাজ তৈরীর কারখানা। এছাড়া উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানগর ও দড়িকান্দির চরে রয়েছে আরো ৮/১০টি প্রতিষ্ঠান। মাষ্টার ডকইয়ার্ড, থ্রিস্টার ডকইয়ার্ড, ফাইভ ইস্টার ডকইয়ার্ড, খান ডকইয়ার্ড, ফাহিম ডকইয়ার্ড, শামস ডকইয়ার্ড, তালহা ডকইয়ার্ড, আমির ডকইয়ার্ড, মালেক ডকইয়ার্ড, রাজু ডকইয়ার্ড, লিটন ডকইয়ার্ড, ফটিক ডকইয়ার্ড, ভাই ভাই ডকইয়ার্ড, মনির ডকইয়ার্ড, মাস্টাং ইঞ্জিনিয়ারিং জাহাজ কারখানাগুলোর অন্যতম। আড়াই‘শ ফিট থেকে শুরু করে শত ফিটের কোষ্টার বা মালবাহি জাহাজ, সরোঙ্গা, ফেরী, জেটি, পল্টন, বালুবাহি ট্রলার, বলগেট আর ড্রেজার তৈরী হয় এসব কারখানায়।
জাহাজ তৈরীতে মূলত ব্যবহার হয় লোহার প্লেনশীট আর এঙ্গেল, মেশিন সরাসরি আমদানী করতে হয় চীন থেকে। অতিরিক্ত উপাদান বলতে টি-গার্ডার, বিট-গার্ডার, রং, ইট, বালি ,সিমেন্ট, গ্যাস সিলিন্ডার, অক্সিজেন, ওয়েল্ডিং রড আর লেদ মেশিনের কিছু খুচরো কাজ। একটি বড় মাপের কোষ্টার জাহাজ তৈরীর জন্য প্রথমে রাজমিস্ত্রি বেইস লাইন তৈরী করে দেন। পরে ঠিকাদারের নির্দেশনাক্রমে ফিটাররা জাহাজের মলিন তৈরী করেন। ওয়েল্ডার ঝালাইয়ের মাধ্যেমে জাহাজটির খাচা তৈরী নির্মান করেন।
একটি বডি দাড় করানোর পর চলে মেশিন স্থাপন আর রংয়ের কাজ। বড় জাহাজে ৩/৪টি খুপড়ি বা হেস থাকে। যেখানে ৩/৪শ টন পর্যন্ত মাল বহন করা যায়। প্লেনশীট আসে চট্রগ্রাম থেকে। বিদেশী কাটা জাহাজের ৮ থেকে ১২ মিলির শীট ব্যবহার করা হয় জাহার তৈরীতে। ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে শীট কিনতে হয়।
আর লোহার অঙ্গেল ৭৫/৭৬ টাকায় পাওয়া যায় স্থানীয় বাজারে। ৮/৯ লাখ টাকায় জাহাজের মেশিন আমদানী করা হয় চীন থেকে আর অন্যান্য মালামাল আছে ঢাকার বংশালে অথবা চট্রগ্রামের ভাটিয়ারীতে। সময় ও অবস্থাবেধে উপাদানের মূল্যেরও হেরফের হয়। সর্বসাকুল্যে একটি বড় জাহাজ তৈরীতে ৯/১০ কোটি টাকা খরচা হয়। এরপর মালিকরা সুবিধে মতো লাভ করে তা বিক্রি করেন। একটি জাহাজ ২০/২৫জন কারিগর মিলে তৈরী করলে সময় লাগে ১২ থেকে ১৫ মাস।
কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে।
এখন আর আগের মত মানুষ জাহাজ বানায় না। তাই খুব একটা ভালো নেই এর নির্মাণ শ্রমিকরা। সকলের সাথেই কথা বলে পাওয়া গেলো হতাশার সুর। লোহার মতো শক্ত সামর্থ্য শরীর তাদের। কিন্তু তাদের ঘরের খুটি অত্যন্ত দূর্বল নড়বড়ে। জীবন জিবিকা আর বাসস্থানের মান নগন্য।
ফিটার আমির, মোজ্জামেল, মোক্তার, জয়নাল ওয়েল্ডার পান্নু, আলমাছ আনোয়ারসহ আরো অনেকে জানান, হিসেব কষে খেয়ে দেয়ে বাকি টাকাটুকু তুলে রাখেন পরিবার পরিজনদের জন্য। তারা বলেন কাজের তুলনায় বেতন অনেক কম তারপরও করার কিছু নেই। এই কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজ তারা শিখেননি। এটাই করতে হবে তাদের। আর জাহাজের মালিক রেবেকা সুলতানা, আমির খান, আনোয়ার হোসেন, কামাল, মাহফুজ, নুরুল হক বজুরী, আব্দুল মজিদ কৃষ্ণ গোপাল সরকারসহ আরো অনেকে বলেন, রোজ হাজিরা, মালামাল কেনা , বিদ্যু বিল আর জমির ভাড়া এগুলোর ভেতর লুকিয়ে থাকে জাহাজের লাভ লোকসানের ব্যাপার।
এ কারনে হিসেব কষে সকলকে টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া মালামালের দাম যে হারে বাড়ছে জাহাজের দাম কিন্তু আগের তুলনায় বাড়েনি।