Dhaka , Monday, 2 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রায়পুরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান: ২৪ হাজার টাকা জরিমানা। দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন পাইকগাছা পৌরসভা বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে পৌর প্রশাসক পাইকগাছায় মৎস্য লীজ ঘের নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে উত্তেজনা গাজীপুরে ইয়াবাসহ ৯ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লুটপাটের শিকার কারখানা মালিকের সংবাদ সম্মেলন পতাকা বিধিমালার তোয়াক্কা নেই লালমনিরহাট খামারবাড়িতে; নিয়ম জানেন না খোদ উপ-পরিচালক! ভঙ্গুর সংযোগ সড়কে মরণফাঁদ: মোগলহাটে ৬৯ লাখ টাকার সেতুতে জনভোগান্তি চরমে রামগঞ্জে সন্ধ্যার পর কোন শিক্ষার্থী বাহিরে থাকতে পারবে না শাহাদাত হোসেন সেলিম এমপি ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আকাশপথে অচলাবস্থা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আটকা কয়েক হাজার যাত্রী মির্জাপুরে মাটিবোঝাই ট্রাক ঢুকল ঘরে, চাপা পড়ে ঘুমন্ত বৃদ্ধ নিহত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে: পানি সম্পদ মন্ত্রী হাজীদের কষ্ট দিলে শাস্তি পেতে হবে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নরসিংদীসহ সারাদেশে খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে মশাল মিছিল ট্র্যাব এর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৬ আসনের নবনির্বাচিত এমপি কর্নেল (অব:) মোহাম্মদ আব্দুল বাতেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা এই জনপদ আমাদের সন্তানদের জন্য উপযোগী করে রাখতে হবে- প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা: চবি এলাকায় মসজিদ সংস্কার কার্যক্রম রামগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত “বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারী লেসন ভিউ একাডেমি’র শিক্ষার্থীদের সাফল্য অর্জন “ স্যার কে.জি. গুপ্ত : কৃতিত্ব থাকলেও পালন করা হয় না জন্মবার্ষিকী পলিথিন বর্জন ও পরিবেশ রক্ষায় সদর উপজেলা প্রশাসনের পাটের ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচি জনগণের ‘দুলু ভাই’-এর নির্দেশে রমজানে বড়বাড়ীতে ‘জনতার বাজার’: অর্ধেক দামে মিলছে দুধ-মাংস সাতকানিয়ায় অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে মধ্যরাতের অভিযান, ২ এস্কেভেটর বিকল সাতকানিয়ায় টপসয়েল কাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ট্রাক-এক্সেভেটর জব্দ, জরিমানা ৪০ হাজার আইসিটি খাতে ১০লাখ লোকের কর্মসংস্থান করা হবে: তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ঝালকাঠিতে অটোরিকশা-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোচালক নিহত নোয়াখালীতে নিখোঁজের ২ দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা আমেনা (২০)

আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ রূপগঞ্জে এখনও ১৫৩টি অসহায় পরিবার ঘর পায়নি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:47:06 pm, Tuesday, 13 July 2021
  • 186 বার পড়া হয়েছে

আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ রূপগঞ্জে এখনও ১৫৩টি অসহায় পরিবার ঘর পায়নি

 সুমন এস, স্টাফ রিপোর্টার।।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেয়া ১৫০টি স্বপ্নের ঘর পেয়ে বসবাস করলেও অপেক্ষায় রয়েছে আরো ১৫৩টি পরিবার। সেই ঘরগুলোর নির্মাণও প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্মাণ কাজ শেষ হলেই সেই ঘরগুলো দ্রুত অসহায়দের মাঝে হস্তান্তর করা হবে। সব সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন খোঁজখবর নিচ্ছেন। ব্যক্তি খরচ করে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মানসহ বিভিন্ন সহযোগীতাও করে যাচ্ছেন অনেকে। অসহায় পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাই পাওয়া এসব অসহায় মানুষ ঘর গুলোর গুণগত মান ভালো হওয়ায় অত্যন্ত