Dhaka , Wednesday, 15 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ঐতিহ্যের বর্ণিল আবহে পহেলা বৈশাখ: মঙ্গল শোভাযাত্রায় নবযাত্রার স্বপ্নে ঢাকাবাসী এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার অন্তরের অত্যন্ত কাছের, কারন আমার বাবা-মা দুজনই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন: নববর্ষে চবিতে মীর হেলাল শ্রীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নতুন বছর সাজানোর আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর বর্ণিল আয়োজনে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রঙে-ঐতিহ্যে বর্ণিল কুড়িগ্রামে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হাতীবান্ধা ও নাগেশ্বরী সীমান্তে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অভিযানে পৌনে ২ লাখ টাকার মালামাল জব্দ মধুপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রূপগঞ্জে বাংলা নববর্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি আনন্দ উৎসবে বোয়ালী ইউনিয়নে পহেলা বৈশাখ উদযাপন সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকল্প নেই:- পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও বৈশ্বিক শক্তির টানাপোড়েন—নতুন বিশ্বব্যবস্থার আলোচনা জোরদার বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত মোড়ে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি কেবল সময়ের অপেক্ষা? রূপগঞ্জে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে ডিএসসিসির বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ: পরিচ্ছন্ন ও তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার নারায়ণগঞ্জে অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযান রূপগঞ্জের দুর্ধর্ষ ডাকাতি, হাত পা বেধে স্বর্ণ ও টাকা লুট, জনমনে আতঙ্ক আমি ওয়াদা করেছিলাম রাঙ্গুনিয়ায় বালু ব্যবসা বন্ধ করে দেব:- হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি  কুড়িগ্রাম সীমান্তে ২ যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ: ফিরিয়ে আনতে বিজিবির তোড়জোড় বর্ণিল আয়োজনে নববর্ষ বরণে প্রস্তুত ছায়ানট; রমনা বটমূলে আজ উৎসবের আমেজ পাইকগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণে ধীরগতি,খাল নয় যেন ময়লা আবর্জনার ভাগাড় নারায়ণগঞ্জে নকল টিকা কার্ডে প্রতারণা: এক নারীর কারাদণ্ড লালমনিরহাটে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব: সতর্কবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগ, ঝুঁকিতে শিশুরা সাজা এড়াতে ৫ বছর আত্মগোপন: আদিতমারীতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নিখোঁজের ১১ দিনেও মিলেনি হিফজ ছাত্র তন্ময়ের খোঁজ, দিশেহারা পরিবার নলছিটিতে নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত: অবৈধভাবে মাটি কাটায় সাতকানিয়ায় ইটভাটা মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা  মধ্যপ্রাচর যুদ্ধের প্রভাবে রূপগঞ্জে টেক্সটাইল খাতে ধসের আশঙ্কা, লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা

পরিবেশ-ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:41:37 pm, Friday, 26 January 2024
  • 676 বার পড়া হয়েছে

