Dhaka , Monday, 19 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সাতকানিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলা, রডের আঘাতে গুরুতর আহত: থানায় লিখিত এজাহার আলোচনার মাঝেই পরীমনির নতুন ভিডিও ভাইরাল ফিফা সভাপতিকে ঢাকায় পেয়ে যা জানাল বাফুফে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবিতে তিউনিসিয়ায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ তেলের দাম কবে কমবে, জানালেন রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না এনসিপি: আখতার হোসেন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৫ নম্বর দারিয়াপুর ইউনিয়নে এস এম সোহাগ মাহমুদের শুভেচ্ছা বার্তা থানা ভিত্তিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিতে ৭১ পুরানা পল্টন, ঢাকায় উদ্বোধন হলো ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’: দালালমুক্ত স্বচ্ছ ভূমিসেবায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত রূপগঞ্জে দিনে-দুপুরে ফ্রান্সপ্রবাসীর ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাই রূপগঞ্জে জালিয়াতির ও ভূয়া দলিলে জমি দখলের প্রতিবাদে মানবববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান গ্যাস-বিদ্যুতের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণকে দুর্ভোগে রাখা হয়েছে: মাহবুবুর রহমান গুজবে নয় সচেতন থাকুন সন্দেহজনক কিছু দেখলে জানান বিজিবি মধুপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় এসআরবি-১৪-এর প্রেস ব্রিফিং খাগড়াছড়িতে ২০০ কোটি টাকার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা এমপি ওয়াদুদ ভূইয়ার সারাদেশে বাড়ছে তামাকের ব্যবহার: তবুও নেই উৎপাদন ও আমদানি বন্ধের দাবী নেএকোণা সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি বরিশালে ডাকাতির চেষ্টায় ধারালো অস্ত্রসহ আটক ১: গত একমাসে ৪৭১টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত গাইবান্ধা ‎সাঘাটায় জ্বালানি তেল পাচারে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে জখম, গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন কাউখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় ৪জন আহত দুর্গাপূজার ছুটির আগেই পর্যটক মুখর কক্সবাজার, পাঁচ দিনে ৬ লাখ পর্যটকের প্রত্যাশা খাগড়াছড়িতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি দুর্গম কাটারুংছড়ায় বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়নে দীঘিনালা জোনের সহায়তা রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের পাঁচবিবিতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১,৮০০ পরিবারের মাঝে পূজাসামগ্রী বিতরণ লালমনিরহাটে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিনব্যাপী কর্মশালা: জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অ্যাডভোকেসির ওপর জোর মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ফতুল্লায় শ্রমিক দলের প্রতিবাদ মিছিল

লক্ষ্মীপুরে বন্যায় সর্বশান্ত হয়েছে ৩ লাখ কৃষক।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:48:51 am, Tuesday, 8 October 2024
  • 158 বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরে বন্যায় সর্বশান্ত হয়েছে ৩ লাখ কৃষক।।

মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
   
   
এবারের ভয়াবহ বন্যায় লক্ষ্মীপুরে  ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষ।  সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। এই দুই খাতেই ক্ষতি হয়েছে ৮৭০ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার রামগতি ও রামগঞ্জ উপজেলায়। 
এ ছাড়া বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তার মধ্যে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন প্রায় তিন লাখ কৃষক। বন্যার দুই মাস পার হলেও এখনো ৫টি উপজেলায় প্রায় দুই  লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। 
স্থানীয় লোকজন জানান, গত ২০ বছরের মধ্যে এত পানি আর জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখেনি লক্ষ্মীপুরের মানুষ। বন্যার দুই মাস পার হলেও অনেক এলাকা থেকে এখনো পানি নামেনি। এখন পর্যন্ত রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর হাঁটু পরিমাণ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এদিকে গত দুদিনের বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় আবার জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি ও বন্যা। এতে জেলার রামগতি, রামগঞ্জ ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন জায়গা প্লাবিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে একের পর এক গ্রাম ও শহর পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েন পাঁচ উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। ভেসে যায় ৫০ হাজার পুকুর ও ঘেরের ২৫০ কোটি টাকার মাছ। তলিয়ে যায় আমনের বীজতলা-আবাদসহ ৬০ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। 
এ ছাড়া পানির তোড়ে ২০০টি ব্রিজ-কালভার্ট এবং কাঁচাপাকা ২ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। অপরদিকে ৯ হাজার ৮৭০ কিমি বিদ্যুৎ লাইন ও ১০১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৩০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এ ছাড়া ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫৬টি গবাদিপশু ভেসে যাওয়াসহ বন্যায় মারা গেছে। সব মিলিয়ে জেলায় বন্যায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। এতে ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতির শিকার হন। এর মধ্যে পুঁজিসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব তিন লাখ কৃষক ও চাষি। কীভাবে সামনের দিনগুলোতে ঘুরে দাঁড়াবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বানবাসী এসব মানুষের। 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘৩০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ক্ষতির শিকার প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কৃষকই তিন লাখ। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। কাজ করে যাচ্ছি।’ 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমন আবাদসহ মোট শস্যখেত রয়েছে ৯০ হাজার ৫৭৪ হেক্টর জমি। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৫৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল। যার ক্ষয়ক্ষতি ৬৩৩ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। 
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের কাজ চলছে। পাশাপাশি খালগুলোর বাঁধ অপসারণ ও দুপাড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন উচ্ছেদ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। 

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতকানিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলা, রডের আঘাতে গুরুতর আহত: থানায় লিখিত এজাহার

লক্ষ্মীপুরে বন্যায় সর্বশান্ত হয়েছে ৩ লাখ কৃষক।।

আপডেট সময় : 06:48:51 am, Tuesday, 8 October 2024
মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি।।
   
   
এবারের ভয়াবহ বন্যায় লক্ষ্মীপুরে  ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষ।  সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। এই দুই খাতেই ক্ষতি হয়েছে ৮৭০ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার রামগতি ও রামগঞ্জ উপজেলায়। 
এ ছাড়া বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তার মধ্যে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন প্রায় তিন লাখ কৃষক। বন্যার দুই মাস পার হলেও এখনো ৫টি উপজেলায় প্রায় দুই  লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। 
স্থানীয় লোকজন জানান, গত ২০ বছরের মধ্যে এত পানি আর জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখেনি লক্ষ্মীপুরের মানুষ। বন্যার দুই মাস পার হলেও অনেক এলাকা থেকে এখনো পানি নামেনি। এখন পর্যন্ত রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর হাঁটু পরিমাণ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এদিকে গত দুদিনের বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় আবার জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি ও বন্যা। এতে জেলার রামগতি, রামগঞ্জ ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন জায়গা প্লাবিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে একের পর এক গ্রাম ও শহর পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েন পাঁচ উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। ভেসে যায় ৫০ হাজার পুকুর ও ঘেরের ২৫০ কোটি টাকার মাছ। তলিয়ে যায় আমনের বীজতলা-আবাদসহ ৬০ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। 
এ ছাড়া পানির তোড়ে ২০০টি ব্রিজ-কালভার্ট এবং কাঁচাপাকা ২ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। অপরদিকে ৯ হাজার ৮৭০ কিমি বিদ্যুৎ লাইন ও ১০১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৩০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এ ছাড়া ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫৬টি গবাদিপশু ভেসে যাওয়াসহ বন্যায় মারা গেছে। সব মিলিয়ে জেলায় বন্যায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। এতে ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতির শিকার হন। এর মধ্যে পুঁজিসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব তিন লাখ কৃষক ও চাষি। কীভাবে সামনের দিনগুলোতে ঘুরে দাঁড়াবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বানবাসী এসব মানুষের। 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইউনুছ মিয়া বলেন, ‘৩০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ক্ষতির শিকার প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এর মধ্যে কৃষকই তিন লাখ। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। কাজ করে যাচ্ছি।’ 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমন আবাদসহ মোট শস্যখেত রয়েছে ৯০ হাজার ৫৭৪ হেক্টর জমি। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ৫৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল। যার ক্ষয়ক্ষতি ৬৩৩ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। 
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের কাজ চলছে। পাশাপাশি খালগুলোর বাঁধ অপসারণ ও দুপাড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন উচ্ছেদ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে।