
মোঃ আবু কাওছার মিঠু, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি,
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বরুনা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় গতকাল ১২মে মঙ্গলবার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের চাচাতো ভাই মোঃ রিপন খাঁন বাদী হয়ে ২২ জনকে নামীয় ও অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ২৯(৫)২০২৬। সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবর্ষণকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। উদ্ধার করতে পারেনি ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন শরিফ মিয়া (৩২), সজিব মিয়া (২৪), রিপন মিয়া (৪২), রাজিব মিয়া (২৮), শফিক (৪৫), আনুরুদ্দিন (৫৮), মোঃ ইসলাম (৪২), মাহাবুর রহমান (৪০), মোঃ রাজন (২৮), সবুজ মিয়া (৪২), মতিবুর (২৮), মহিবুর (২৫), রাকিব (২৮), শামীম (৩২), মোঃ মাহাবুর রহমান সুমন (৪০), ইমন মিয়া (২৪), নজরুল ইসলাম (৩৫), কবির হোসেন (৫০), মোঃ শাওন মিয়া (২২), রাকিব মিয়া (২৪), রানা (৪২) ও রনি মিয়া (৪০)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরুষ শূন্য পুরো বরুনা এলাকা। বেশিরভাগ বাড়িতে নারী ও শিশুরাই শুধু অবস্থান করছে। বাজারেও অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। গ্রেফতার আতংকে পুরো বরুনা এলাকা। পুলিশের অভিযানে বরুনা এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন। এঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি অন্যরাও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
দুর্বৃত্তরা বরুনা গ্রামের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন, নবী হোসেন ও গৃহবধূ টুকু বুড়ির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে নগদ টাকা স্বর্ণালংকারসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। তারা বরুনা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমানের ছবি, চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে।
বরুনা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হোক। নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।
গৃহবধূ নূরুন নাহার বলেন, বরুনা এলাকায় সব সময় ভয়ে রয়েছি। এখনও আতংক কাটেনি। পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে বাড়িতে কোনও পুরুষ মানুষ নেই।
পুলিশ জানায়, গত ২মে নাওড়া-ইছাখালী সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাইড দেওয়া নিয়ে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন দুই নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল সমর্থিত আমিন হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের তর্ক-বিতর্ক, বাক্বিতণ্ডা, মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেন রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনা মিমাংসার জন্য গত ১১মে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের সভাপতিত্বে বরুনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গ্রাম্য সালিস বৈঠক বসে। উভয়পক্ষ নিজ নিজ সমর্থিতদের নিয়ে বৈঠকে হাজির হয়। বৈঠকে উভয়ই উভয়ের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন। এসময় তারা তর্ক-বিতর্ক ও বাক্বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে রামদা, ছুরি, ছেন, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা একে অপরকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে। সংঘর্ষে তিন-চার রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে একে অপরের সমর্থিতদের বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদে আশ্রয়ের খোঁজে আশপাশের বাড়ির নারী ও শিশুরা ছুটাছুটি করে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১২জন আহত হয়। আহত বিল্লাল হোসেন(৩৫), মোমেন খাঁ (২৮), অপু মিয়াকে (২২) ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, এঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
























