
নাদিম সরকার,
তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দ্বন্দ্ব-সংঘাতপূর্ণ, বিভক্ত এই পৃথিবীতে সংস্কৃতিই মানুষে-মানুষে সেতুবন্ধ রচনা করতে পারে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বন্ধনগুলো দৃঢ় হয়। মানুষের সাধারণ আশা-আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ, জ্ঞান-বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরকে জানার সুযোগ তৈরি হয়।
আজ ঢাকায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে চতুর্বিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধনকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’–স্লোগান সামনে রেখে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি ৯ দিনব্যাপী ঢাকার বিভিন্ন ভেনুতে উদযাপিত হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।
উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলো আরো বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়েও আয়োজন করা যেতে পারে। এবার প্রথমবারের মতো কক্সবাজারেও উৎসবের চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে জেনে উপদেষ্টা বলেন, এটা অবশ্যই উৎসাহব্যঞ্জক, তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার না হয়। পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। চলচ্চিত্রে প্রদর্শিতব্য দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক কোন চলচ্চিত্র আছে কিনা জানতে চেয়ে উপদেষ্টা আয়োজকদের দু-একটি পরিবেশ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। তিনি চলচ্চিত্র উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারি কমিশনের চেয়ারম্যান ও উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য জনাব জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি ক্রোয়েশিয়ান যুক্তরাজ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মার্কোভিচ এবং বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিওপেং। উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
উৎসবে উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় চীনা পরিচালক চেন শিয়াং পরিচালিত ছবি ‘উ জিন ঝি লু’ (দি জার্নি টু নো এন্ড)। বরাবরের মতো এবারও এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড, চিল্ড্রেন ফিল্ম সেশন, ওমেন ফিল্ম মেকার বিভাগ, শর্ট এন্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ বিভাগে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসবে আরো থাকছে ওয়েস্ট মিটস ইস্ট, স্ক্রিনপ্লে ল্যাব, মাস্টারক্লাস, আর্ট এক্সিবিশন ইত্যাদি।

























