Dhaka , Friday, 7 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সিএনজিতে ১১ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ১ রূপগঞ্জে বসতভিটায় বালু ফেলার প্রতিবাদে থানার সামনে গণঅভিযোগ ও মানববন্ধন টাঙ্গাইলের মধুপুর শহর অটোরিকশার দখলে মহন গ্রামের একমাত্র সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে ৩০০ পরিবারের মানুষ প্রচলিত আইনের কাঠগড়াতেই নিশ্চিত করা হবে বিগত সব নৃশংসতার বিচার: ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে দিনরাত মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা রামগঞ্জে পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু বিচিত্র পেশা কুঁচিয়া ধরা কুঁচিয়া শিকারেই জীবিকা নির্বাহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রূপগঞ্জে বিএনপির আনন্দ শোভাযাত্রা পিরোজপুরের কঁচা নদীতে ভাসমান অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার সাভারকে ভেঙে কেরানীগঞ্জে যুক্ত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তেঁতুলঝোড়ায় জনতার বিস্ফোরণ সরাইল পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভুয়া পলিশ সদস্যসহ ৩ জন গ্রেফতার নোয়াখালীতে মেঘনার ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, নদীরকূলে এলাকাবাসীর মানববন্ধন রূপগঞ্জের দুই প্রজন্মের দুই সেরা থানা নির্বাহী অফিসার দুর্গাপুরে কালচারাল একাডেমিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস পালিত পাইকগাছায় বাইসাইকেল, ভ্যান ও সেলাই মেশিন বিতরণ হাতীবান্ধা ও ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫ বিজিবির অভিযান: ৩৫৫ বোতল ইস্কাপ সিরাপ ও মোটরসাইকেলের ট্যাংকে লুকানো গাঁজাসহ ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ শ্রীপুরে যুবদল নেতার হামলায় পণ্ড আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনামূলক সভা যুবদল আহবায়কসহ আহত ৩ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত ৩ হাসপাতাল ও ২ স্কুলে চউকের পরিদর্শন, পার্কিং সংকট, নকশা লঙ্ঘন ও অনিয়মে উদ্বেগ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’ ফাইনালে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া টিম যৌথ চ্যাম্পিয়ান র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম’র অভিযানে বাইকার গ্যাং কর্তৃক ১ লাখ পিস ইয়াবা পাচারকালে ৬ জন আটক,০৫টি মোটরসাইকেল জব্দ প্রতারণার মামলায় সালমান ও তার বোনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ প্রীতি জিনতার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, অবশেষে মুখ খুললেন ব্রেট লি যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে উপসাগরীয় দেশগুলোও নিরাপদ থাকবে না: ইরান দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে স্বর্ণের দাম নাহিদ-আসিফদের ডকুমেন্টারিতে দেখানো উচিত ছিল: মির্জা শামারুহ মৃত্যুদণ্ড সত্ত্বেও কেন দেশে ফিরতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনা? কাউখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব আহমেদ সোহেল মহজুর। রামগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বিচিত্র পেশা কুঁচিয়া ধরা কুঁচিয়া শিকারেই জীবিকা নির্বাহ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:10:25 pm, Friday, 7 August 2026
  • 1 বার পড়া হয়েছে

মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর,

মানুষ জীবিকা নির্বাহের তাগিদে কত কিছুই না করে। তার মধ্যে এক বিচিত্র পেশা হলো কুচিয়া ধরা। কুচিয়া ধরেই একদল মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তারা সূদুর সিলেট হতে ছুটে এসেছে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে।
তখনো ভোরের আলো ফুটে ওঠেনি।আধো আলো আধো অন্ধকার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে হাঁটুসমান পানিতে নেমে কাঁধে বাঁশের তৈরি চাই যা শুধু মাত্র কুঁচে মাছ ধরার কাজেই ব্যবহার করা হয়। আর হাতে একমুঠো কেঁচো নিয়ে এগিয়ে চলেছেন নিতাই চন্দ্র সরকার। এই কেঁচোগুলোই তাঁর সারাদিনের মূলধন। কেঁচোর টোপে ধরা পড়ে কুঁচিয়া মাছ।
কেঁচোকে স্থানীয় ভাষায় ‘মেটোসাপ’ বলা হয়ে থাকে । আর সেই কুঁচিয়া বিক্রির টাকাতেই চলে তার আট সদস্যের সংসার।