খুঁশি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় রূপগঞ্জে মোট ৩০৩ টি ঘর। একটি পরিবারের জন্য ২ শতক জমি ও ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যায়ে একটি টিনসেডের দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয় আশ্রায়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে মুড়াপাড়া দড়িকান্দি এলাকা ২০ টি ও কাঞ্চনের বিরাব এলাকায় ১৩১ টি ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া বিরাব এলাকায় আরো ১’শ টি ও আধুরিয়া এলাকায় ৪৫ টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া পূর্বাচলে বিদ্যুৎ দূর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের ঘটনায় বেচেঁ ফেরা এক সদস্যকে বিদ্যুৎ বিভাগের অর্থায়নে একটি ঘর করে দেওয়া হয়। মাত্র ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা দিয়ে ঘরের নির্মাণের পর ভিটের জন্য ভিটি বালু, বিদ্যুতিক সংযোগ, পয় নিষ্কাশন, পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা করাটা খুব কঠিন হয়ে পড়ছিল। এ মূহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও মাসকো গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর। পাটমন্ত্রী এ প্রকল্পের জন্য ১০ লাখ টাকা ও আব্দুস সবুর কাঞ্চনে বিরাব এলাকায় ২৩০ টি ঘরের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ নির্মাণ করে দেন। ভালমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তৈরী করায় ঘরগুলো খুব মজমুদ রয়েছে। ঘর নির্মাণ নিয়ে কারো কোন অভিযোগ নেই।
কথা হয় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রুনা বেগমের সঙ্গে। তার স্বামী মারা গেছে বহু আগে। ছিলনা থাকার কোন ঘরবাড়ি। ভিক্ষা করে ও মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ এক ছেলে কাদির হোসেন ও এক মেয়েকে মানুষ করেছেন তিনি। বহু কষ্টে মেয়েকে বিয়ে দেন। রুনা বেগমের ছেলে কাদির বিয়ে করার পর তাকে ফেলে রেখে তার পরিবার নিয়ে ঢাকা থাকেন। ছেলে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার পর রুনা বেগম কখনো থেকেছেন মানুষের বাড়ির বারান্দায় আবার কখনো বা মানুষের রান্না ঘরে। ভাবেননি কখনো নিজের জমিতে ঘরে থাকতে পারবেন। নিজের ঘর ও জমি ছিল রুনা বেগম স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রায়ণ প্রকল্পে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো রুনা বেগমের। আশ্রায়ন প্রকল্পের আওয়তায় রুনা বেগম পেয়েছেন নিজের নামে দুই শতক জমি ও একটি টিনসেডের একটি দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর। সাথে রয়েছে একটি গোসলখানা ও টয়লেট। বৈদ্যতিক সংযোগ ও পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তার এ স্বপ্ন পূরণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শুধু রুনা বেগম নয় ইউসূফ, সজীমুন (৯০), পঙ্গু শফিকুল আলমসহ ১৫০ টি পরিবার ঘর পেয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ঘর যাদের জন্য ছিল একটি স্বপ্নে ব্যাপার। এছাড়া আরো ১৫৩ টি পরিবারের স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় রয়েছে।
কথা হয় আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়া শ্রমিক ইউসূফের সঙ্গে তিনি জানান, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। গত ২০ বছর ধরে মুড়াপাড়া নগর এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তার বাপ দাদার কোন ভিটেমাটি নেই। তিনি মালবাহী জাহাজ থেকে ময়দা, আটা, ডাল উঠানামানোর কাজ করে দৈনিক ৫-৭ টাকা করতে পারেন। কখনো আয় হতো আবার কখনো আয় বন্ধ থাকতো। এ আয় থেকেই সংসার চালানো ও প্রতি মাসে প্রায় ৪ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দিতে হতো। কখনো ভাবেন নিজের ঘরে থাকতে পারবেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের মতো অনেক অসহায় মানুষকে ঘর দিয়েছেন। এসময় ইউসূফ মিয়া এ ঘটনা গুলোর বর্ণণা দিতে গিয়ে তার চোঁখে পানি চলে আসে। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
