Dhaka , Friday, 27 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জয়নুল আবদীন ফারুকের স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন: সেনবাগে শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত পরিবেশ দোকানে ঢুকল তেলবাহী লরি:নোয়াখালীতে বাবার মৃত্যুর ছয়দিন পর ছেলের মৃত্যু হরিপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান: মালিকবিহীন ৩৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার মোংলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত শরীয়তপুরে সেরা ওসি নির্বাচিত জাজিরা থানার মো. সালেহ্ আহাম্মদ হিলি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ৭ ঘণ্টা পর বিজিবির হাতে আটক যুবককে ফেরত দিল বিএসএফ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দখল মুক্ত করে ফুটপাত উচ্ছেদের পর ফের দখল চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম’র বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযান; বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস ও মাদক জব্দ কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৮ ডাকাত আটক ৪ জেলে উদ্ধার পাঁচবিবির ১নং রেলগেট সড়ক সংস্কার: দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে স্বস্তি ফিরেছে শরীয়তপুরে দেবরের আত্মহত্যার ২৪ ঘন্টা পর ভাবীর আত্মহত্যা পাইকগাছায় শিবসা ব্রিজ যেন মরণফাঁদ; প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পথচারী পাইকগাছায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে প্রশাসন মধুপুরে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মধুপুরে গাছ নিধনের পর বনে আগুন ॥ ৭৫ একর ভূমি জবরদখলের পায়তারা ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে রাজনগরে যুবক খুন ছুরিকাঘাতে নিহত, অভিযুক্ত একই গ্রামের তরুণ ফতুল্লায় মোতালেব মনোয়ারা কম্পোজিটে শ্রমিক অসন্তোষ, ৪ মার্চ বকেয়া পরিশোধের চুক্তি চরভদ্রাসনে আইন- শৃঙ্খলা উন্নয়নে উঠান বৈঠক: “মাদকের ছয়লাভ- লাইসেন্সবিহীন দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল: অভিযোগ এলাকাবাসীর। লক্ষ্মীপুরে ভাবির মৃত্যুর খবর শুনে দেবরের মৃত্যু শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিতে হবে: শ্রমমন্ত্রী ভুট্টা ক্ষেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার: এলাকায় শোকের ছায়া লালমনিরহাটে অটোরিকশা চালকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি: ডিবি পুলিশের জালে দুই অপরাধী দেশের ক্রীড়াঙ্গণের সামগ্রিক উন্নয়ন ও খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক। খালের দখল-দূষণ প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে: পানি সম্পদ মন্ত্রী জুনিয়র বৃত্তি ও সমমানের বৃত্তি ও এবতেদায়ি ৫ম বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফল প্রকাশঃ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের একীভূত অন্তর্ভুক্তির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের সাথে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সভা/ ধর্ম সংক্রান্ত সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি-ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের নির্দেশনা ডিএসসিসি প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিএনসিসি প্রশাসক

ইবিতে নিরাপত্তাকর্মীর সাথে অসদাচরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি  -অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:03:11 pm, Monday, 17 July 2023
  • 245 বার পড়া হয়েছে

ইবিতে নিরাপত্তাকর্মীর সাথে অসদাচরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি  -অভিযোগ

ইবি প্রতিনিধি।।

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এস্টেট অফিসের নিরাপত্তা সেলের সুপারভাইজার ও উপ-উপাচার্যের পিএস’র সাথে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গত শনিবার (১৫ জুলাই) প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফরিদ উদ্দিন নামের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তবে অভিযোগকারীদের দ্বারা উল্টো তারাই হেনস্তা ও হুমকির স্বীকার হয়েছেন মর্মে আজ পাল্টা অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন দুই অভিযুক্ত শিক্ষার্থী।

গত ১১জুলাই সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। লিখিত অভিযোগে ওই দুই শিক্ষার্থী ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রেদওয়ান মাহমুদ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফাতেমাতুর জোহরা বলে উল্লেখ করেন ফরিদ উদ্দিন।

অভিযোগে তিনি বলেন, ‘গত ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একটি মোটর সাইকেল দ্রুতগতিতে এলোমেলো ভাবে চলাচল করছিল। আমি তাদেরকে মোটর সাইকেল থামাতে বলি এবং তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা ক্ষুব্ধ হন। পরে তাদের পরিচয় জানতে পারি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি এলোপাতারী মোটর সাইকেল চালাচ্ছেন কেনো? তখন রেদোয়ান নামের শিক্ষার্থী বলেন, আমি যেভাবেই মোটর সাইকেল চালায় তাতে আপনার কি? আপনার গায়ের সাথে তো লাগেনি এবং আপনি বলার কে?

