
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় হাজারো মানুষকে। এই ভোগান্তি কমাতে এবং সাক্ষাৎ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের আইটি প্রতিষ্ঠান ‘এএসএইচ ডেভস’ এই প্রযুক্তিনির্ভর সিস্টেম তৈরি করেছে, যা অনুমোদন পেলে দর্শনার্থীরা ঘরে বসেই নির্ধারিত সময় বুক করে কিউআর কোডের মাধ্যমে কারাগারে প্রবেশ করতে পারবেন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কারা অধিদপ্তরের বরাবর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিস্টেমটি চালু হলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে দর্শনার্থীরা অনলাইনে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় নির্বাচন করে সাক্ষাতের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন। পরে নির্ধারিত সময়ে কারাগারে এসে কিউআর কোড প্রদর্শনের মাধ্যমে দ্রুত প্রবেশ করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার ভোগান্তি কমবে এবং পুরো সাক্ষাৎ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন কারা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সময়ের অপচয় কমানোর পাশাপাশি বন্দীদের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য সাক্ষাৎ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও মানবিক করে তুলবে।
বর্তমানে সাক্ষাৎ করতে এসে অনেক দর্শনার্থী নানা জটিলতায় বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে ফিরে যান। অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে আগেই সাক্ষাতের সময় ও তারিখ নির্ধারিত থাকায় এই ধরনের অনিশ্চয়তা কমে আসবে। একই সঙ্গে সাক্ষাতের তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত থাকায় অনিয়ম ও অবৈধ সাক্ষাতের সুযোগও হ্রাস পাবে।
বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিদিন সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, মীরসরাই, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন দূরবর্তী এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। বিশেষ করে বয়স্ক মা-বাবা, নারী ও শিশুরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে যেতে হয়।
তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থায় দর্শনার্থীরা আগে থেকেই নির্ধারিত সময় বুক করতে পারবেন। কারাগারে এসে কিউআর কোড দেখিয়ে দ্রুত প্রবেশ করবেন এবং নির্ধারিত সময়েই সাক্ষাৎ সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি পুরো প্রক্রিয়ায় আধুনিকতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে বন্দীদের স্বজনদের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘ওয়ান-টু-ওয়ান ইন্টারকম টেলিফোন সিস্টেম’ চালু করে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন। গত ৫ মার্চ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই সেবার উদ্বোধন করেন। নতুন ব্যবস্থায় একসঙ্গে ১৬ জন বন্দী ইন্টারকমে কথা বলতে পারছেন, যার মধ্যে পুরুষদের জন্য ১২টি এবং নারীদের জন্য ৪টি বুথ রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ২ হাজার ২৪৯ বন্দীর ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের বেশি বন্দী ও স্বজন সাক্ষাৎ কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন। অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু হলে দর্শনার্থীদের অপেক্ষার সময় কমবে এবং সাক্ষাৎ প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক স্বজন সকাল থেকে এসে অপেক্ষা করেন, কিন্তু কখন ডাক পড়বে তা জানেন না। অনেক সময় ডাক শুনতে না পাওয়ায় ভোগান্তি আরও বাড়ে। অন্যদিকে বন্দীরাও জানতে পারেন না যে তাদের স্বজন বাইরে অপেক্ষা করছেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে আগেই সাক্ষাতের দিন ও সময় নির্ধারণ করা যাবে। ফলে দর্শনার্থীরা নির্ধারিত সময়েই এসে সাক্ষাৎ করতে পারবেন এবং অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না।
