কথা হয় বিরাব এলাকায় ঘর পাওয়া হযরত আলীর সঙ্গে তিনি বলেন, বাবাগো আমি ভিক্ষা কইরা চলি আমার পোলা মাইরারা আমারে দেহে না। আগের রাস্তায় নয়তো মাইনষের বাড়ি বাড়ি থাকতাম।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহ্ নূসরা জাহান বলেন, অসহায়দের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ৩০৩ টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরগুলো নির্মাণের সময় আমরা নিজেরা সরেজমিনে থেকে পর্যবেক্ষণ করায় ঘরগুলো খুব মজমুত হয়েছে। তবে, একটি ঘরে সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেও তা তাৎক্ষনিক ঠিক করে দেয়া হয়েছে। যারা এখানে থাকছেন আমরা প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজ রাখছি। উপকারভোগীরা অনেক সন্তুষ্ট। পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়া ও মাসকো গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন। অসহায়দের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা আত্মকর্মসংস্থান করতে পারেন।
এসময় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার জননী। তার মন সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় কাঁদে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে যত মানুষকে ঘর দিয়েছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সবার সহযোগীতায় রূপগঞ্জের নির্মিত ঘর গুলো ভালমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে করায় ঘরগুলো ভাল আছে। এয়াড়া বাকি ঘর গুলোও শীগ্রই বুঝিয়ে দেয়া হবে।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়পুরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান: ২৪ হাজার টাকা জরিমানা।

আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ রূপগঞ্জে এখনও ১৫৩টি অসহায় পরিবার ঘর পায়নি

আপডেট সময় : 10:47:06 pm, Tuesday, 13 July 2021

 সুমন এস, স্টাফ রিপোর্টার।।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেয়া ১৫০টি স্বপ্নের ঘর পেয়ে বসবাস করলেও অপেক্ষায় রয়েছে আরো ১৫৩টি পরিবার। সেই ঘরগুলোর নির্মাণও প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্মাণ কাজ শেষ হলেই সেই ঘরগুলো দ্রুত অসহায়দের মাঝে হস্তান্তর করা হবে। সব সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন খোঁজখবর নিচ্ছেন। ব্যক্তি খরচ করে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মানসহ বিভিন্ন সহযোগীতাও করে যাচ্ছেন অনেকে। অসহায় পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাই পাওয়া এসব অসহায় মানুষ ঘর গুলোর গুণগত মান ভালো হওয়ায় অত্যন্ত খুঁশি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় রূপগঞ্জে মোট ৩০৩ টি ঘর। একটি পরিবারের জন্য ২ শতক জমি ও ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যায়ে একটি টিনসেডের দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয় আশ্রায়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে মুড়াপাড়া দড়িকান্দি এলাকা ২০ টি ও কাঞ্চনের বিরাব এলাকায় ১৩১ টি ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া বিরাব এলাকায় আরো ১’শ টি ও আধুরিয়া এলাকায় ৪৫ টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া পূর্বাচলে বিদ্যুৎ দূর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের ঘটনায় বেচেঁ ফেরা এক সদস্যকে বিদ্যুৎ বিভাগের অর্থায়নে একটি ঘর করে দেওয়া হয়। মাত্র ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা দিয়ে ঘরের নির্মাণের পর ভিটের জন্য ভিটি বালু, বিদ্যুতিক সংযোগ, পয় নিষ্কাশন, পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা করাটা খুব কঠিন হয়ে পড়ছিল। এ মূহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও মাসকো গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর। পাটমন্ত্রী এ প্রকল্পের জন্য ১০ লাখ টাকা ও আব্দুস সবুর কাঞ্চনে বিরাব এলাকায় ২৩০ টি ঘরের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ নির্মাণ করে দেন। ভালমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তৈরী করায় ঘরগুলো খুব মজমুদ রয়েছে। ঘর নির্মাণ নিয়ে কারো কোন অভিযোগ নেই।
