
এন বি আকাশ,
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। শনিবার বিকেলে তারাবো পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক যোগদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারা জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হন।
যোগদানকারী নেতাকর্মীরা জানান, আদর্শিক রাজনীতি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তারা রাজনৈতিক নিপীড়ন, হয়রানি ও কারাবরণের শিকার হন। একই সঙ্গে নিজ দলের ভেতরে দীর্ঘদিন অবমূল্যায়ন ও বঞ্চনার কারণে হতাশ হয়ে পড়েন তারা।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক অবস্থান, শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন এবং ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন তাদের নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে।
যোগদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারাবো পৌরসভার সাবেক আমির, থানা ও পৌর কর্মপরিষদ সদস্য মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন, তারাবো পৌরসভা যুব বিভাগের নেতা মোশারফ হোসেন, মুগরাকুল ইউনিটের সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
বিএনপি থেকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন মো. আমজাদ হোসেন (সিনিয়র নেতা ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী), মো. বাবু মিয়া (সিনিয়র বিএনপি নেতা) এবং মো. শামীম হোসেন (যুবদল নেতা)। এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের আরও বহু নেতাকর্মী এ সময় জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের মালা পরিয়ে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান এবং মিষ্টিমুখ করান। এ সময় যোগদানকারী নেতাকর্মীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং জামায়াতের আদর্শ বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনী মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করলে পুরো এলাকায় ব্যাপক সাড়া ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ সময় স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রূপগঞ্জে শক্ত অবস্থান তৈরি করবে এবং উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে।

