পরিবেশ-ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।।

তৌহিদ বেলাল কক্সবাজার।।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা’র উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, পরিবেশ ও ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। কাজেই আমাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যাতে রাজনৈতিক শক্তি যথাযথ ভুমিকা পালনে জবাবদিহি করতে বাধ্য হন।
তিনি কক্সবাজারে এক নাগরিক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আলোচনায় একথা বলেন। 
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন, ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও ব্রতী’র নির্বাহী পরিচালক শরমিন মুরশিদ। 
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন, ওয়াটারকিপার্শ বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরা-র কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব শরীফ জামিল। 
ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আহবায়ক এবং কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আলোচনায় অংশ নেন, ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল করিম চৌধুরী কিম, এজেএম গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার উজ জামান চৌধুরী, শওকতুল ইসলাম চৌধুরী বাহাদুর, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এইচএম ফরিদুল আলম শাহীন, ধরা-র জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী আবু মুসা মুহাম্মদ, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিএনএন বাংলা সম্পাদক তৌহিদ বেলাল, পর্যটন উদ্যোক্তা মুকিম খান, ধরা কক্সবাজার সদর উপজেলার মুহাম্মদ হাসান, কক্সবাজার পৌরসভার আরিফুল্লাহ নূরী, টেকনাফ উপজেলার নুরুল হোসাইন, পেকুয়া উপজেলার দেলোয়ার হোসেন, কুতুবদিয়া উপজেলার শহিদুল ইসলাম, মহেশখালী উপজেলার আলাউদ্দিন আলো ও মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুস, চকরিয়া উপজেলার সাঈদুল হক চৌধুরী, ঈদগাঁও উপজেলার রেজাউল করিম, উখিয়া উপজেলার ছেনোয়ারা বেগম সানি, টেকনাফ উপজেলার হারুনর রশীদ সিকদার প্রমুখ। 
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা-ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে ‘কক্সবাজারের পরিবেশগত সংকট ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শরমীন মুরশিদ বলেন পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টায় তরুণদেরকে আরো বেশি যুক্ত করতে হবে। পরিবেশ ও ধরিত্রী রক্ষার আন্দোলনকে স্কুল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে’। 
তিনি এই প্রচেষ্টায় সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিবর্গ ও নারীদেরকে যুক্ত করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান আলোচক শরীফ জামিল ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ পরিচালিত Assessment of the state of the environment and ecology for Cox’s Bazar and its surrounding areas শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কক্সবাজার ও আশেপাশের পরিবেশ, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ ও করনীয় বিষয়সমুহ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, কক্সবাজারের পরিবেশ-প্রতিবেশ আজ ধ্বংসের মুখে। নদী, বন, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য, সাগরতীর ধ্বংস করে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। অতিরিক্ত ইট-পাথরের ভবনের ভারে সেন্টমার্টিন যেমন ডুবন্ত প্রায় তেমনি দখল-দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁকখালী, ঈদগাঁও-এর ফুলেশ্বরী, চকরিয়ার মাতামুহুরী ও মহেশখালীর কোহেলিয়া সহ অসংখ্য নদী। উন্নয়নের চাপ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ভার্জিন দ্বীপ সোনাদিয়াও। হোটেলের পয়ঃবর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে নৈসর্গিক কক্সবাজারকে বাঁচানো কঠিন হবে। কক্সবাজারের ভবিষ্যতের উপর জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, তাই এটি শুধু কক্সবাজারের সমস্যা নয়, এটি এখন জাতীয় সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকারীরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদেরকে চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে কক্সবাজারকে বাঁচাতে হবে। নয়তো আমরা যতই আন্দোলন, লেখালেখি বা মামলা-মোকদ্দমা করি না কেন, সেগুলো কোনো কাজে আসবে না। পর্যটন নগরীর পরিবেশের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। সরকারের উচিত আগে পরিবেশ রক্ষা, এরপর উন্নয়ন করা। এ মুহূর্তে ধরা-র মতো পরিবেশবাদী সংগঠনের মাধ্যমে সাংবাদিক, পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার।
আলোচনা সভায় উপস্থাপিত গবেষণাটি কক্সবাজার জেলার সবকটি উপজেলায়; কক্সবাজার শহর ও সদর, ঈদগাঁও, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেখনাফ, পেকুয়া, ও রামুতে পরিচালিত হয়। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ৬টি উপজেলা বন নিধন, ৭টি উপজেলা পাহাড় কর্তন ও ৯টি উপজেলা বালু উত্তোলনের ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে। ৪টি উপজেলার জলাভূমি ময়লা ফেলা এবং ৬টি উপজেলার জলাভূমি দখল, পলি জমা, ড্রেজিং, পাহাড় কর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। উপরোল্লিখিত ৯টি উপজেলাতেই অবৈধ দখলের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের ৭টিতেই চলছে অবৈধ ইটের ভাটা। সাধারণ জমি লবণ ও চিংড়িচাষের জন্য রূপান্তরিত করার ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলা। পানীয় জলের সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলা সদরসহ প্রায় সবকটি উপজেলা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণকালে ৬২টি বিপন্ন এশিয়ান হাতির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৭,৭৯৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু এখনো অনেকে যথাযত ক্ষতিপূরণ পায়নি। রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসনের জন্য অতিরিক্ত ৬,১৬৪ একর বন নিধন করা হয়েছে এবং প্রতিদিন ৬,৮০০ টন কাঠের জ্বালানি রোহিঙ্গাদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা-এর কার্যক্রম কক্সবাজারে শুরু করার জন্য ফজলুল কাদের চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্যসচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐতিহ্যের বর্ণিল আবহে পহেলা বৈশাখ: মঙ্গল শোভাযাত্রায় নবযাত্রার স্বপ্নে ঢাকাবাসী

