
মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ,
সাভারে এক ব্যবসায়ীকে চোখ উপড়ে ও লিঙ্গ কর্তন করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলার আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী উত্তরপাড়া এলাকার নিজ বাড়ির একটি কক্ষে ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। দুর্বৃত্তরা তাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে চোখ উপড়ে ও লিঙ্গ কর্তন করে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যার পর ঘরের ভেতরেই মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দেলোয়ার হোসেনের কোনো খোঁজ না পেয়ে তার স্বজন ও স্থানীয়রা বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ দৃশ্য দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সাভার মডেল থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং সন্ধ্যায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একনজর দেখার জন্য ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় স্থানীয়রা। অনেকে এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড আগে কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করেন।
নিহত দেলোয়ার হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে জুতা সংগ্রহ করে সাভারসহ আশপাশের এলাকায় দোকানে দোকানে ঘুরে বিক্রি করতেন বলে জানা গেছে। তার কোনো শত্রু ছিল কি না, কিংবা এটি ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা নাকি অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং কী কারণে ঘটিয়েছে, তা জানতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হবে।
এদিকে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
























