Dhaka , Sunday, 29 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রাজাপুরে ঢাকা-চট্টগ্রামগামী বাসে বাড়তি ভাড়া, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ঝালকাঠিতে গাবখান নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ শয়ন কক্ষে মদের আস্তানা, ৩৯ বোতল বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরের জাজিরায় জমি বিরোধে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা পাইকগাছায় জমি বিরোধের ইতি; মালিকের হাতে ফিরলো দখল মধ্যরাতের কালবৈশাখীতে লন্ডভণ্ড লালমনিরহাট: শিলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন টিনের চালা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ভাড়া ১৫০ টাকা বেশি নেয়ায় জরিমানা ৫০ হাজার টাকা     কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারীতে ইয়াবা সহ মাদক কারবারি গ্রেফতার সাংবাদিকদের কল্যাণে নতুন নতুন উদ্যোগের পরিকল্পনা করছে সরকার:- বাছির জামাল খুলেই বন্ধ হিলি স্থলবন্দর কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যুতে থমকে আমদানি-রপ্তানি শ্রীপুরে অবৈধভাবে মজুদ রাখা জ্বালানি তেল জব্দ, বিক্রিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা বিদেশ গমন উপলক্ষে ছাত্রনেতা রিয়াদ ইসলামকে সংবর্ধনা আড়াইহাজারে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদকবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ নারায়ণগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীর আত্মহত্যা ইবি শিক্ষক ড. সাইফুল ইসলামের শিক্ষা ও গবেষণায় গৌরবময় ৩৫ বছর লালমনিরহাটকে ‘আলোকিত জেলা’ গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী দুলু কলা গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা! মোংলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম একই পরিবারের ৪জনের মৃত্যু…..সড়কে নিভে গেল মাদরাসা শিক্ষকের সুখের সংসার সৌদিতে স্ট্রোক করে বাংলাদেশির মৃত্যু   গাকৃবিতে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন তুরাগ তীরে পুণ্যস্নানের মহামিলন সরাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালিত যথাযোগ্য মর্যাদায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বিভাগীয় কমিশনার স্বাধীনতা দিবসে বিপ্লব উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে ডা. শাহাদাত হোসেন শহিদ জিয়ার ঘোষণা ও নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি মুক্তির লড়াই শুরু করেছিল: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল শহীদ জামালের কন্যার বিয়েতে ও ঢাবিতে উত্তীর্ণ জপেল চাকমাকে শুভেচ্ছা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রূপগঞ্জে ভূমিদস্যু আন্ডা রফিক এলাকায় ফেরায় কায়েতপাড়ায় আতঙ্ক রূপগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

ঠাকুরগাঁওয়ে দিনে ৪ বিয়ে বিচ্ছেদ- এগিয়ে নারীরা।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:14:45 pm, Wednesday, 2 October 2024
  • 122 বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে দিনে ৪ বিয়ে বিচ্ছেদ- এগিয়ে নারীরা।।

জসীমউদ্দীন ইতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

   

কোনো দম্পতির বিয়ের বয়স ছয় মাস- কারও দুবছর- আবার কারও পাঁচ বছর পেরিয়েছে। অনেকের বিয়ের বয়স এক দশক পেরিয়ে হয়েছেন দুই-এক সন্তানের অভিভাবক। স্বামী-স্ত্রীর এমন দীর্ঘদিনের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে নিমিষেই। কয়েক বছর আগেও বিয়ে বিচ্ছেদের এমন ঘটনা ঠাকুরগাঁওয়ে কম শোনা গেলেও বর্তমানে বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিদিন গড়ে বিয়ে বিচ্ছেদ হচ্ছে চারটি করে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক- সংসারে বনিবনা না হওয়া- যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের কারণে দিন দিন বেড়ে চলছে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা।

জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গত ৮ মাসে জেলায় বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে ১১শ। এর মধ্যে নারীর মাধ্যমে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬০০টি, ছেলের মাধ্যমে হয়েছে ৩০০টি আর পারিবারিকভাবে হয়েছে ২০০টি।