কথা হয় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রুনা বেগমের সঙ্গে। তার স্বামী মারা গেছে বহু আগে। ছিলনা থাকার কোন ঘরবাড়ি। ভিক্ষা করে ও মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ এক ছেলে কাদির হোসেন ও এক মেয়েকে মানুষ করেছেন তিনি। বহু কষ্টে মেয়েকে বিয়ে দেন। রুনা বেগমের ছেলে কাদির বিয়ে করার পর তাকে ফেলে রেখে তার পরিবার নিয়ে ঢাকা থাকেন। ছেলে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার পর রুনা বেগম কখনো থেকেছেন মানুষের বাড়ির বারান্দায় আবার কখনো বা মানুষের রান্না ঘরে। ভাবেননি কখনো নিজের জমিতে ঘরে থাকতে পারবেন। নিজের ঘর ও জমি ছিল রুনা বেগম স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রায়ণ প্রকল্পে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো রুনা বেগমের। আশ্রায়ন প্রকল্পের আওয়তায় রুনা বেগম পেয়েছেন নিজের নামে দুই শতক জমি ও একটি টিনসেডের একটি দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর। সাথে রয়েছে একটি গোসলখানা ও টয়লেট। বৈদ্যতিক সংযোগ ও পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তার এ স্বপ্ন পূরণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শুধু রুনা বেগম নয় ইউসূফ, সজীমুন (৯০), পঙ্গু শফিকুল আলমসহ ১৫০ টি পরিবার ঘর পেয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ঘর যাদের জন্য ছিল একটি স্বপ্নে ব্যাপার। এছাড়া আরো ১৫৩ টি পরিবারের স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় রয়েছে।
কথা হয় আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়া শ্রমিক ইউসূফের সঙ্গে তিনি জানান, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। গত ২০ বছর ধরে মুড়াপাড়া নগর এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তার বাপ দাদার কোন ভিটেমাটি নেই। তিনি মালবাহী জাহাজ থেকে ময়দা, আটা, ডাল উঠানামানোর কাজ করে দৈনিক ৫-৭ টাকা করতে পারেন। কখনো আয় হতো আবার কখনো আয় বন্ধ থাকতো। এ আয় থেকেই সংসার চালানো ও প্রতি মাসে প্রায় ৪ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দিতে হতো। কখনো ভাবেন নিজের ঘরে থাকতে পারবেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের মতো অনেক অসহায় মানুষকে ঘর দিয়েছেন। এসময় ইউসূফ মিয়া এ ঘটনা গুলোর বর্ণণা দিতে গিয়ে তার চোঁখে পানি চলে আসে। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
কথা হয় বিরাব এলাকায় ঘর পাওয়া হযরত আলীর সঙ্গে তিনি বলেন, বাবাগো আমি ভিক্ষা কইরা চলি আমার পোলা মাইরারা আমারে দেহে না। আগের রাস্তায় নয়তো মাইনষের বাড়ি বাড়ি থাকতাম।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহ্ নূসরা জাহান বলেন, অসহায়দের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ৩০৩ টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরগুলো নির্মাণের সময় আমরা নিজেরা সরেজমিনে থেকে পর্যবেক্ষণ করায় ঘরগুলো খুব মজমুত হয়েছে। তবে, একটি ঘরে সামান্য ত্রুটি দেখা দিলেও তা তাৎক্ষনিক ঠিক করে দেয়া হয়েছে। যারা এখানে থাকছেন আমরা প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজ রাখছি। উপকারভোগীরা অনেক সন্তুষ্ট। পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়া ও মাসকো গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন। অসহায়দের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা আত্মকর্মসংস্থান করতে পারেন।
এসময় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার জননী। তার মন সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় কাঁদে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে যত মানুষকে ঘর দিয়েছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সবার সহযোগীতায় রূপগঞ্জের নির্মিত ঘর গুলো ভালমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে করায় ঘরগুলো ভাল আছে। এয়াড়া বাকি ঘর গুলোও শীগ্রই বুঝিয়ে দেয়া হবে।