Dhaka , Sunday, 3 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
উপকূলের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে- পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ঢাকা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হলেন অ্যাডভোকেট সোহেল খান ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন কিশোরগঞ্জের খাইরুল ইসলাম। মধুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত রূপগঞ্জে ছাত্তার জুট মিলস্ মডেল হাই স্কুল পূনঃনামকরণের প্রস্তাব জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ অপসারণ করা হচ্ছে, দ্রুতই হবে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি:- মেয়র ডা. শাহাদাত রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্যক্রম শুরু পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুূদ্ধ করতে হবে :- আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ মাগুরার ব্র্যাক নার্সারির উদ্যোগে পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে”:- চসিক মেয়র ডা.শাহদাত হোসেন ​হরিপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের হাতে আটক পাইকগাছায় অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে গদাইপুর ব্লাড ব্যাংকের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ এক ঝড়ে উড়ে গেল ঘর, খোলা আকাশেই দিন-রাত হত্যা করলো রামগঞ্জে লাশ মিললো হাজিগঞ্জে রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি উদ্যোগে যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির সমন্বয়ে সদস্য সংগ্রহ ও আলোচনা সভা লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অভিযানে সীমান্তে মাদকের বড় চালান জব্দ: গাঁজা ও সিরাপ উদ্ধার রূপগঞ্জে গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে খেলাধুলার বিকল্প নেই: মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু পাওনা টাকা চাওয়ায় রূপগঞ্জে ভাবি-ভাতিজাকে কুপিয়ে জখম রূপগঞ্জে পুকুরের পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু চিলমারীতে ২ বছরের শিশু আয়েশা হত্যার রহস্য উদঘাটন: দম্পতি গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি দুই দিন ধরে হাতিয়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ নোয়াখালীতে চাচাতো ভাইকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ সরাইলে মহান মে দিবস পালিত মডেলিংয়ে ধীরে ধীরে পরিচিত মুখ হচ্ছেন ঝালকাঠির জায়ান মেহেদী, পরিবারের বাধা পেরিয়ে স্বপ্নপূরণে দৃঢ় পদচারণা জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে সরকার আগামীতে স্বাস্থ্য কার্ড প্রদাণের কথা ভাবছে-তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় (এএইউবি) উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে: আসাদুল হাবিব দুলু বাংলাদেশ ও নেপালের গণআন্দোলন কাভারেজে ফটোসাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে পিআইবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত কাচপুর ব্রিজের নিচে পরিত্যক্ত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার মালয়েশিয়া থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, দাফন সম্পন্ন  ইবি’র শহীদ আনাস হলে নির্ধারিত সিটের বিপরীতে আবেদন সংখ্যা কম, সময় বাড়ছে দুই সপ্তাহ

আজ ৩ ডিসেম্বর: বরগুনা হানাদার মুক্ত দিবস।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:47:43 pm, Wednesday, 3 December 2025
  • 114 বার পড়া হয়েছে

​বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:

আজ ৩ ডিসেম্বর, বরগুনা হানাদারমুক্ত দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র তেরো দিন আগেই ১৯৭১ সালের এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় দেশের উপকূলীয় জেলা বরগুনা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে এদিন ভোরের আলোয় বরগুনাবাসী প্রথম অনুভব করে স্বাধিকারের পূর্ণতা— পায় মুক্তির কাঙ্ক্ষিত স্বাদ।

​মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরগুনা ছিল ৯ নম্বর সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীনে। প্রাথমিক পর্যায়ে মুক্তিকামী সহস্রাধিক স্থানীয় তরুণ বাঁশের লাঠি ও সীমিত সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করলেও, পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী জেলা দখলের পর পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা এলাকা ছেড়ে ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য চলে যান।
​এরপরই বরগুনায় শুরু হয় পাকিস্তানি হানাদারদের পৈশাচিক অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ১৪ মে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই বরগুনা শহর দখল করে নেয় পাকবাহিনী। দখলদারিত্বের পরপরই পাথরঘাটায় বিষখালী নদীর তীরে তারা নির্মম গণহত্যা চালায়। এর কিছুদিন পর, ক্যাপ্টেন শাফায়াতের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনারা ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় প্রবেশ করে ৭৬ জন নিরপরাধ ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের গণকবর দেওয়া হয় জেলা কারাগারের দক্ষিণ পাশে।
​মুক্তির জন্য গোপন প্রস্তুতি
​দেশের অভ্যন্তরে যখন এমন বর্বরতা চলছিল, তখন দলে দলে তরুণরা ভারতে আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীনে সংগঠিত হন। বরগুনাকে মুক্ত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সত্তার খান।
​২ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে বরগুনা ও ঝালকাঠির মোট ২১ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি বিশেষ দল বেতাগীর বদনীখালী নামক স্থানে অবস্থান নেয়। বরগুনার পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন সহকর্মীকে শহরে পাঠানো হয়। তাঁর কাছ থেকে সংকেত পাওয়ার পর গভীর রাতে একটি বড় বাচারী নৌকায় করে বিষখালী নদী পাড়ি দিয়ে দলটি বরগুনার উদ্দেশে রওনা হয়। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে তাঁরা খাকদোন নদীর পোটকাখালী এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল: বরগুনায় অবস্থানরত পাকিস্তানি দোসর, রাজাকার ও পুলিশ সদস্যদের আত্মসমর্পণ করানো এবং জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দখল করা।

​মুক্তিযোদ্ধাদের সুচিন্তিত পরিকল্পনায় ফজরের আজানকে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বরগুনা শহরকে কয়েকটি উপ-বিভাগে ভাগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল কারাগার, ওয়াপদা কলোনী, জেলা স্কুল, সদর থানা ও এসডিওর বাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো।
​ভোরে আজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ছয়টি ভিন্ন স্থান থেকে একযোগে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু করেন মুক্তিযোদ্ধারা। হঠাৎ চারদিকে গুলির শব্দে পুলিশ ও রাজাকারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফার গোলাগুলির পর মুক্তিযোদ্ধারা অগ্রসর হন জেলখানা অভিমুখে। সেখানে অবস্থানরত পুলিশ ও রাজাকার সদস্যরা দ্রুতই অনুধাবন করেন যে মুক্তিযোদ্ধারা সংখ্যায় কম হলেও মনোবলে অপ্রতিরোধ্য। ফলস্বরূপ, তারা আত্মসমর্পণে বাধ্য হন।
​আত্মসমর্পণকারী পুলিশ ও রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এরপর তৎকালীন এসডিও (সাব-ডিভিশনাল অফিসার) কার্যালয়ে যান এবং এসডিও আনোয়ার হোসেনকেও আত্মসমর্পণ করান। দুপুরের মধ্যেই পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের সব নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা ফিরে যান বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টারে।
​এভাবেই বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বরগুনা জেলা সদর শত্রুমুক্ত হয়। বরগুনার সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মনোয়ারের দেওয়া তথ্যমতে, বরগুনা সদর মুক্ত হওয়ার আগেই ২৪ নভেম্বর বামনা (তৎকালীন একটি এলাকা, পরে উপজেলায় রূপান্তরিত) হানাদারমুক্ত হয়। এছাড়া আমতলী ও তালতলী উপজেলা শত্রুমুক্ত হয় বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

উপকূলের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে- পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আজ ৩ ডিসেম্বর: বরগুনা হানাদার মুক্ত দিবস।

আপডেট সময় : 12:47:43 pm, Wednesday, 3 December 2025

​বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:

আজ ৩ ডিসেম্বর, বরগুনা হানাদারমুক্ত দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র তেরো দিন আগেই ১৯৭১ সালের এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় দেশের উপকূলীয় জেলা বরগুনা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে এদিন ভোরের আলোয় বরগুনাবাসী প্রথম অনুভব করে স্বাধিকারের পূর্ণতা— পায় মুক্তির কাঙ্ক্ষিত স্বাদ।

​মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরগুনা ছিল ৯ নম্বর সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীনে। প্রাথমিক পর্যায়ে মুক্তিকামী সহস্রাধিক স্থানীয় তরুণ বাঁশের লাঠি ও সীমিত সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করলেও, পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী জেলা দখলের পর পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা এলাকা ছেড়ে ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য চলে যান।
​এরপরই বরগুনায় শুরু হয় পাকিস্তানি হানাদারদের পৈশাচিক অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ১৪ মে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই বরগুনা শহর দখল করে নেয় পাকবাহিনী। দখলদারিত্বের পরপরই পাথরঘাটায় বিষখালী নদীর তীরে তারা নির্মম গণহত্যা চালায়। এর কিছুদিন পর, ক্যাপ্টেন শাফায়াতের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনারা ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় প্রবেশ করে ৭৬ জন নিরপরাধ ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের গণকবর দেওয়া হয় জেলা কারাগারের দক্ষিণ পাশে।
​মুক্তির জন্য গোপন প্রস্তুতি
​দেশের অভ্যন্তরে যখন এমন বর্বরতা চলছিল, তখন দলে দলে তরুণরা ভারতে আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীনে সংগঠিত হন। বরগুনাকে মুক্ত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সত্তার খান।
​২ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে বরগুনা ও ঝালকাঠির মোট ২১ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি বিশেষ দল বেতাগীর বদনীখালী নামক স্থানে অবস্থান নেয়। বরগুনার পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন সহকর্মীকে শহরে পাঠানো হয়। তাঁর কাছ থেকে সংকেত পাওয়ার পর গভীর রাতে একটি বড় বাচারী নৌকায় করে বিষখালী নদী পাড়ি দিয়ে দলটি বরগুনার উদ্দেশে রওনা হয়। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে তাঁরা খাকদোন নদীর পোটকাখালী এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল: বরগুনায় অবস্থানরত পাকিস্তানি দোসর, রাজাকার ও পুলিশ সদস্যদের আত্মসমর্পণ করানো এবং জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দখল করা।

​মুক্তিযোদ্ধাদের সুচিন্তিত পরিকল্পনায় ফজরের আজানকে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বরগুনা শহরকে কয়েকটি উপ-বিভাগে ভাগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল কারাগার, ওয়াপদা কলোনী, জেলা স্কুল, সদর থানা ও এসডিওর বাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো।
​ভোরে আজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ছয়টি ভিন্ন স্থান থেকে একযোগে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু করেন মুক্তিযোদ্ধারা। হঠাৎ চারদিকে গুলির শব্দে পুলিশ ও রাজাকারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফার গোলাগুলির পর মুক্তিযোদ্ধারা অগ্রসর হন জেলখানা অভিমুখে। সেখানে অবস্থানরত পুলিশ ও রাজাকার সদস্যরা দ্রুতই অনুধাবন করেন যে মুক্তিযোদ্ধারা সংখ্যায় কম হলেও মনোবলে অপ্রতিরোধ্য। ফলস্বরূপ, তারা আত্মসমর্পণে বাধ্য হন।
​আত্মসমর্পণকারী পুলিশ ও রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এরপর তৎকালীন এসডিও (সাব-ডিভিশনাল অফিসার) কার্যালয়ে যান এবং এসডিও আনোয়ার হোসেনকেও আত্মসমর্পণ করান। দুপুরের মধ্যেই পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের সব নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা ফিরে যান বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টারে।
​এভাবেই বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বরগুনা জেলা সদর শত্রুমুক্ত হয়। বরগুনার সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মনোয়ারের দেওয়া তথ্যমতে, বরগুনা সদর মুক্ত হওয়ার আগেই ২৪ নভেম্বর বামনা (তৎকালীন একটি এলাকা, পরে উপজেলায় রূপান্তরিত) হানাদারমুক্ত হয়। এছাড়া আমতলী ও তালতলী উপজেলা শত্রুমুক্ত হয় বিজয়ের মাত্র দুদিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর।