নুর মোহাম্মদ
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার এলজিইডি উপ সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ঘুষ বাণিজ্যে ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকার সংবাদ দৈনিক আজকের বাংলায় প্রকাশিত হলে আমলে নিয়ে তাকে শাস্তিমুলক বদলী করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় বদলি করার সংবাদটি বদলি আদেশ সুত্রে জানাগেছে।
গোপন সুত্রে জানাগেছে বদলী ঠেকাতে ওই কর্মকর্তা দালালদের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রামু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাস্তবায়িত সরকারি কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজন প্রীতিসহ খায়রুল আলমের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ।
স্থানীয় ঠিকাদার বিগত সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে স্বৈরাচার সরকারের সাংসদ কক্সবাজার সদর – রামু – ঈদগাও -৩ আসনের সাবেক এমপি ও প্রভাবশালী বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে রাস্তা- ব্রীজ- কালভার্ট ও নদী খননসহ উন্নয়নমূলক কাজ সঠিক ভাবে সমাপ্ত না করে রামু এবং কক্সবাজারের ঠিকাদারদের সাথে আতাত করে লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঘুষের টাকা না দিলে প্রকল্পের কাজে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিতেন বলে খায়রুল।
স্থানীয় ঠিকাদার সুত্রে জানা গেছে ঈদগাহ – ঈদগড় সড়ক, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের নন্দখালী – পিএমখালী সংযোগ সড়কের ৩৬ কোটি টাকার সেতু, রামু কলেজ গেইট টু মাজহারুল উলুম মাদ্রাসা সড়ক, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা রাজারকুল সড়ক- গর্জনিয়া ও বাইশারী সড়কে ব্যাপক অনিয়ম ও পুকুর চুরি করে সমাপ্ত করা হয়েছে।
ওই সড়কের দেখাশুনার দায়িত্ব পালন করেন উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল আলম, কাজের অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ থেকে লক্ষ- লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল আলমসহ এলজিইডি কার্যালয়ের কয়েক জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সরকারি ভাবে দুই বছরের অধিক কোন কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে থাকতে পারে না মর্মে সরকারী ভাবে প্রজ্ঞাপন থাকলে ও তাহা মানা হচ্ছে না।
উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল আলম- দীর্ঘদিন রামু এলজিইডিতে দায়িত্ব পালন করে- পরবর্তীতে টেকনাফ উপজেলায় বদলী করা হয়েছিল। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের ঘুষ প্রদান করে পুনরায় রামুতে বদলি হয়ে আসেন। রামুতে আসার পর থেকে খায়রুল আলম ও তার সহকর্মীরা মিলে সাবেক সংসদের ইশারায় দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা- রাজারকুল সড়ক ও গর্জনিয়া বাইশারী সড়কে ব্যাপক অনিয়ম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিডিউল অনুয়ায়ী কাজ না করে এলজিইডি কর্মকর্তারা স্থানীয় ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান- মেম্বার দের বিভিন্ন প্রকল্পের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করতো। বর্তমানে তাদের সহায় সম্পদের বিবরণী তদন্ত করলে তলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।
স্থানীয় সচেতন মহল উক্ত উল্লেখিত কাজের মান যাচাই বাছাইসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী খাইরুল আলমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য এলাকার সচেতন -ছাত্র জনতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।
এব্যপারে রামু উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী খাইরুল আলম’র কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান -উল্লেখিত সড়কে এ ধরনের কোন অনিয়ম ও দূর্ণীতি হয়নি বলে জানান।
ঠিকাদার’র সুত্রে জানাগেছে ২৬ শে মার্চ- ১৫ ই আগষ্ট- ১৬ই ডিসেম্বর এবং বিভিন্ন সময়ে মিটিং এর নাম ভাংগিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫% করে চাঁদা টাকা আদায়ের ক্যাসিয়ার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। খাইরুল আলম- টাকা না দিলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পেঠুয়া বাহিনী দিয়ে ঠিকাদারদের লাঞ্ছিত করা হতো।
এলজিইডি কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন
খাঁনের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান- তার বদলির অর্ডার হয়েছে সবেমাত্র। তিনি কয়েকদিনের মধ্যে তার কর্মস্থলে যোগদান করবে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে সেই লক্ষ টাকার মিশনের নেমেছে বদলি ঠেকানোর জন্য আসলেই এগুলো কোনইভাবে সম্ভব না।

