পরিবেশ-ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।।

আপডেট সময় : 01:41:37 pm, Friday, 26 January 2024
তৌহিদ বেলাল কক্সবাজার।।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা’র উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, পরিবেশ ও ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। কাজেই আমাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যাতে রাজনৈতিক শক্তি যথাযথ ভুমিকা পালনে জবাবদিহি করতে বাধ্য হন।
তিনি কক্সবাজারে এক নাগরিক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আলোচনায় একথা বলেন। 
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন, ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও ব্রতী’র নির্বাহী পরিচালক শরমিন মুরশিদ। 
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন, ওয়াটারকিপার্শ বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরা-র কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব শরীফ জামিল। 
ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আহবায়ক এবং কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আলোচনায় অংশ নেন, ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল করিম চৌধুরী কিম, এজেএম গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার উজ জামান চৌধুরী, শওকতুল ইসলাম চৌধুরী বাহাদুর, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এইচএম ফরিদুল আলম শাহীন, ধরা-র জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী আবু মুসা মুহাম্মদ, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিএনএন বাংলা সম্পাদক তৌহিদ বেলাল, পর্যটন উদ্যোক্তা মুকিম খান, ধরা কক্সবাজার সদর উপজেলার মুহাম্মদ হাসান, কক্সবাজার পৌরসভার আরিফুল্লাহ নূরী, টেকনাফ উপজেলার নুরুল হোসাইন, পেকুয়া উপজেলার দেলোয়ার হোসেন, কুতুবদিয়া উপজেলার শহিদুল ইসলাম, মহেশখালী উপজেলার আলাউদ্দিন আলো ও মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুস, চকরিয়া উপজেলার সাঈদুল হক চৌধুরী, ঈদগাঁও উপজেলার রেজাউল করিম, উখিয়া উপজেলার ছেনোয়ারা বেগম সানি, টেকনাফ উপজেলার হারুনর রশীদ সিকদার প্রমুখ। 
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা-ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে ‘কক্সবাজারের পরিবেশগত সংকট ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শরমীন মুরশিদ বলেন পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টায় তরুণদেরকে আরো বেশি যুক্ত করতে হবে। পরিবেশ ও ধরিত্রী রক্ষার আন্দোলনকে স্কুল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে’। 
তিনি এই প্রচেষ্টায় সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিবর্গ ও নারীদেরকে যুক্ত করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান আলোচক শরীফ জামিল ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ পরিচালিত Assessment of the state of the environment and ecology for Cox’s Bazar and its surrounding areas শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কক্সবাজার ও আশেপাশের পরিবেশ, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ ও করনীয় বিষয়সমুহ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, কক্সবাজারের পরিবেশ-প্রতিবেশ আজ ধ্বংসের মুখে। নদী, বন, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য, সাগরতীর ধ্বংস করে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। অতিরিক্ত ইট-পাথরের ভবনের ভারে সেন্টমার্টিন যেমন ডুবন্ত প্রায় তেমনি দখল-দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁকখালী, ঈদগাঁও-এর ফুলেশ্বরী, চকরিয়ার মাতামুহুরী ও মহেশখালীর কোহেলিয়া সহ অসংখ্য নদী। উন্নয়নের চাপ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ভার্জিন দ্বীপ সোনাদিয়াও। হোটেলের পয়ঃবর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে নৈসর্গিক কক্সবাজারকে বাঁচানো কঠিন হবে। কক্সবাজারের ভবিষ্যতের উপর জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, তাই এটি শুধু কক্সবাজারের সমস্যা নয়, এটি এখন জাতীয় সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকারীরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদেরকে চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে কক্সবাজারকে বাঁচাতে হবে। নয়তো আমরা যতই আন্দোলন, লেখালেখি বা মামলা-মোকদ্দমা করি না কেন, সেগুলো কোনো কাজে আসবে না। পর্যটন নগরীর পরিবেশের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। সরকারের উচিত আগে পরিবেশ রক্ষা, এরপর উন্নয়ন করা। এ মুহূর্তে ধরা-র মতো পরিবেশবাদী সংগঠনের মাধ্যমে সাংবাদিক, পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার।
আলোচনা সভায় উপস্থাপিত গবেষণাটি কক্সবাজার জেলার সবকটি উপজেলায়; কক্সবাজার শহর ও সদর, ঈদগাঁও, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেখনাফ, পেকুয়া, ও রামুতে পরিচালিত হয়। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ৬টি উপজেলা বন নিধন, ৭টি উপজেলা পাহাড় কর্তন ও ৯টি উপজেলা বালু উত্তোলনের ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে। ৪টি উপজেলার জলাভূমি ময়লা ফেলা এবং ৬টি উপজেলার জলাভূমি দখল, পলি জমা, ড্রেজিং, পাহাড় কর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। উপরোল্লিখিত ৯টি উপজেলাতেই অবৈধ দখলের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের ৭টিতেই চলছে অবৈধ ইটের ভাটা। সাধারণ জমি লবণ ও চিংড়িচাষের জন্য রূপান্তরিত করার ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলা। পানীয় জলের সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলা সদরসহ প্রায় সবকটি উপজেলা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণকালে ৬২টি বিপন্ন এশিয়ান হাতির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৭,৭৯৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু এখনো অনেকে যথাযত ক্ষতিপূরণ পায়নি। রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসনের জন্য অতিরিক্ত ৬,১৬৪ একর বন নিধন করা হয়েছে এবং প্রতিদিন ৬,৮০০ টন কাঠের জ্বালানি রোহিঙ্গাদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা-এর কার্যক্রম কক্সবাজারে শুরু করার জন্য ফজলুল কাদের চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্যসচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।