এসময় আমার সাথে চিকিৎসা কেন্দ্র পরিদর্শন করতে আসা দুইজন র‍্যাবের প্রতিনিধিও ছিলেন। এছাড়া পরে উপ-উপাচার্যের পিএস সোহেল রানা সেখানে উপস্থিত হন। পরে আমাদের প্রত্যেকের সাথে তারা খারাপ আচরণ করেন। কথার এক পর্যায়ে ফাতেমাতুর জোহরা নামের আরেক শিক্ষার্থী আমাকে বলেন, আমি কি করতে পারি আপনি জানেন? এখন যদি ছাত্রদের ডাকি তাহলে আপনার কি অবস্থা হবে? ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, আপনি এবং আপনার প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারবে না।’ এছাড়া ওই শিক্ষার্থীরা প্রশাসন এবং নিরাপত্তা সেল সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এবং তাদের সাথে করা এমন অসদারণের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

এদিকে পাল্টা অভিযোগে ওই নিরাপত্তা কর্মী এবং উপ-উপাচার্যের পিএস’ই প্রথমে তাদেরকে হেরেসমেন্ট করেছেন বলে দাবি করেন অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। যার ফলে অসুস্থ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা এবং বর্তমানেও তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান তারা।

অভিযোগপত্রে রেদওয়ান মাহমুদ বলেন, ‘আমি গত ১১ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাইব্রেরি সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে মোটর সাইকেলে গন্তব্যে যাওয়ার পথে এস্টেট অফিসের নিরাপত্তা সেলের সিকিউরিটি সুপারভাইজার ফরিদ উদ্দীন দ্বারা হেনস্তার স্বীকার হই। ঐ সময়ে তিনি হঠাৎ আমাকে হাতের ইশারায় থামতে বলেন। স্বাভাবিকভাবেই আমি তার কাছে গিয়ে থেমে যাই এবং তাকে সম্মান প্রদর্শন পূর্বক সালাম দিই। তখন তিনি আমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি পরিচয় দিই। ঐ সময় তিনি আমাকে ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করেন এই ছেলে৷ তুমি কি পুলিশ? আমি উত্তরে বলি, জ্বী না। তখন তিনি আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তাহলে তুমি পুলিশের স্টিকার লাগানো বাইক কেন চালাচ্ছো? আমি আবারো উত্তর দিই বাইকটি একজন পুলিশ কর্মকর্তার। তিনি আমাকে বলেন, পুলিশের স্টিকার লাগানো বাইক তো তুমি চালাতে পারবা না, এখনি বাইক থেকে নামো। তখনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপ উপাচার্য মহোদয়ের পিএস সোহেল রানা। শুরুতেই তিনি উগ্রভাবে তেড়ে আসেন এবং আমাকে প্রশ্ন করেন, তুমি রাস্তার মাঝে বাইক কেন রাখছো? তখন আমি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি আমাকে ফরিদউদ্দীন কর্তৃক হঠাৎ দাড় করানো হয়েছে। কিন্তু তিনি আমার কথা কর্ণপাত না করেই আমার উপর চড়াও হন এবং আমি তার মুখের উপর কেন কথা বললাম এজন্য বারংবার হুমকি দিতে থাকেন। ঐ সময় আমার সাথে থাকা শিক্ষার্থী উনাকে বুঝানোর চেষ্টা করলে তিনি তার উপর ও চড়াও হন এবং বাজে ভাবে হেনস্তা করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে ঐ দুইজন ব্যক্তির ক্ষমতা প্রদর্শন পূর্বক আমাদেরকে হুমকি প্রদান করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য ঐ শিক্ষার্থী এবং আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি এবং আমার সাথে থাকা শিক্ষার্থী অসুস্থ হয় পড়ে। তখন তাকে ইবি মেডিকেলে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত তিনি অসুস্থ আছেন।’

শেষে প্রশাসনের নিকট তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উক্ত ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আবেদন জানান তিনি।

পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা যে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে সেটা আমি শুনিনি। কি অভিযোগ করেছে সেটাও জানিনা। ওই শিক্ষার্থীদেরকে তো আমরা চিনিই না। তাহলে হুমকি দিবো কিভাবে? শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়াই হচ্ছে আমাদের কাজ। সেই হিসেবে তাদেরকে সতর্ক করা। এর থেকে বেশি কিছু করার অধিকার তো আমাদের নেই।’

উপ-উপাচার্যের পিএস সোহেল রানা বলেন, ‘ঐদিন বিকালে বাজারে যেতে দেখি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনের রাস্তায় একটি বাইক আড়াআড়ি করে রাখা আছে। এসময় দুই শিক্ষার্থীর সাথে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন ও ওইদিন তদন্ত করতে আসা দুই র‍্যাব কর্মকর্তার সাথে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। ওই শিক্ষার্থীদের পরিচয় জিজ্ঞাস করলে পরিচয় না দিয়ে তারা উল্টো আমার উপর চড়াও হয়। এবং বলে আমি কে? আপনাকে উত্তর দিতে হবে নাকি? এরপর আমি তাদেরকে বোঝনোর চেষ্টা করলে তারা আমার উপর চড়াও হয়। আর বলে আপনারা যা করার করেন গিয়া।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমরা অভিযোগপত্র হাতে পেয়েছি। আমাদের মিটিং হয়েছে। যেহেতু পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তার জন্য যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য রেজিস্ট্রার বরাবর সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। হয়তো দুই একদিনের মধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জয়নুল আবদীন ফারুকের স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন: সেনবাগে শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত পরিবেশ

ইবিতে নিরাপত্তাকর্মীর সাথে অসদাচরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি  -অভিযোগ

আপডেট সময় : 02:03:11 pm, Monday, 17 July 2023

ইবি প্রতিনিধি।।

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এস্টেট অফিসের নিরাপত্তা সেলের সুপারভাইজার ও উপ-উপাচার্যের পিএস’র সাথে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গত শনিবার (১৫ জুলাই) প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফরিদ উদ্দিন নামের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তবে অভিযোগকারীদের দ্বারা উল্টো তারাই হেনস্তা ও হুমকির স্বীকার হয়েছেন মর্মে আজ পাল্টা অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন দুই অভিযুক্ত শিক্ষার্থী।

গত ১১জুলাই সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। লিখিত অভিযোগে ওই দুই শিক্ষার্থী ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রেদওয়ান মাহমুদ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফাতেমাতুর জোহরা বলে উল্লেখ করেন ফরিদ উদ্দিন।

অভিযোগে তিনি বলেন, ‘গত ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একটি মোটর সাইকেল দ্রুতগতিতে এলোমেলো ভাবে চলাচল করছিল। আমি তাদেরকে মোটর সাইকেল থামাতে বলি এবং তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা ক্ষুব্ধ হন। পরে তাদের পরিচয় জানতে পারি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি এলোপাতারী মোটর সাইকেল চালাচ্ছেন কেনো? তখন রেদোয়ান নামের শিক্ষার্থী বলেন, আমি যেভাবেই মোটর সাইকেল চালায় তাতে আপনার কি? আপনার গায়ের সাথে তো লাগেনি এবং আপনি বলার কে?

এসময় আমার সাথে চিকিৎসা কেন্দ্র পরিদর্শন করতে আসা দুইজন র‍্যাবের প্রতিনিধিও ছিলেন। এছাড়া পরে উপ-উপাচার্যের পিএস সোহেল রানা সেখানে উপস্থিত হন। পরে আমাদের প্রত্যেকের সাথে তারা খারাপ আচরণ করেন। কথার এক পর্যায়ে ফাতেমাতুর জোহরা নামের আরেক শিক্ষার্থী আমাকে বলেন, আমি কি করতে পারি আপনি জানেন? এখন যদি ছাত্রদের ডাকি তাহলে আপনার কি অবস্থা হবে? ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, আপনি এবং আপনার প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারবে না।’ এছাড়া ওই শিক্ষার্থীরা প্রশাসন এবং নিরাপত্তা সেল সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এবং তাদের সাথে করা এমন অসদারণের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

এদিকে পাল্টা অভিযোগে ওই নিরাপত্তা কর্মী এবং উপ-উপাচার্যের পিএস’ই প্রথমে তাদেরকে হেরেসমেন্ট করেছেন বলে দাবি করেন অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। যার ফলে অসুস্থ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা এবং বর্তমানেও তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান তারা।

