Dhaka , Tuesday, 12 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী:- পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি গাজীপুরে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মানব সেবায় রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাবের একযুগ পুর্তি চবির জীববিজ্ঞান অনুষদের উন্নয়নে কাজ করতে চান নতুন ডিন অধ্যাপক মাসুদুল আজাদ র‌্যাব কর্মকর্তা হত্যা থেকে রিপন নিখোঁজ, জঙ্গল সলিমপুরে থামছে না আতঙ্ক, ইয়াসিন ফারুককে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ প্রশাসন রামগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে ২০০ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৬ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শরীয়তপুররে কৃষি জমিকে ডোবা দেখিয়ে পুকুর খননের আবেদন, অনুমতি ছাড়াই চলছে খনন পাইকগাছায় মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান: গাঁজাসহ আটক ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ভারতের মেডিকেল ও ট্যুরিস্ট ভিসা সহজ করার অনুরোধ মেয়র শাহাদাতের কাউখালীতে ‘ভুল সেট কোডে’ এসএসসির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষা গ্রহন গবেষক ও ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ জহুর এখন চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন মধুপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠে এক নারীর মৃত্যু টেকনাফে ১ টি বিদেশী রাইফেল ও তাজা গোলাসহ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গোলাগুলি বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর লুটপাট, আহত-১৫ লালমনিরহাটে বেকারত্ব মোচনের মহোৎসব: ১০০০ কর্মসংস্থানের হাতছানি নিয়ে প্রাণ-আরএফএল ভুট্টাক্ষেতে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় র‍্যাবের বড় সাফল্য: প্রধান সহযোগী রকিবুল আটক নগরবাসীর সচেতনতাই জলাবদ্ধতা নিরসনের মূল চাবিকাঠি: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বাড়ির সামনে জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক প্যানেল চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার ভাড়াটিয়া কর্তৃক নারী বাড়িওয়ালী লাঞ্চিত, শ্লীতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ স্বর্ণপদক অর্জনের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে “DEMON 71” টিম, মালয়েশিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে জাতীয় বিজয়ী দল পুলিশ সপ্তাহে সিএমপির ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ পরিবহন খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কৃষিতে বিপ্লব ঘটাবে খাল খনন কর্মসূচি: কুড়িগ্রামে ২ কিমি খালের উদ্বোধন করলেন ত্রাণমন্ত্রী নতুন কুড়ি ২০২৬ (মাদারীপুর) ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতাবিরোধী অভিযোগে মামলা করল ‘রেভ’, শত কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি শিক্ষার মান ও দক্ষতার সংকট: বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কতটা প্রস্তুত ভবিষ্যতের জন্য? শৈশবের পরও টিকা জরুরি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষ- দূর্ঘটনার আশংকা।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:48:54 am, Tuesday, 2 July 2024
  • 119 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষ- দূর্ঘটনার আশংকা।।

ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম।।
  
  
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধস ট্রাজেডি আজও কাঁদায় উপজেলার ইসলামপুর ও দক্ষিণ রাজানগরের মানুষকে। ২০১৭ সালে সংঘটিত পাহাড় ধসে এ দুই ইউনিয়নে মাটিচাপায় মারা গিয়েছিলো
নারী- শিশুসহ ২২ জন মানুষ।
কিন্তু আজও কমেনি পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। কেবল দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় প্রশাসন কিছুটা তৎপর হয়ে পাহাড়-টিলার পাশে বসবাস না করার জন্য এলাকায় মাইকিং করে প্রচারণা চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করলেও পরে চুপসে যায়। নেওয়া হয় না ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের অন্যত্র সরানোর কোন উদ্যোগ।
চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নগরীর মুল সড়কের আশেপাশের পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। অপরদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী প্রায় সাড়ে ৯ হাজার পরিবারের জন্য। কিন্তু পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের তেমন কোন তৎপরতা নেই। এ যেন আরেকটি পাহাড় ধস ট্রাজেডির অপেক্ষা করছে রাঙ্গুনিয়াবাসী।
তবে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কিছু কিছু পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে আসতে মাইকিং করা হলেও প্রশাসন কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তেমন টনক নড়েনি এখনো।  
