
ফারহান ইসলাম, হিলি, পাঁচবিবি প্রতিনিধি:
উত্তরের জেলা দিনাজপুরের হিলিতে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতের প্রকোপ কমেনি। ভোর ও রাতের দিকে ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর ঠান্ডা অনুভূতির কারণে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। বিশেষ করে দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বেড়েছে কষ্ট।
হিলির ও পাঁচবিবির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন গুলো হেড লাইট দিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করছে। কাজে বের হতে দেরি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের। অনেকেই শীতের কারণে সময়মতো কাজে যেতে পারছেন না, ফলে দৈনিক আয়ে প্রভাব পড়ছে। শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষজন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভ্যানচালক এরশাদ আলী বলেন, দিনে একটু গরম লাগলেও সকাল আর রাতে খুব ঠান্ডা লাগে। ঠান্ডায় হাত-পা শক্ত হয়ে যায়, ঠিকমতো ভ্যান চালানো যায় না আয়ও কমে গেছে। আগে সারাদিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা ইনকাম হলে বর্তমানে কমে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ইনকাম হচ্ছে।
দিনমজুর রফিক মোল্লা বলেন, কাজ না করলে খাওন নাই। ন্ঠান্ডার কারণে কাজ পাওয়া কমে গেছে, শরীরও ঠিক থাকছে না। সময় মতো কাজে যেতে পারি না এজন্য আমরা সবসময় কাজ পায় না।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রিমন হোসেন বলেন, প্রচুর শীতের কারণে সকালে আমরা সময় মতো মাদ্রাসায় যেতে পারছিনা এতে পড়াশোনা বিলম্ব হচ্ছে। ঠান্ডার কারণে কলম দিয়ে লিখতে হাত কাপে। ঠান্ডায় হাত পা কাজ করে না। নাক দিয়ে পানি পড়ে।
হিলির মাঠপাড়া এলাকার কৃষকরা বলেন, শীতের প্রভাবে কৃষি খাতেও দেখা দিচ্ছে উদ্বেগ। বোরো ধানের বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেতে কুয়াশার প্রভাব পড়ছে। পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়ায় গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।
হিলিতে সামাজিকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের কিছু উদ্যোগ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিম্ন আয়ের মানুষজন দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ও সহায়তা চান।
আবহাওয়া অধিদপ্তর দিনাজপুরের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চলমান শৈত্যপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জেলায় চূড়ান্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে বাতাসের আর্দ্রতা সকাল ৬টায় ছিল ৮২ শতাংশ এবং সকাল ৯টায় ৭০ শতাংশ। গত ৪ জানুয়ারি রাত থেকে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহটি ১২ জানুয়ারি রাত থেকে প্রশমিত হতে শুরু করেছে।

























