Dhaka , Tuesday, 20 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
বিএনপি সরকারের আমলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে আছে: প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর এমপি রূপগঞ্জে তারাব পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থীর পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন মধুপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বৃদ্ধের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জাজিরায় নবনির্মিত পৌরভবনের শুভ উদ্বোধন করলেন এমপি সাঈদ আসলাম ইতিহাসের সাক্ষী রক্ষিত বাড়ির ২৯১তম শারদীয় দুর্গাপুজা সিলেটে শর্ত ভেঙ্গে খেলার মাঠে মেলা, ভোগান্তিতে নগরবাসী চাকরি না পেয়ে উদ্যোক্তা জেমি: কর্মসংস্থান ১০০ নারীর রূপগঞ্জে রিপন হত্যার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ পরিবারসহ দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে বাবুছড়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক। দুর্গাপুরে সম্প্রীতির উদাহরণ: ২২ পূজামণ্ডপে জামাল উদ্দিন মাস্টারের আর্থিক সহায়তা সোনারগাঁয়ে ১,৫০০ পরিবারের মাঝে শাড়ি বিতরণ করলেন অমল পোদ্দার কালিয়াকৈরে বোয়ালীতে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবর রহমান পাইকগাছায় ৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার; আটক ২ নবাগত সিভিল সার্জনকে পাইকগাছা স্বাস্থ্য বিভাগের শুভেচ্ছা শারদীয় দুর্গোৎসবে পাইকগাছার ৬ মন্দিরে পৌরসভার আর্থিক সহায়তা জামায়াত ১৮কোটি মানুষের জন্য কাজ করেনা : এমপি খোকন তালুকদার নজর কাড়লেন সেমন্তী ‘বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটে সবচেয়ে ট্যালেন্টেড দল’ আর আস্থা নেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর, বিকল্প যেসব দেশকে বন্ধু ভাবছেন নেতানিয়াহু এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত চলতি মাসেই আসবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর ইশরাকের মতো ত্যাগীদের পদত্যাগ হয়, আর হাইব্রিডরা বিএনপির ক্ষতি করলেও টু শব্দ হয় না: জুমা মঙ্গলবার রাজশাহীতে যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধিরগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত-রেন্টভুক্ত ৫ আসামি গ্রেপ্তার মধুপুরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করলেন আইসিটি মন্ত্রী চরভদ্রাসনে পূজামণ্ডপে শাড়ি ও ১০ হাজার টাকা দিলেন এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম: চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পাইকগাছায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৫১ নারীর মাঝে শাড়ি বিতরণ রূপগঞ্জে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা\ছাত্র গ্রেফতার ‎৩০ কোটি টাকার সেতু দুটিতে নেই সংযোগ সড়ক, দুই বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে গাইবান্ধাবাসী সংখ্যালঘু বলতে কোন শব্দ নেই, প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর

লালমনিরহাটে হাসাহাসির মতো তুচ্ছ ঘটনার জেরে সংঘর্ষ, আহত ৫

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 11:36:47 am, Saturday, 8 March 2025
  • 179 বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটে হাসাহাসির মতো তুচ্ছ ঘটনার জেরে সংঘর্ষ, আহত ৫

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি 

  

লালমনিরহাটে হাসাহাসির মত একটি তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে  ৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সালাম “৪০”, তার ছেলে সেজান ও সেজানের বন্ধু রোহান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে “রমেক” চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে  ছুরিকাঘাতে আহত সেজানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

৭ মার্চ “শুক্রবার” সন্ধ্যায় পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড “ডায়াবেটিক হাসপাতাল” এর পাশে সংঘর্ষের ওই ঘটনায় চারজনকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরনবী।

অপর ২ জন আহত ব্যক্তিরা হলেন- সেজানের মা ও সালামের স্ত্রী বিলকিছ ও সালামের বোন। তবে তারা হালকা আঘাত পাওয়ায় বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

আটককৃতরা হলেন- জিয়া “২১”, সজীব”২৫”, শাহিন “২৭” ও সৈকত”২০”। তারা সকলেই দক্ষিণ খোর্দ্দ সাপটানা “ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন” এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে।

এলাকাবাসী ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনরা জানান, ৭ মার্চ “শুক্রবার” জুম্মার নামাজের পর সেজান এবং রোহান শাহিনকে দেখে হাসাহাসি করেন। ফলে শাহিন ও সেজানের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সে সময় মসজিদের মুসল্লিরা তাদেরকে শান্ত করে সন্ধ্যায় মীমাংসার প্রস্তাব দেন। পরে সন্ধ্যার দিকে শফিকুলের নির্দেশ পেয়ে জিয়া,সজীব, শাহিন ও সৈকতসহ ৭-৮ জন সালাম, সেজান ও রোহানের উপর ছুরি দিয়ে হামলা চালায় ও আঘাত করে। ওই সময় সালামের স্ত্রী বিলকিস ও সালামের বোন তাদেরকে বাঁচাতে গেলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। এরপর এলাকাবাসীরা আহতদের লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে রমেকে রেফার করেন। তারা এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। খবর পেয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরনবী’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উল্লিখিত ৪ জনকে জনতার হাত থেকে বাঁচান ও তাদেরকে আটক করে থানায় পাঠিয়ে দেন। গুরুতর আহত সেজান মারা গেছেন এই খবর পেয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্দ হয়ে শাহিন ও তার বন্ধু আলামিনের বাসায় ভাঙচুর চালান। তবে সদর থানার ওসি’র সাহসী হস্তক্ষেপে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরে ওসি’র নির্দেশে পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে রাতে সেনবাহিনী সদস্যরা সেখানে এসে এলাকাবাসীকে তাদের বাসায় পাঠিয়ে দেন।