সিলেটের হবিগঞ্জের বাসিন্দা নিতাই সরকার প্রায় নয় দশ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বালুয়া চৌমুহনী এলাকায় আসেন। এলাকাতে তারা একই কাজ করতেন, তবে আয় ছিল কম। এখন বাবা–মা, স্ত্রী ও সন্তানসহ আটজনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি।

নিতাই একা নন। তাঁর মতো আরও ২০ থেকে ২৫ জন সিলেট অঞ্চলের মানুষ রামগঞ্জের ভোলাকোট,ভাটরা,ভাদুর,লামচর
,দরবেশপুর,চন্ডিপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় খাল বিল ও জলাভূমি থেকে কুঁচিয়া সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কৃষিকাজে লোকসান, কাজের সংকট ও দারিদ্র্যতা তাঁদের এই পেশায় এনেছে।

কুঁচিয়া মাছ ধরা ধৈর্যের কাজ। দিনের বড় একটি সময় কেঁচো সংগ্রহে কাটে। বাঁশের তৈরি বিশেষ ফাঁদে কেঁচো গেঁথে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। পরদিন ভোরে ফাঁদ তোলা হয়। সব ফাঁদে কুঁচিয়া মেলে না, কখনো শিং, কৈ বা টাকি মাছও ধরা পড়ে। সংগ্রহ করা কুঁচিয়া জীবিত অবস্থায় সংরক্ষণ করে রাখা হয়। পর্যাপ্ত হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে।
বর্ষাকালেই কুঁচিয়া শিকারীদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়, তখন মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। তবে বছরের বাকি সময়ে আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।
নিতাই সরকার বলেন,বর্ষায় কিছুটা ভালো আয় হয় কিন্তু অন্য সময় খুব কষ্টে চলতে হয়। আগের মতো এখন আর কুঁচিয়া পাওয়া যায় না।
আরেক কুঁচিয়া শিকারী স্বপন চন্দ্র জানান,জীবনের তাগিদে সূদুর সিলেট হতে আমরা ছুটে এসেছি,মোটামুটি ইনকাম ভালোই হচ্ছে। কিন্তু শীতকালে আমাদের কষ্ট হয় বেশি। ঐ সময় তেমন আর কুঁচিয়া পাওয়া যায় না।তখন আমরা ভিন্ন পেশা বেছে নিতে বাধ্য হই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ সিফাত বলেন, কুঁচিয়া পরিবেশের জন্য উপকারী প্রাণী। এটি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই এর প্রাকৃতিক আবাস সংরক্ষণ করা জরুরি।কুঁচিয়া আমাদের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, কুঁচিয়া একটি অন্যতম প্রানিজ সম্পদ এতে প্রচুর পরিমাণ আমিষ ও ভিটামিন আছে। রামগঞ্জে কুঁচিয়ার স্থানীয় বাজার না থাকলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। রামগঞ্জে কেউ কুঁচিয়া মাছ চাষে আগ্রহী হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সিএনজিতে ১১ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ১