স্থানীয় সমাজকর্মী আবু মহিউদ্দিন বলেন, বিয়ে বিচ্ছেদ সমাজে একটি ব্যাধির মতো হয়ে গেছে। বিয়ে বিচ্ছেদ প্রতিকারের জন্য সচেতনতা জরুরি। বর্তমান সমাজে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণেই বেশিরভাগ সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে। একটি পরিবারের সুন্দর সম্পর্কের যে প্রয়োজনীয়তা এসব নিয়ে সমাজের সবাইকে সচেতন করা দরকার। বিয়ে বিচ্ছেদ কমানোর জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিয়ে বিচ্ছেদ অনেক বেড়ে গিয়েছে। বিয়ে বিচ্ছেদ বা তালাকের জন্য অনেকগুলো কারণ থাকে। আমি গত ১ মাসে যতগুলো তালাক করেছি বেশিরভাগই মেয়েপক্ষ থেকে হয়েছে। ছেলেপক্ষ থেকে বা উভয়পক্ষ থেকে তালাক খুবই কম। আর মেয়েপক্ষ থেকে বিচ্ছেদের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক- সংসারে বনিবনা না হওয়া ও যৌতুকের জন্য নির্যাতন প্রধান কারণ। আমরা চেষ্টা করি একটি বিচ্ছেদের আগে যেন কোনোভাবে সেটাকে আটকানো যায়, কিন্তু তারপরও তা সম্ভব হয় না। আর একটি বিচ্ছেদের জন্য অনেকগুলো মানুষকে সেটার কুফল ভোগ করতে হয়।

ঠাকুরগাঁও শহরের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিয়ে করেছি প্রায় ৪০ বছর। স্ত্রী আর আমি দুজন মিলে বিয়ের এতদিন পার করলাম। সংসারে অনেক ঝগড়া-বিবাদ হয়। আমরা সেগুলো নিজেদের মধ্যো আলোচনা করে ঠিক করে নেই। কিন্তু কোনো দিনও বিচ্ছেদ হবে এমনটা আমরা চিন্তাও করিনি। আমাদের সন্তানদেরও একই শিক্ষা দিয়েছি।

ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন- পরিবারে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করবে। কিন্তু এখন দেখা যায়, সামান্য সমস্যা হলেই ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। আমাদের পরিবারের বাঁধনগুলো এখন খুবই দুর্বল। তাই আমাদের সবার প্রয়োজন পরিবারের যে গুরুত্ব এটা বোঝা এবং সবাইকে এ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন- আদালতে এখন যতগুলো বিচ্ছেদের জন্য আসে তার মধ্যে মেয়েপক্ষ থেকে বেশি আসে। সংসারে স্বামী-স্ত্রী মিল না হওয়ার কারণেই তালাক হচ্ছে। তবে আমি মনে করি- সংসার জীবনে সমস্যাগুলো সমাধান করে একে অপরের ভুলত্রুটি মেনে নিয়ে চলাই জীবন।

জেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক সাধারণত তিন প্রকার। ছেলেপক্ষ থেকে তালাক- মেয়েপক্ষ থেকে তালাক ও উভয়পক্ষ থেকে তালাক। এ বছর মেয়েপক্ষ থেকে তালাক বেশি হয়েছে। পারিবারিকভাবে তালাকের সংখ্যা খুবই কম।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজাপুরে ঢাকা-চট্টগ্রামগামী বাসে বাড়তি ভাড়া, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঠাকুরগাঁওয়ে দিনে ৪ বিয়ে বিচ্ছেদ- এগিয়ে নারীরা।।

আপডেট সময় : 03:14:45 pm, Wednesday, 2 October 2024

জসীমউদ্দীন ইতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

   