ওই ঘটনায় শফিকুলসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে সদর থানায়  একটি মামলা দায়ের করা হয়।  

স্থানীয়দের অভিযোগ, শফিকুল সুদের বিনিময়ে মানুষকে টাকা ধার হিসেবে দেন। শফিকুল ও তার ছেলেরা বিগত আঃ লীগ সরকারের সময় এলাকায় বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করে ও এলাকাবাসীকে নানাভাবে হয়রানি করেন। এলাকার কিছু মানুষের নামে একটি মিথ্যা মামলাও করেন শফিকুল।

সেজানের মা বিলকিস বলেন, “ছেলে ও স্বামীর জন্য দোয়া করবেন। ছেলের বন্ধু রোহানের মা নেই। সে আমার ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও আঘাত পায়। আমি দোষীদের কঠিন শাস্তির দাবি জানাই।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদর থানার ওসি মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, “ দুপুরে জুম্মার নামাজের পরে হাসাহাসির মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। সন্ধ্যায় ছুরি দিয়ে ২ জনকে আঘাত করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। এলাকাবাসী অভিযোগ করায় আমরা ৪ জনকে আটক করি। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর করে। আমরা তাদেরকে নিভৃত করতে সক্ষম হই। আমি রংপুরে কথা বলেছি কেউ মারা যাননি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকারের আমলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে আছে: প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর এমপি

লালমনিরহাটে হাসাহাসির মতো তুচ্ছ ঘটনার জেরে সংঘর্ষ, আহত ৫

আপডেট সময় : 11:36:47 am, Saturday, 8 March 2025

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল, বিশেষ প্রতিনিধি 

  

লালমনিরহাটে হাসাহাসির মত একটি তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে  ৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সালাম “৪০”, তার ছেলে সেজান ও সেজানের বন্ধু রোহান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে “রমেক” চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে  ছুরিকাঘাতে আহত সেজানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

৭ মার্চ “শুক্রবার” সন্ধ্যায় পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড “ডায়াবেটিক হাসপাতাল” এর পাশে সংঘর্ষের ওই ঘটনায় চারজনকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরনবী।

অপর ২ জন আহত ব্যক্তিরা হলেন- সেজানের মা ও সালামের স্ত্রী বিলকিছ ও সালামের বোন। তবে তারা হালকা আঘাত পাওয়ায় বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

আটককৃতরা হলেন- জিয়া “২১”, সজীব”২৫”, শাহিন “২৭” ও সৈকত”২০”। তারা সকলেই দক্ষিণ খোর্দ্দ সাপটানা “ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন” এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে।

এলাকাবাসী ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনরা জানান, ৭ মার্চ “শুক্রবার” জুম্মার নামাজের পর সেজান এবং রোহান শাহিনকে দেখে হাসাহাসি করেন। ফলে শাহিন ও সেজানের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সে সময় মসজিদের মুসল্লিরা তাদেরকে শান্ত করে সন্ধ্যায় মীমাংসার প্রস্তাব দেন। পরে সন্ধ্যার দিকে শফিকুলের নির্দেশ পেয়ে জিয়া,সজীব, শাহিন ও সৈকতসহ ৭-৮ জন সালাম, সেজান ও রোহানের উপর ছুরি দিয়ে হামলা চালায় ও আঘাত করে। ওই সময় সালামের স্ত্রী বিলকিস ও সালামের বোন তাদেরকে বাঁচাতে গেলে তাদের উপরও হামলা চালানো হয়। এরপর এলাকাবাসীরা আহতদের লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে রমেকে রেফার করেন। তারা এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। খবর পেয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরনবী’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উল্লিখিত ৪ জনকে জনতার হাত থেকে বাঁচান ও তাদেরকে আটক করে থানায় পাঠিয়ে দেন। গুরুতর আহত সেজান মারা গেছেন এই খবর পেয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্দ হয়ে শাহিন ও তার বন্ধু আলামিনের বাসায় ভাঙচুর চালান। তবে সদর থানার ওসি’র সাহসী হস্তক্ষেপে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরে ওসি’র নির্দেশে পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে রাতে সেনবাহিনী সদস্যরা সেখানে এসে এলাকাবাসীকে তাদের বাসায় পাঠিয়ে দেন।

ওই ঘটনায় শফিকুলসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে সদর থানায়  একটি মামলা দায়ের করা হয়।  

স্থানীয়দের অভিযোগ, শফিকুল সুদের বিনিময়ে মানুষকে টাকা ধার হিসেবে দেন। শফিকুল ও তার ছেলেরা বিগত আঃ লীগ সরকারের সময় এলাকায় বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করে ও এলাকাবাসীকে নানাভাবে হয়রানি করেন। এলাকার কিছু মানুষের নামে একটি মিথ্যা মামলাও করেন শফিকুল।

সেজানের মা বিলকিস বলেন, “ছেলে ও স্বামীর জন্য দোয়া করবেন। ছেলের বন্ধু রোহানের মা নেই। সে আমার ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও আঘাত পায়। আমি দোষীদের কঠিন শাস্তির দাবি জানাই।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদর থানার ওসি মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, “ দুপুরে জুম্মার নামাজের পরে হাসাহাসির মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। সন্ধ্যায় ছুরি দিয়ে ২ জনকে আঘাত করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। এলাকাবাসী অভিযোগ করায় আমরা ৪ জনকে আটক করি। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর করে। আমরা তাদেরকে নিভৃত করতে সক্ষম হই। আমি রংপুরে কথা বলেছি কেউ মারা যাননি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।