বিচিত্র পেশা কুঁচিয়া ধরা কুঁচিয়া শিকারেই জীবিকা নির্বাহ

আপডেট সময় : 08:10:25 pm, Friday, 7 August 2026

মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর,

মানুষ জীবিকা নির্বাহের তাগিদে কত কিছুই না করে। তার মধ্যে এক বিচিত্র পেশা হলো কুচিয়া ধরা। কুচিয়া ধরেই একদল মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তারা সূদুর সিলেট হতে ছুটে এসেছে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে।
তখনো ভোরের আলো ফুটে ওঠেনি।আধো আলো আধো অন্ধকার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে হাঁটুসমান পানিতে নেমে কাঁধে বাঁশের তৈরি চাই যা শুধু মাত্র কুঁচে মাছ ধরার কাজেই ব্যবহার করা হয়। আর হাতে একমুঠো কেঁচো নিয়ে এগিয়ে চলেছেন নিতাই চন্দ্র সরকার। এই কেঁচোগুলোই তাঁর সারাদিনের মূলধন। কেঁচোর টোপে ধরা পড়ে কুঁচিয়া মাছ।
কেঁচোকে স্থানীয় ভাষায় ‘মেটোসাপ’ বলা হয়ে থাকে । আর সেই কুঁচিয়া বিক্রির টাকাতেই চলে তার আট সদস্যের সংসার।

সিলেটের হবিগঞ্জের বাসিন্দা নিতাই সরকার প্রায় নয় দশ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বালুয়া চৌমুহনী এলাকায় আসেন। এলাকাতে তারা একই কাজ করতেন, তবে আয় ছিল কম। এখন বাবা–মা, স্ত্রী ও সন্তানসহ আটজনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি।

নিতাই একা নন। তাঁর মতো আরও ২০ থেকে ২৫ জন সিলেট অঞ্চলের মানুষ রামগঞ্জের ভোলাকোট,ভাটরা,ভাদুর,লামচর
,দরবেশপুর,চন্ডিপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় খাল বিল ও জলাভূমি থেকে কুঁচিয়া সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কৃষিকাজে লোকসান, কাজের সংকট ও দারিদ্র্যতা তাঁদের এই পেশায় এনেছে।

কুঁচিয়া মাছ ধরা ধৈর্যের কাজ। দিনের বড় একটি সময় কেঁচো সংগ্রহে কাটে। বাঁশের তৈরি বিশেষ ফাঁদে কেঁচো গেঁথে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। পরদিন ভোরে ফাঁদ তোলা হয়। সব ফাঁদে কুঁচিয়া মেলে না, কখনো শিং, কৈ বা টাকি মাছও ধরা পড়ে। সংগ্রহ করা কুঁচিয়া জীবিত অবস্থায় সংরক্ষণ করে রাখা হয়। পর্যাপ্ত হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে।
বর্ষাকালেই কুঁচিয়া শিকারীদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়, তখন মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। তবে বছরের বাকি সময়ে আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।
নিতাই সরকার বলেন,বর্ষায় কিছুটা ভালো আয় হয় কিন্তু অন্য সময় খুব কষ্টে চলতে হয়। আগের মতো এখন আর কুঁচিয়া পাওয়া যায় না।
আরেক কুঁচিয়া শিকারী স্বপন চন্দ্র জানান,জীবনের তাগিদে সূদুর সিলেট হতে আমরা ছুটে এসেছি,মোটামুটি ইনকাম ভালোই হচ্ছে। কিন্তু শীতকালে আমাদের কষ্ট হয় বেশি। ঐ সময় তেমন আর কুঁচিয়া পাওয়া যায় না।তখন আমরা ভিন্ন পেশা বেছে নিতে বাধ্য হই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ সিফাত বলেন, কুঁচিয়া পরিবেশের জন্য উপকারী প্রাণী। এটি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই এর প্রাকৃতিক আবাস সংরক্ষণ করা জরুরি।কুঁচিয়া আমাদের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, কুঁচিয়া একটি অন্যতম প্রানিজ সম্পদ এতে প্রচুর পরিমাণ আমিষ ও ভিটামিন আছে। রামগঞ্জে কুঁচিয়ার স্থানীয় বাজার না থাকলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। রামগঞ্জে কেউ কুঁচিয়া মাছ চাষে আগ্রহী হলে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।