অভিযোগপত্রে রেদওয়ান মাহমুদ বলেন, ‘আমি গত ১১ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাইব্রেরি সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে মোটর সাইকেলে গন্তব্যে যাওয়ার পথে এস্টেট অফিসের নিরাপত্তা সেলের সিকিউরিটি সুপারভাইজার ফরিদ উদ্দীন দ্বারা হেনস্তার স্বীকার হই। ঐ সময়ে তিনি হঠাৎ আমাকে হাতের ইশারায় থামতে বলেন। স্বাভাবিকভাবেই আমি তার কাছে গিয়ে থেমে যাই এবং তাকে সম্মান প্রদর্শন পূর্বক সালাম দিই। তখন তিনি আমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি পরিচয় দিই। ঐ সময় তিনি আমাকে ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করেন এই ছেলে৷ তুমি কি পুলিশ? আমি উত্তরে বলি, জ্বী না। তখন তিনি আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তাহলে তুমি পুলিশের স্টিকার লাগানো বাইক কেন চালাচ্ছো? আমি আবারো উত্তর দিই বাইকটি একজন পুলিশ কর্মকর্তার। তিনি আমাকে বলেন, পুলিশের স্টিকার লাগানো বাইক তো তুমি চালাতে পারবা না, এখনি বাইক থেকে নামো। তখনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপ উপাচার্য মহোদয়ের পিএস সোহেল রানা। শুরুতেই তিনি উগ্রভাবে তেড়ে আসেন এবং আমাকে প্রশ্ন করেন, তুমি রাস্তার মাঝে বাইক কেন রাখছো? তখন আমি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করি আমাকে ফরিদউদ্দীন কর্তৃক হঠাৎ দাড় করানো হয়েছে। কিন্তু তিনি আমার কথা কর্ণপাত না করেই আমার উপর চড়াও হন এবং আমি তার মুখের উপর কেন কথা বললাম এজন্য বারংবার হুমকি দিতে থাকেন। ঐ সময় আমার সাথে থাকা শিক্ষার্থী উনাকে বুঝানোর চেষ্টা করলে তিনি তার উপর ও চড়াও হন এবং বাজে ভাবে হেনস্তা করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে ঐ দুইজন ব্যক্তির ক্ষমতা প্রদর্শন পূর্বক আমাদেরকে হুমকি প্রদান করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনার জন্য ঐ শিক্ষার্থী এবং আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি এবং আমার সাথে থাকা শিক্ষার্থী অসুস্থ হয় পড়ে। তখন তাকে ইবি মেডিকেলে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত তিনি অসুস্থ আছেন।’

শেষে প্রশাসনের নিকট তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উক্ত ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আবেদন জানান তিনি।

পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা যে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে সেটা আমি শুনিনি। কি অভিযোগ করেছে সেটাও জানিনা। ওই শিক্ষার্থীদেরকে তো আমরা চিনিই না। তাহলে হুমকি দিবো কিভাবে? শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়াই হচ্ছে আমাদের কাজ। সেই হিসেবে তাদেরকে সতর্ক করা। এর থেকে বেশি কিছু করার অধিকার তো আমাদের নেই।’

উপ-উপাচার্যের পিএস সোহেল রানা বলেন, ‘ঐদিন বিকালে বাজারে যেতে দেখি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনের রাস্তায় একটি বাইক আড়াআড়ি করে রাখা আছে। এসময় দুই শিক্ষার্থীর সাথে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন ও ওইদিন তদন্ত করতে আসা দুই র‍্যাব কর্মকর্তার সাথে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। ওই শিক্ষার্থীদের পরিচয় জিজ্ঞাস করলে পরিচয় না দিয়ে তারা উল্টো আমার উপর চড়াও হয়। এবং বলে আমি কে? আপনাকে উত্তর দিতে হবে নাকি? এরপর আমি তাদেরকে বোঝনোর চেষ্টা করলে তারা আমার উপর চড়াও হয়। আর বলে আপনারা যা করার করেন গিয়া।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমরা অভিযোগপত্র হাতে পেয়েছি। আমাদের মিটিং হয়েছে। যেহেতু পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তার জন্য যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য রেজিস্ট্রার বরাবর সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। হয়তো দুই একদিনের মধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হবে।