
মাকসুদুল হোসেন তুষার স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ার সদর থানাধীন উত্তর চেলোপাড়া এলাকার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মিলনকে গ্রেফতারের পর আরও একটি মামলায় জড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর থানার এএসআই আবু সিদ্দিকের বিরুদ্ধে যাহার বিপি নং- ৮২০৫১০৫৫৫৩। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আসামির স্ত্রী সোনিয়া বেগম।
তবে অন্য মামলায় গ্রেফতার না দেখানোর কথা থাকলেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ডাকাতি চেষ্টা মামলায়। এ এস আই আবু সিদ্দিক তার স্ত্রী’র মাধ্যমে অর্ধেক টাকা দিয়েছেন ফেরত। এই প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করতে বিভিন্নভাবে দেয়া হয় টাকার প্রস্তাব।
সূত্র জানায়, গত ৯ মে (শুক্রবার) আনুমানিক বিকাল ৫টার দিকে শহরের দত্তবাড়ী ব্রিজ এলাকা থেকে মিলন (৩৭) নামের ওই ব্যক্তিকে একটি পুরোনো ওয়ারেন্টের (জি.আর. ৩৪৬/২৫, ধারা ৩৯৯/৪০২) এর ভিত্তিতে গ্রেফতার করেন এএসআই আবু সিদ্দিক। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ২ পিস লোপেনডাডল পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন বগুড়ার সদর থানাধীন উত্তর চেলোপাড়া এলাকার মৃত নান্নুর ছেলে মিলন (৩৭)। ঘুষ নেয়া পুলিশ অফিসার হলেন বগুড়া সদর থানা’র এ এস আই আবু সিদ্দিক।
পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর মিলনের স্ত্রী সোনিয়ার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন এএসআই আবু সিদ্দিক। মারধরের ভয়ভীতি দেখিয়ে দর কষাকষির পর ১৫ হাজার টাকায় রফাদফা হয়। কিন্তু এরপরও মিলনকে ‘ডাকাতি চেষ্টা মামলায়’ অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে দেখিয়ে আবারও ১৫ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করেন তিনি।
পরবর্তীতে সোনিয়া জানতে পারেন, ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও তার স্বামীকে ‘ডাকাতি মামলা’য় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। প্রতিবাদ জানাতে গেলে সোনিয়া ও এএসআই আবু সিদ্দিকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ১১ মে এএসআই আবু সিদ্দিকের স্ত্রী স্থানীয় নয়ন নামের এক যুবকের মাধ্যমে সোনিয়াকে ১৪ হাজার টাকা ফেরত দেন।
এ বিষয়ে নয়ন জানান, “সিদ্দিক ভাইয়ের বউ আমাকে টাকা দিয়ে বলেন, এটা মিলনের বউকে দিয়ে দিতে।” আমি টাকাটা মিলনের বউকে দিয়ে দিয়েছি।
ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই আবু সিদ্দিক বলেন, “আমি ওয়ারেন্ট দেখে গ্রেফতার করেছি। অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” ঘুষ সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
তবে ওয়ারেন্টের বদলে ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে শহরে অপরাধ বাড়তে পারে—এই বিবেচনায় পিসিপিআর যাচাই করে আমি তাকে ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছি। ঘুষের বিষয়ে জানতাম না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা’র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।