Dhaka , Saturday, 22 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মধুপুরে জমি আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন রূপগঞ্জে অসহায় নারীদের মাঝে ৭০টি সেলাই মেশিন, নগদ অর্থ ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ ভোটে জয়শ্রী ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি, সভাপতি জাহাঙ্গীর রানা সম্পাদক সাইফুল শেখ হাসিনা ‘টেররিস্ট’, দেড় হাজার মানুষ হত্যার পর ভারতে পালিয়েছেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির সেলবরষ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামীর নতুন কমিটি গঠন সমাজসেবক ও শিক্ষা অনুরাগী আব্দুল লতিফ খসরু আর আমাদের মাঝে নেই ড. মঈন খানের মন্ত্রীত্বে পলাশে উৎসব, আনন্দে মিষ্টি বিতরণ কোলের শিশুকে নদীতে ফেলে মাকে ধর্ষণ করে হত্যার আসামী গ্রেফতার। নোয়াখালীতে আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ১২   মোটরসাইকেল যোগে ইয়াবা পাচার কালে রামুতে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ লোহাগড়ার মো. জসিম ও মো. আলমগীর আটক কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মতবিনিময় সভা পাইকগাছা চৌকি আদালতে ফ্রেন্ডশিপ অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন রূপগঞ্জে ছাদবাগান ও নার্সারির বিস্তারে নীরব বিপ্লব ঘটছে \ ব্যবসা সফল পাইকগাছা-কয়রার মানুষের সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য: বাপ্পি রূপগঞ্জে আরাফাত ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা ও পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ গোলাপগঞ্জে সাংবাদিক খালেদকে হেনস্তা ও হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন রায়পুরে জিপিএ প্রাপ্ত ৭০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা লাউফুলা হাটের জায়গা থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ সড়ক দুর্ঘটনায় প্যারালাইজড মন্টু মোল্লার পাশে এডুব্রিজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ জানুয়ারিতে ঢাবির সমাবর্তন, প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ উপাচার্যের শেষ হলো বহুল প্রতীক্ষিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন মুরগি চুরির অপবাদে প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১ কাউখালীতে টহল শেষে ফেরার পথে নৌ পুলিশের ওপর হামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার বিয়ের প্রলোভনে লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে নৌকায় নিয়ে ধর্ষণ “চলো যাই যুদ্ধে,, মাদকের বিরুদ্ধে” রামগঞ্জে র‍্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ এলাকায় টেক্সি-মাইক্রো স্ট্যান্ড স্থাপনের প্রতিবাদে স্মারকলিপি গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছড়িয়ে দিতে লালমনিরহাটে বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ইউএসটিসিতে আপসাইক্লিং ও সার্কুলার ইকোনমি নিয়ে TriRE-এর হাতে-কলমে কর্মশালা বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৫৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী

সুন্দরগঞ্জে বিশুদ্ধ পানি চিকিৎসা সেবা ও পশুখাদ্য সংকটে বানভাসিরা।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:49:50 pm, Friday, 5 July 2024
  • 131 বার পড়া হয়েছে

সুন্দরগঞ্জে বিশুদ্ধ পানি চিকিৎসা সেবা ও পশুখাদ্য সংকটে বানভাসিরা।।

হযরত বেল্লাল
সুন্দরগঞ্জ -গাইবান্ধা- প্রতিনিধি।।
সুন্দরগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের পানিবন্ধি পরিবারের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।  বানভাসিদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, যোগাযোগ ব্যবস্থা-চিকিৎসা সেবা ও পশু খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে এ পর্যন্ত পানিবন্ধি পরিবারের জন্য বরাদ্দ মিলেছে ৩০ মেট্রিকটন চাল ও  ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবার। পানিবন্ধি পরিবারগুলো ইতিমধ্যে উচু স্থানে-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে-পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। গৃহপালিত পশুপাখি-বৃদ্ধ-বৃদ্ধা-শিশু ও প্রসুতি নারীদের নিয়ে নিদারুন কষ্টে রয়েছে চরবাসি।  পানি বাড়ায় চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া এক চর হতে অন্য চরে যাওয়া আসা করা সম্ভব হচ্ছে না। 
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর-বেলকা- হরিপুর-চন্ডিপুর-শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকালেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সবগুলো চর ডুবে গিয়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে চরের সবগুলো ফসলের ক্ষেত ডুবে গেছে। বন্যা আসলে তিস্তার শাখা নদীর আশপাশ ডুবে যায় পানিতে। বন্যা আসলেই শুরু হয় নদী ভাঙন। চলতে থাকে বছর ব্যাপী।  নদী পাড়ের মানুষের দাবি- স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ দিনেও স্থায়ী ভাবে নদী ভাঙন রোধ- ড্রেজিং- নদী খনন- ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করেনি সরকার। যার কারনে প্রতি বছর পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি- হাজারও একর ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে।
           
কাপাসিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত থাকলেও বানভাসিদের কষ্ট বেড়েছে। সরকারি ভাবে যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা একেবারেই অপ্রতুল। অনেকে ঘরের টুইয়ের মধ্যে বসবাস করছে। চরের মানুষ বিশেষ করে গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছে।
হরিপুর ইউনিয়নের মঞ্জু মিয়া বলেন, পানি বাড়ার সাথে সাথে চরের মানুষ কষ্ট বাড়তে শুরু করে। হরিপুর ইউনিয়নের কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ পানিবান্ধ হয়ে পড়েছে। গোটা চরাঞ্চল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার চরমভাবে বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্ধি বেশিভাগ পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে এখনও  বসতবাড়ি ছেড়ে যায়নি। ঘরের চকির উপর এবং টুইয়ের মধ্যে বসবাস করছে। 
 হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম জানান- পানি বাড়ায় তার গোটা ইউনিয়ন প্রায় ডুবে গেছে। উপজেলা নিবার্হী অফিসার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বন্যা দুর্গত মানুষের তালিকা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা অপ্রতুল। বানভাসি মানুষের বিশুদ্ধ পানি, গো-খাদ্য, চিকিৎসা সেবার অভাব দেখা দিয়েছে। 
         
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মন্ডল জানান- বন্যা কবলিত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের তর্থ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে ৪ হাজার ৯০০ পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ পরিবার উচু স্থান- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- বাঁধে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে চলে গেছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে ৩০ মেট্রিকটন চাল ও ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। 
 উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সার্বক্ষনিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হয়েছে। স্থানীয় ভাবে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বানভাসিদের মাঝে সরকারি বরাদ্দ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুরে জমি আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন

সুন্দরগঞ্জে বিশুদ্ধ পানি চিকিৎসা সেবা ও পশুখাদ্য সংকটে বানভাসিরা।।

আপডেট সময় : 02:49:50 pm, Friday, 5 July 2024
হযরত বেল্লাল
সুন্দরগঞ্জ -গাইবান্ধা- প্রতিনিধি।।
সুন্দরগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের পানিবন্ধি পরিবারের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।  বানভাসিদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, যোগাযোগ ব্যবস্থা-চিকিৎসা সেবা ও পশু খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে এ পর্যন্ত পানিবন্ধি পরিবারের জন্য বরাদ্দ মিলেছে ৩০ মেট্রিকটন চাল ও  ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবার। পানিবন্ধি পরিবারগুলো ইতিমধ্যে উচু স্থানে-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে-পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। গৃহপালিত পশুপাখি-বৃদ্ধ-বৃদ্ধা-শিশু ও প্রসুতি নারীদের নিয়ে নিদারুন কষ্টে রয়েছে চরবাসি।  পানি বাড়ায় চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া এক চর হতে অন্য চরে যাওয়া আসা করা সম্ভব হচ্ছে না। 
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর-বেলকা- হরিপুর-চন্ডিপুর-শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকালেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সবগুলো চর ডুবে গিয়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে চরের সবগুলো ফসলের ক্ষেত ডুবে গেছে। বন্যা আসলে তিস্তার শাখা নদীর আশপাশ ডুবে যায় পানিতে। বন্যা আসলেই শুরু হয় নদী ভাঙন। চলতে থাকে বছর ব্যাপী।  নদী পাড়ের মানুষের দাবি- স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ দিনেও স্থায়ী ভাবে নদী ভাঙন রোধ- ড্রেজিং- নদী খনন- ও সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করেনি সরকার। যার কারনে প্রতি বছর পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি- হাজারও একর ফসলি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে।
           
কাপাসিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত থাকলেও বানভাসিদের কষ্ট বেড়েছে। সরকারি ভাবে যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা একেবারেই অপ্রতুল। অনেকে ঘরের টুইয়ের মধ্যে বসবাস করছে। চরের মানুষ বিশেষ করে গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছে।
হরিপুর ইউনিয়নের মঞ্জু মিয়া বলেন, পানি বাড়ার সাথে সাথে চরের মানুষ কষ্ট বাড়তে শুরু করে। হরিপুর ইউনিয়নের কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ পানিবান্ধ হয়ে পড়েছে। গোটা চরাঞ্চল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার চরমভাবে বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্ধি বেশিভাগ পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে এখনও  বসতবাড়ি ছেড়ে যায়নি। ঘরের চকির উপর এবং টুইয়ের মধ্যে বসবাস করছে। 
 হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম জানান- পানি বাড়ায় তার গোটা ইউনিয়ন প্রায় ডুবে গেছে। উপজেলা নিবার্হী অফিসার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বন্যা দুর্গত মানুষের তালিকা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা অপ্রতুল। বানভাসি মানুষের বিশুদ্ধ পানি, গো-খাদ্য, চিকিৎসা সেবার অভাব দেখা দিয়েছে। 
         
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মন্ডল জানান- বন্যা কবলিত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের তর্থ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে ৪ হাজার ৯০০ পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ পরিবার উচু স্থান- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- বাঁধে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে চলে গেছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে ৩০ মেট্রিকটন চাল ও ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। 
 উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সার্বক্ষনিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হয়েছে। স্থানীয় ভাবে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বানভাসিদের মাঝে সরকারি বরাদ্দ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।