Dhaka , Sunday, 6 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসাকে মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে মতবিনিময় নারায়ণগঞ্জ সদরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান International Day of Charity 2026 উপলক্ষে লিজেন্ড ফাউন্ডেশনের ফুড সার্ভিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত মাদক নয়, মাঠে ফিরুক তরুণরা—অন্তর চৌধুরীর উদ্যোগে ফুটবল বিতরণ। কালিয়কৈরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপি সাংবাদিক কামরুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে:- ডিসি জাহিদ ক্রেস্টের পাশে সবুজের ছোঁয়া: দুর্গাপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা দুর্গাপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা সড়ক সচল করলেন ডেপুটি স্পিকার: জনমনে স্বস্তি, কাটলো দীর্ঘ ভোগান্তি পাইকগাছায় হিলফুল ফুজুল এর ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করায় আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপি-কে মির্জাপুর ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা শ্রীপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাটারি চালিত ভ্যান প্রদান শ্রীপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী ইমন গ্রেফতার সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদারীপুরে দালালের ফাঁদে লিবিয়ায় প্রাণ গেল যুবকের,সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন সরাইলের গুনারায় মাদকের বিরুদ্ধে জনতার,বর্ণাঢ্য র‌্যালী নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদ সিলেট জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা নিন্দুকেরা কখনো উন্নত মানসিকতার হতে পারে না – এমপি খোকন তালুকদার মাদারীপুরে পুলিশের গাড়ি উল্টে ঘটনাস্থলেই ১ জন পুলিশ কনস্টেবল নিহত দুই যুগের বেশি ইমামতি শেষে বিদায়, স্মৃতিতে থাকবেন মাওলানা মোস্তফা কামাল। তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে অন্তর চৌধুরীর উদ্যোগে ফুটবল বিতরণ সংবাদ প্রকাশের পর সাথী সিনেমা হলের সড়কে ইউএনও, নিম্নমানের খোয়া সরানোর নির্দেশ নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১৩   নোয়াখালীতে জবাইকৃত হরিণ উদ্ধার কালিয়াকৈরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ চন্দনাইশে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে এলাকাবাসীর অভিযোগ মধুপুরে সড়কের ঢালাই কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ পাইকগাছায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে মনিরুল হাসান বাপ্পী কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান

সংরক্ষণহীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে হরিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজা গণেশের প্রাচীন নিদর্শন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:02:41 pm, Monday, 24 November 2025
  • 56 বার পড়া হয়েছে

নয়ন হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গড়ভবানিপুর মৌজায় অবস্থিত চব্বিশ পরগনার ঐতিহাসিক ভাতুরিয়া রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও দুইটি নদসহ সব নিদর্শনই এখন প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ ৬০০ বছরের ইতিহাস আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
হরিপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজা গণেশের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এখান থেকে ভারত সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ১-২ কিলোমিটার। ১৪১৪ থেকে ১৪১৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজা গণেশ ভাতুরিয়া অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করেন। পরে তার পুত্র যুদু মিঞা ওরফে জালালউদ্দিনের হাত ধরে ২৪ পরগনা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার বিস্তার লাভ করে।
প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে ছিল রাজা গণেশের বসতি, নদ ও পুকুরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কালের বিবর্তনে বাড়ির ভিটের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। এলাকার একসময়ের বৃহৎ গড়টি আজও টিকে থাকলেও যথাযথ সংরক্ষণ না থাকায় তা দ্রুত ভেঙে পড়ছে। গড়ে রয়েছে বনজ, ফলজ ও নানা ঔষধি গাছসহ বহু প্রাচীন নিদর্শন।
রাজা গণেশের বসতভিটার দু’পাশে ছিল দুটি নদ, যেগুলোর উৎপত্তি কুলিক নদী থেকে। ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেসব নদ এখন চিহ্নমাত্র অবশিষ্ট। স্থানীয়রা বলছেন, নদ দু’টি পুনঃখনন ও সংস্কার করা হলে কৃষিখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
গড়ের পাশে রয়েছে প্রায় ১০ একরজুড়ে তন্নীদিঘী নামে বিশাল পুকুর। একসময় পুকুরটি ৭৫ ফুট প্রস্তের মাটির প্রাচীর দ্বারা ঘেরা ছিল। এখানেই রাজার ঘোড়দৌড়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলে মনে করা হয়। পুকুরের ভেতর এখনো একটি বিশাল শাল কাঠের খুঁটি দেখা যায়, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা অলৌকিক কাহিনি।
পুকুরের পূর্বপাড়ে রয়েছে শাহাজালাল কুতুবে আলম পীরের মাজার ও বিশাল কবরস্থান, যা স্থানীয়ভাবে ‘তন্নীদিঘী পারিবারিক কবরস্থান’ নামে পরিচিত। এলাকার একাধিক গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের পূর্বপুরুষদের কবর এখানে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় প্রবীণদের। এর দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে শাহা তিসতিয়া পীরের মাজার ও দুইটি অজ্ঞাত প্রাচীন কবর।
১৯৯০ সালে পুকুরপাড়ে ৩৮টি পরিবারের জন্য একটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে সরকার। সেই সময় থেকে পুকুরটি তাদের দখলেই আছে। সংরক্ষণের অভাবে শুষ্ক মৌসুমে এখন পুকুরেও পানি থাকে না।
ভাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজান সরকার বলেন—
“রাজা গণেশের ইতিহাস আমরা পাঠ্যবইতে পড়েছি। কিন্তু তার প্রাচীন নিদর্শনগুলো আজ অযত্নে হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। এগুলো রক্ষা করা গেলে এখানে বড় ধরনের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব, যা সরকারকে রাজস্ব আয়েও সহায়তা করবে।”
স্থানীয়দের দাবি—
সরকারি উদ্যোগে দ্রুত রাজা গণেশের সকল নিদর্শন সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ফিরে পাবে নতুন প্রাণ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসাকে মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে মতবিনিময়