কোনো দম্পতির বিয়ের বয়স ছয় মাস- কারও দুবছর- আবার কারও পাঁচ বছর পেরিয়েছে। অনেকের বিয়ের বয়স এক দশক পেরিয়ে হয়েছেন দুই-এক সন্তানের অভিভাবক। স্বামী-স্ত্রীর এমন দীর্ঘদিনের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে নিমিষেই। কয়েক বছর আগেও বিয়ে বিচ্ছেদের এমন ঘটনা ঠাকুরগাঁওয়ে কম শোনা গেলেও বর্তমানে বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিদিন গড়ে বিয়ে বিচ্ছেদ হচ্ছে চারটি করে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক- সংসারে বনিবনা না হওয়া- যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের কারণে দিন দিন বেড়ে চলছে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা।

জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গত ৮ মাসে জেলায় বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে ১১শ। এর মধ্যে নারীর মাধ্যমে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬০০টি, ছেলের মাধ্যমে হয়েছে ৩০০টি আর পারিবারিকভাবে হয়েছে ২০০টি।

স্থানীয় সমাজকর্মী আবু মহিউদ্দিন বলেন, বিয়ে বিচ্ছেদ সমাজে একটি ব্যাধির মতো হয়ে গেছে। বিয়ে বিচ্ছেদ প্রতিকারের জন্য সচেতনতা জরুরি। বর্তমান সমাজে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণেই বেশিরভাগ সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে। একটি পরিবারের সুন্দর সম্পর্কের যে প্রয়োজনীয়তা এসব নিয়ে সমাজের সবাইকে সচেতন করা দরকার। বিয়ে বিচ্ছেদ কমানোর জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিয়ে বিচ্ছেদ অনেক বেড়ে গিয়েছে। বিয়ে বিচ্ছেদ বা তালাকের জন্য অনেকগুলো কারণ থাকে। আমি গত ১ মাসে যতগুলো তালাক করেছি বেশিরভাগই মেয়েপক্ষ থেকে হয়েছে। ছেলেপক্ষ থেকে বা উভয়পক্ষ থেকে তালাক খুবই কম। আর মেয়েপক্ষ থেকে বিচ্ছেদের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক- সংসারে বনিবনা না হওয়া ও যৌতুকের জন্য নির্যাতন প্রধান কারণ। আমরা চেষ্টা করি একটি বিচ্ছেদের আগে যেন কোনোভাবে সেটাকে আটকানো যায়, কিন্তু তারপরও তা সম্ভব হয় না। আর একটি বিচ্ছেদের জন্য অনেকগুলো মানুষকে সেটার কুফল ভোগ করতে হয়।

ঠাকুরগাঁও শহরের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিয়ে করেছি প্রায় ৪০ বছর। স্ত্রী আর আমি দুজন মিলে বিয়ের এতদিন পার করলাম। সংসারে অনেক ঝগড়া-বিবাদ হয়। আমরা সেগুলো নিজেদের মধ্যো আলোচনা করে ঠিক করে নেই। কিন্তু কোনো দিনও বিচ্ছেদ হবে এমনটা আমরা চিন্তাও করিনি। আমাদের সন্তানদেরও একই শিক্ষা দিয়েছি।

ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন- পরিবারে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করবে। কিন্তু এখন দেখা যায়, সামান্য সমস্যা হলেই ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। আমাদের পরিবারের বাঁধনগুলো এখন খুবই দুর্বল। তাই আমাদের সবার প্রয়োজন পরিবারের যে গুরুত্ব এটা বোঝা এবং সবাইকে এ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন- আদালতে এখন যতগুলো বিচ্ছেদের জন্য আসে তার মধ্যে মেয়েপক্ষ থেকে বেশি আসে। সংসারে স্বামী-স্ত্রী মিল না হওয়ার কারণেই তালাক হচ্ছে। তবে আমি মনে করি- সংসার জীবনে সমস্যাগুলো সমাধান করে একে অপরের ভুলত্রুটি মেনে নিয়ে চলাই জীবন।

জেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক সাধারণত তিন প্রকার। ছেলেপক্ষ থেকে তালাক- মেয়েপক্ষ থেকে তালাক ও উভয়পক্ষ থেকে তালাক। এ বছর মেয়েপক্ষ থেকে তালাক বেশি হয়েছে। পারিবারিকভাবে তালাকের সংখ্যা খুবই কম।