Dhaka , Saturday, 7 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
যমুনা ইলেকট্রনিক্সের ‘ডাবল খুশি অফার–সিজন ৪’ শুরু, ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হবে বিএনপির সংসদ সদস্যদের দ্বিতীয় দিনের কর্মশালা চলছে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন নিখোঁজের চারদিন পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে লিফটের ঘরে মিলল এক নারীর মৃতদেহ সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে চান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শামীমা আক্তার দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির ৩ সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল-পলাশ সারকারখার উৎপাদন বন্ধ মিতালী বাজার এসএসসি ২০২০ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ: ৫০টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবার পেল রমজানের উপহার। রূপগঞ্জের মুরাপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযান, মাদক কারবারিদের কঠোর হুঁশিয়ারি কক্সবাজারের রামু থেকে জাল টাকার সরঞ্জামসহ ডিবির হাতে যশোরের এক যুবক আটক পাইকগাছায় সেই মৎস্য ঘের নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চরমে; বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ খলিফা ওমরের আদর্শ অনুসরণ করে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো: এমপি আবুল কালাম আজাদ কুলাউড়ায় কানাডা পাঠানোর নামে কোটি টাকার প্রতারণা বাহুবল–নবীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি জহিরুল ইসলামের বদলি ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমান গ্রেফতার মহাকালের এক অলৌকিক যুদ্ধের সাক্ষী বদরের প্রান্তর রামগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে জামাতের সংবর্ধনা ও ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত। চট্টগ্রামে ড্যাবের ইফতার মাহফিলে ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার তথ্যমন্ত্রীর সফরকে বানচাল করতে ফ্যাসিবাদী দোসরদের সার্কিট হাউজে মব সৃষ্টি কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র বড় সাফল্য: ১৪ লক্ষাধিক টাকার শাড়ি ও জিরা জব্দ লালমনিরহাটে তরুণ সমাজের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তরুণদের সরব উপস্থিতি ছোট বোনকে কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে গলা কেটে হত্যা: রংপুরে র‍্যাবের জালে প্রধান আসামি কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র হানা: বিপুল পরিমাণ জিরা ও মাদক জব্দ লক্ষ্মীপুরে ঝগড়া থামাতে গিয়ে অটোরিকশা চালকের কিল-ঘুষিতে যুবদল নেতার মৃত্যু কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও টাকাসহ গ্রেফতার ৩ শরীয়তপুরের জাজিরায় অনুমোদনহীন সেমাই কারখানায় অভিযান, ১ লাখ জরিমানা চট্টগ্রামে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ইন্টারকম সেবা উদ্বোধন রূপগঞ্জে মাদদ্রব্যসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রামগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক সাংবাদিক মারাত্মক আহত রূপগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির সীমানা নির্ধারণে মাঠ পরিদর্শন করলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

মেহেরপুরে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে গবাদি পশু পালনকারীদের

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:40:54 pm, Wednesday, 7 July 2021
  • 211 বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুরে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে গবাদি পশু পালনকারীদের

 

মেহেরপুর থেকে জুরাইস ইসলাম ।।

গেল বছর করোনার কারণে মাত্র দুটি গরু বিক্রি করেছিলাম। লোকসানের ভয়ে বাকী গরু ফেরত আনা হয়। এক বছর ধরে গরুগুলি খাবার দিয়ে পালন করা হচ্ছে। এবারও যদি গরু না বিক্রি হয় তাহলে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হবে। এমনি ভাবে মতামত ব্যক্ত করছিলেন মেহেরপুরের গাংনীর সোনার বাংলা ফার্মের মালিক এনামুল হক। কোরবানীর জন্য তার খামারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৫ টি গরু। এ গরুগুলি ঢাকাতে না নিতে পারলে পথে বসবেন তিনি। শুধু এনামুল নয়, তার মতো কয়েক হাজার খামারী ও পশু পালনকারী লোকসান গুনবেন।


মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকার পশু পালনকারী ও খামারীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সবারই টার্গেট থাকে কোরবানীর ঈদ। কোরবানীর ঈদ পশু পালনকারিদের জন্য একটি বড় বাজার। সকলেই পালিত পশু বিক্রি করে বাছুর গরু কিনে লালন পালন শুরু করে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অনেক গবাদি পশু রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয় বিক্রির জন্য। তবে এবছর লকডাউনের কারনে স্থানীয় পশুহাটগুলিও বন্ধ করেছেন প্রশাসন। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে খামারিদের।
গাংনীর লাভলী এগ্রো ফার্ম এর মালিক সুলতান মাহমুদ শান্ত জানায়, তার খামারে রয়েছে ১০ টি হরিয়ান ও নেপালী জাতের গরু। প্রতিটি গরুর দাম অন্ততঃ ৫ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা। গেল বছর স্থানীয় ব্যাপারীরা খামারে এসে গরু কিনেছিল। এবার পশু হাট বন্ধ হওয়ায় কেউ আসছেনা। আবার ঢাকাতে নিয়ে যেতে না পারলে মোটা অংকের লোকসান গুণতে হবে।
বামুন্দির বালিয়া ঘাট গ্রামের জেএ এগ্রো ফার্ম এর মালিক সাইদুর রহমান জানান, তিনি কোরবানির ঈদের জন্য খামারে ২২ টি গরু পালন করেছেন। দু,দিন আগে বিক্রি করেছেন তিনটি গুরু । বিক্রিয়কৃত একেকটি গরুর ওজন হবে ১২ থেকে ১৩ মন। দাম পেয়েছেন দুই লাখ আশি হাজার। তবে পরিস্থিতি সাভাবিক থাকলে আরো বেশি দামে বিক্রি করতে পারতেন। তার খামারে আরো ৭ টি বড় গরু রয়েছে যার ওজন হবে ১৬ থেকে ১৮মন। এদেরকে তিনি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পস্তত করছেন।
মেহেরপুর জেলা ডেইরী এসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল হক বলেন, এক বছর লালন পালন ও পরিচর্যা করে অনেক খামারিদের স্বপ্ন কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করবেন। বাজার পরিস্থিতি ভাল না হলে লোকসান গুনতে হবে প্রতিটি খামারিদের। বাইরের ব্যাপারিদের সাথে অনেকেরই কথা হয়েছে। পরিবেশ না বদলালে তারা জেলায় পশু কিনতে আসবেন না। তবে পরিস্থিতি কি হবে তাও বলা যাচ্ছেনা। ঈদের এখনো বেশ কিছুদিন বাকী । সকলেই প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ৩০ হাজার খামারী কোরবানীর বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তত করেছেন ১ লাখ,৮৩ হাজার ৫৬৯ টি গবাদি পশু। এর মধ্যে গরু প্রস্তত রয়েছে ৫৭ হাজার ২৮৭ টি, ছাগল একলাখ ২২ হাজার ৯৯৪টি, ভেড়া দু হাজার ৭১২টি এবং মহিষ রয়েছে ৫৭৬ টি। আমাদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগীতায় খামারিরা গবাদি পশু পালনে সফল হয়েছেন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় তা বিক্রি করে মোটা টাকা আয় করেন। গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে অনেককেই লোকসানের মধ্যে পড়তে হয়েছে। এবছর এলাকাতে গরু মহিষের দাম ভাল আশা করি খামারিরা লাভবান হবে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান বলেন, দেশে এখন কঠোর লকডাউন চলছে। কোবরানির বাজারে খামারিরা তাদের গবাদিপশু বিক্রি করবেন। মেহেরপুর জেলায় গতবছর আমরা একটি অনলাইন পশু হাট চালু করেছি। এবছরও সেটি চালু রয়েছে। অনেকেই অনলাইনের মাধ্যমে বেচাকেনা করছেন। কোরবানির পশু হাটের ওপর সরকারি নির্দেশনা এখনো পাইনি। পেলে জানানো হবে।

 

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনা ইলেকট্রনিক্সের ‘ডাবল খুশি অফার–সিজন ৪’ শুরু, ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হবে

মেহেরপুরে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে গবাদি পশু পালনকারীদের

আপডেট সময় : 02:40:54 pm, Wednesday, 7 July 2021

 

মেহেরপুর থেকে জুরাইস ইসলাম ।।

গেল বছর করোনার কারণে মাত্র দুটি গরু বিক্রি করেছিলাম। লোকসানের ভয়ে বাকী গরু ফেরত আনা হয়। এক বছর ধরে গরুগুলি খাবার দিয়ে পালন করা হচ্ছে। এবারও যদি গরু না বিক্রি হয় তাহলে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হবে। এমনি ভাবে মতামত ব্যক্ত করছিলেন মেহেরপুরের গাংনীর সোনার বাংলা ফার্মের মালিক এনামুল হক। কোরবানীর জন্য তার খামারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৫ টি গরু। এ গরুগুলি ঢাকাতে না নিতে পারলে পথে বসবেন তিনি। শুধু এনামুল নয়, তার মতো কয়েক হাজার খামারী ও পশু পালনকারী লোকসান গুনবেন।


মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকার পশু পালনকারী ও খামারীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সবারই টার্গেট থাকে কোরবানীর ঈদ। কোরবানীর ঈদ পশু পালনকারিদের জন্য একটি বড় বাজার। সকলেই পালিত পশু বিক্রি করে বাছুর গরু কিনে লালন পালন শুরু করে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অনেক গবাদি পশু রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয় বিক্রির জন্য। তবে এবছর লকডাউনের কারনে স্থানীয় পশুহাটগুলিও বন্ধ করেছেন প্রশাসন। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে খামারিদের।
গাংনীর লাভলী এগ্রো ফার্ম এর মালিক সুলতান মাহমুদ শান্ত জানায়, তার খামারে রয়েছে ১০ টি হরিয়ান ও নেপালী জাতের গরু। প্রতিটি গরুর দাম অন্ততঃ ৫ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা। গেল বছর স্থানীয় ব্যাপারীরা খামারে এসে গরু কিনেছিল। এবার পশু হাট বন্ধ হওয়ায় কেউ আসছেনা। আবার ঢাকাতে নিয়ে যেতে না পারলে মোটা অংকের লোকসান গুণতে হবে।
বামুন্দির বালিয়া ঘাট গ্রামের জেএ এগ্রো ফার্ম এর মালিক সাইদুর রহমান জানান, তিনি কোরবানির ঈদের জন্য খামারে ২২ টি গরু পালন করেছেন। দু,দিন আগে বিক্রি করেছেন তিনটি গুরু । বিক্রিয়কৃত একেকটি গরুর ওজন হবে ১২ থেকে ১৩ মন। দাম পেয়েছেন দুই লাখ আশি হাজার। তবে পরিস্থিতি সাভাবিক থাকলে আরো বেশি দামে বিক্রি করতে পারতেন। তার খামারে আরো ৭ টি বড় গরু রয়েছে যার ওজন হবে ১৬ থেকে ১৮মন। এদেরকে তিনি ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পস্তত করছেন।
মেহেরপুর জেলা ডেইরী এসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল হক বলেন, এক বছর লালন পালন ও পরিচর্যা করে অনেক খামারিদের স্বপ্ন কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করবেন। বাজার পরিস্থিতি ভাল না হলে লোকসান গুনতে হবে প্রতিটি খামারিদের। বাইরের ব্যাপারিদের সাথে অনেকেরই কথা হয়েছে। পরিবেশ না বদলালে তারা জেলায় পশু কিনতে আসবেন না। তবে পরিস্থিতি কি হবে তাও বলা যাচ্ছেনা। ঈদের এখনো বেশ কিছুদিন বাকী । সকলেই প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ৩০ হাজার খামারী কোরবানীর বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তত করেছেন ১ লাখ,৮৩ হাজার ৫৬৯ টি গবাদি পশু। এর মধ্যে গরু প্রস্তত রয়েছে ৫৭ হাজার ২৮৭ টি, ছাগল একলাখ ২২ হাজার ৯৯৪টি, ভেড়া দু হাজার ৭১২টি এবং মহিষ রয়েছে ৫৭৬ টি। আমাদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগীতায় খামারিরা গবাদি পশু পালনে সফল হয়েছেন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় তা বিক্রি করে মোটা টাকা আয় করেন। গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে অনেককেই লোকসানের মধ্যে পড়তে হয়েছে। এবছর এলাকাতে গরু মহিষের দাম ভাল আশা করি খামারিরা লাভবান হবে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান বলেন, দেশে এখন কঠোর লকডাউন চলছে। কোবরানির বাজারে খামারিরা তাদের গবাদিপশু বিক্রি করবেন। মেহেরপুর জেলায় গতবছর আমরা একটি অনলাইন পশু হাট চালু করেছি। এবছরও সেটি চালু রয়েছে। অনেকেই অনলাইনের মাধ্যমে বেচাকেনা করছেন। কোরবানির পশু হাটের ওপর সরকারি নির্দেশনা এখনো পাইনি। পেলে জানানো হবে।