সংরক্ষণহীনতায় হারিয়ে যাচ্ছে হরিপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজা গণেশের প্রাচীন নিদর্শন

আপডেট সময় : 06:02:41 pm, Monday, 24 November 2025

নয়ন হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গড়ভবানিপুর মৌজায় অবস্থিত চব্বিশ পরগনার ঐতিহাসিক ভাতুরিয়া রাজা গণেশের বসতভিটা, গড়, পুকুর ও দুইটি নদসহ সব নিদর্শনই এখন প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ ৬০০ বছরের ইতিহাস আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
হরিপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজা গণেশের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এখান থেকে ভারত সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ১-২ কিলোমিটার। ১৪১৪ থেকে ১৪১৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজা গণেশ ভাতুরিয়া অঞ্চলের শাসনভার পরিচালনা করেন। পরে তার পুত্র যুদু মিঞা ওরফে জালালউদ্দিনের হাত ধরে ২৪ পরগনা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার বিস্তার লাভ করে।
প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে ছিল রাজা গণেশের বসতি, নদ ও পুকুরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কালের বিবর্তনে বাড়ির ভিটের অস্তিত্ব এখন প্রায় বিলীন। এলাকার একসময়ের বৃহৎ গড়টি আজও টিকে থাকলেও যথাযথ সংরক্ষণ না থাকায় তা দ্রুত ভেঙে পড়ছে। গড়ে রয়েছে বনজ, ফলজ ও নানা ঔষধি গাছসহ বহু প্রাচীন নিদর্শন।
রাজা গণেশের বসতভিটার দু’পাশে ছিল দুটি নদ, যেগুলোর উৎপত্তি কুলিক নদী থেকে। ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেসব নদ এখন চিহ্নমাত্র অবশিষ্ট। স্থানীয়রা বলছেন, নদ দু’টি পুনঃখনন ও সংস্কার করা হলে কৃষিখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
গড়ের পাশে রয়েছে প্রায় ১০ একরজুড়ে তন্নীদিঘী নামে বিশাল পুকুর। একসময় পুকুরটি ৭৫ ফুট প্রস্তের মাটির প্রাচীর দ্বারা ঘেরা ছিল। এখানেই রাজার ঘোড়দৌড়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলে মনে করা হয়। পুকুরের ভেতর এখনো একটি বিশাল শাল কাঠের খুঁটি দেখা যায়, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা অলৌকিক কাহিনি।
পুকুরের পূর্বপাড়ে রয়েছে শাহাজালাল কুতুবে আলম পীরের মাজার ও বিশাল কবরস্থান, যা স্থানীয়ভাবে ‘তন্নীদিঘী পারিবারিক কবরস্থান’ নামে পরিচিত। এলাকার একাধিক গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের পূর্বপুরুষদের কবর এখানে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় প্রবীণদের। এর দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে শাহা তিসতিয়া পীরের মাজার ও দুইটি অজ্ঞাত প্রাচীন কবর।
১৯৯০ সালে পুকুরপাড়ে ৩৮টি পরিবারের জন্য একটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করে সরকার। সেই সময় থেকে পুকুরটি তাদের দখলেই আছে। সংরক্ষণের অভাবে শুষ্ক মৌসুমে এখন পুকুরেও পানি থাকে না।
ভাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজান সরকার বলেন—
“রাজা গণেশের ইতিহাস আমরা পাঠ্যবইতে পড়েছি। কিন্তু তার প্রাচীন নিদর্শনগুলো আজ অযত্নে হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। এগুলো রক্ষা করা গেলে এখানে বড় ধরনের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব, যা সরকারকে রাজস্ব আয়েও সহায়তা করবে।”
স্থানীয়দের দাবি—
সরকারি উদ্যোগে দ্রুত রাজা গণেশের সকল নিদর্শন সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস ফিরে পাবে নতুন প্রাণ।