
বিজয় চৌধুরী, ঢাকা:
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খিলগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজে হাম (Measles) বিষয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ন্যাশনাল ব্রাইটেন অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ)। শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা ও সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ক্যাম্পেইনে বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শুরুতেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা এবং ভিজ্যুয়াল স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে হাম রোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সেশনটি পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তামজিদ মাহমুদ সিয়াম। তিনি শিশুদের উপযোগী ভাষায় হাম রোগের লক্ষণ—যেমন জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়া—এবং এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন।
প্রেজেন্টেশনে হাম কীভাবে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হয়, বিশেষ করে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি টিকাদানের গুরুত্ব, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার মতো প্রতিরোধমূলক বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে “প্রতিরোধই সর্বোত্তম সুরক্ষা”—এই ধারণাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। সেশনের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরে, যার মাধ্যমে বিষয়টি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং শিশুদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
অনুষ্ঠানে তামজিদ মাহমুদ সিয়াম বলেন, “শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে হাম একটি পুনরুত্থানশীল ঝুঁকিপূর্ণ রোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তাই প্রতিরোধমূলক জ্ঞান ও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এনবিএ সবসময়ই একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও স্বাস্থ্যবান প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যেই নয়, তাদের পরিবারের মধ্যেও স্বাস্থ্য সচেতনতার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিকভাবে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মাঝে স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান বিস্তার এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

























