
চঞ্চল,
শনিবার (২৮ মার্চ) মধ্যরাতে লালমনিরহাটের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপদ। মুহূর্তের তান্ডবে জেলার পাঁচ উপজেলার কয়েকশ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে তীব্র শিলাবৃষ্টিতে বসতবাড়ির টিনের চালা ফুটো হয়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শতাধিক পরিবার।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আদিতমারী, কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধা উপজেলা। ঝড়ের ঝাপটায় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ায় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চন্ডিমারী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত শহিদুল ইসলাম জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে। ঝড়ের সময় তাঁর বৃদ্ধ মা চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে অনেক পরিবার তাদের বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর খোলা আকাশে রাত কাটাচ্ছেন।
কালীগঞ্জের কাকিনা ইউনিয়নের কৃষক রমাকান্ত রায়ের মতো শত শত কৃষকের স্বপ্ন এখন ধুলোয় মিশে গেছে। মাঠের পর মাঠ তামাক ও ভুট্টা ক্ষেত মাটির সাথে মিশে যাওয়ায় ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, গাছ ও ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ায় জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যার ফলে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আক্তার জাহান জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলেই সরকারিভাবে জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হবে।”
প্রলয়ংকরী এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
