জানা যায়- রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ৯ হাজার একর ও উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ১৫ হাজার একর বন ভূমি -পাহাড়- রয়েছে। এসব পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সাড়ে ৯ হাজার পরিবারের প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ। সবাই পাহাড় কেটে বসতি গড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বসবাস করছে, পৌরসভার ইছাখালীর গুচ্ছগ্রাম- জাকিরাবাদ- কাদের নগর- নোয়াগাঁও সহ উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের কমিউনিটি সেন্টার- জঙ্গল বেতাগী- উত্তর রাঙ্গুনিয়ার ১নং রাজানগরের সুগারমিল এলাকার রিজার্ভ পাড়া- একাই ইউনিয়নের বগাবিলি এলাকার ১নং ওয়ার্ড ও ৩নং ওয়ার্ড- ১৪নং দক্ষিণ রাজানগরের মোহাম্মদপুর, বাইশ্যাের ডেবা, লেলিঙার টিলা, ১৩নং ইসলামপুরের মঘাইছড়ি- রইস্যাবিল- ১৫ নং লালানগরের চাঁদের টিলা- ছনখোলা বিল- পেইট্ট্যাঘোনা- আগুনিয়া চা বাগান, ২নং হোসনাবাদের নিশ্চিন্তাপুর, ফকিরারটিলা- ফুইট্ট্যােগোদা- চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বনগ্রাম- পোমরা-কোদালা- পারুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পারুয়া, সরফভাটা, শিলক ও পদুয়া ইউনিয়নের একাধিক পাহাড়সহ ৩০-৩৫টি এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এসব পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশই বন বিভাগের রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমি। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ- বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীদের যোগসাজশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধভাবে অসংখ্য বসতঘর গড়ে উঠেছে। যার অধিকাংশ ঘর নির্মাণ করেছে পাহাড় কেটে। আর এসব ঘরে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে কয়েক হাজার পরিবার। আর বর্ষা মৌসুমে এলেই প্রশাসন অনেকটা মাইকিং করে দায়সারাগোছের প্রচার চালায়। কিন্তু ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরানোর কার্যকরী পদক্ষেপ ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়না। একই সাথে ২০১৭ সালের মতো আরেকটি পাহাড়ধস ট্রাজেডি ঘটার আগেই শুধুমাত্র মাইকিং এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কঠোর অভিযান চালিয়ে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান সচেতন মহল। 
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন- বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের শঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসরতদের উচ্ছেদ ও নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু বসবাসকারীরা তাতে কর্ণপাত করছে না। উচ্ছেদ করার পরও আবার বসতি গড়ছে। তবে লোকবলের অভাবে রেঞ্জের একার পক্ষে এ কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মাহবুব বলেন- পাহাড়ে ঝুঁকিতে বাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়াও পৌর মেয়রসহ উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে স্ব-স্ব ইউনিয়নে মাইকিং করে সতর্ক করতে বলা হয়েছে। চলতি সাপ্তাহে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় কাটাসহ ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে অভিযান চালানো হবে।
উল্লেখ্য- রাঙ্গুনিয়ায় স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের ১৩ জুন। ওই দিন ভোরে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মগাইছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় অকালে ঝরে পড়েছিল দুই পরিবারের ২২ জনের প্রাণ। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে এক শিশু সহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এছাড়াও গত ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিক বসতঘর মাটি চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পাহাড় ধসে মৃত্যুর এ মিছিল দীর্ঘ হলেও পাহাড় থেকে সরানো যাচ্ছে না বসবাসকারিদের।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী:- পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষ- দূর্ঘটনার আশংকা।।

আপডেট সময় : 08:48:54 am, Tuesday, 2 July 2024
ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম।।
  
  
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধস ট্রাজেডি আজও কাঁদায় উপজেলার ইসলামপুর ও দক্ষিণ রাজানগরের মানুষকে। ২০১৭ সালে সংঘটিত পাহাড় ধসে এ দুই ইউনিয়নে মাটিচাপায় মারা গিয়েছিলো
নারী- শিশুসহ ২২ জন মানুষ।
কিন্তু আজও কমেনি পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। কেবল দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় প্রশাসন কিছুটা তৎপর হয়ে পাহাড়-টিলার পাশে বসবাস না করার জন্য এলাকায় মাইকিং করে প্রচারণা চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করলেও পরে চুপসে যায়। নেওয়া হয় না ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের অন্যত্র সরানোর কোন উদ্যোগ।
চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নগরীর মুল সড়কের আশেপাশের পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। অপরদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী প্রায় সাড়ে ৯ হাজার পরিবারের জন্য। কিন্তু পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসনের তেমন কোন তৎপরতা নেই। এ যেন আরেকটি পাহাড় ধস ট্রাজেডির অপেক্ষা করছে রাঙ্গুনিয়াবাসী।
তবে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কিছু কিছু পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে আসতে মাইকিং করা হলেও প্রশাসন কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তেমন টনক নড়েনি এখনো।  
জানা যায়- রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ৯ হাজার একর ও উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ১৫ হাজার একর বন ভূমি -পাহাড়- রয়েছে। এসব পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে সাড়ে ৯ হাজার পরিবারের প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ। সবাই পাহাড় কেটে বসতি গড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বসবাস করছে, পৌরসভার ইছাখালীর গুচ্ছগ্রাম- জাকিরাবাদ- কাদের নগর- নোয়াগাঁও সহ উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের কমিউনিটি সেন্টার- জঙ্গল বেতাগী- উত্তর রাঙ্গুনিয়ার ১নং রাজানগরের সুগারমিল এলাকার রিজার্ভ পাড়া- একাই ইউনিয়নের বগাবিলি এলাকার ১নং ওয়ার্ড ও ৩নং ওয়ার্ড- ১৪নং দক্ষিণ রাজানগরের মোহাম্মদপুর, বাইশ্যাের ডেবা, লেলিঙার টিলা, ১৩নং ইসলামপুরের মঘাইছড়ি- রইস্যাবিল- ১৫ নং লালানগরের চাঁদের টিলা- ছনখোলা বিল- পেইট্ট্যাঘোনা- আগুনিয়া চা বাগান, ২নং হোসনাবাদের নিশ্চিন্তাপুর, ফকিরারটিলা- ফুইট্ট্যােগোদা- চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বনগ্রাম- পোমরা-কোদালা- পারুয়া ইউনিয়নের জঙ্গল পারুয়া, সরফভাটা, শিলক ও পদুয়া ইউনিয়নের একাধিক পাহাড়সহ ৩০-৩৫টি এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এসব পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশই বন বিভাগের রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমি। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ- বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীদের যোগসাজশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধভাবে অসংখ্য বসতঘর গড়ে উঠেছে। যার অধিকাংশ ঘর নির্মাণ করেছে পাহাড় কেটে। আর এসব ঘরে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে কয়েক হাজার পরিবার। আর বর্ষা মৌসুমে এলেই প্রশাসন অনেকটা মাইকিং করে দায়সারাগোছের প্রচার চালায়। কিন্তু ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরানোর কার্যকরী পদক্ষেপ ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়না। একই সাথে ২০১৭ সালের মতো আরেকটি পাহাড়ধস ট্রাজেডি ঘটার আগেই শুধুমাত্র মাইকিং এর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কঠোর অভিযান চালিয়ে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান সচেতন মহল। 
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন- বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের শঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসরতদের উচ্ছেদ ও নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু বসবাসকারীরা তাতে কর্ণপাত করছে না। উচ্ছেদ করার পরও আবার বসতি গড়ছে। তবে লোকবলের অভাবে রেঞ্জের একার পক্ষে এ কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মাহবুব বলেন- পাহাড়ে ঝুঁকিতে বাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়াও পৌর মেয়রসহ উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে স্ব-স্ব ইউনিয়নে মাইকিং করে সতর্ক করতে বলা হয়েছে। চলতি সাপ্তাহে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় কাটাসহ ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে অভিযান চালানো হবে।
উল্লেখ্য- রাঙ্গুনিয়ায় স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের ১৩ জুন। ওই দিন ভোরে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মগাইছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় অকালে ঝরে পড়েছিল দুই পরিবারের ২২ জনের প্রাণ। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে এক শিশু সহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এছাড়াও গত ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিক বসতঘর মাটি চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পাহাড় ধসে মৃত্যুর এ মিছিল দীর্ঘ হলেও পাহাড় থেকে সরানো যাচ্ছে না বসবাসকারিদের।