Dhaka , Saturday, 16 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জামায়াত আমিরের ইরান-আমিরাত সমঝোতায় ভারতের মধ্যস্থতা চায় রাশিয়া উন্নয়নমূলক কাজের মানে কাউকে ছাড় নয়: ডেপুটি স্পিকার রূপগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে নারী-পুরুষের মরদেহ উদ্ধার আম গাছ থেকে পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু নিখোঁজের ২৭ ঘণ্টা পর নদী থেকে হোসেন’র মরদেহ উদ্ধার সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বনদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধ, আটক  ফেনীতে যুবদলে বিতর্কের ঝড়, অস্বস্তিতে বিএনপি জনগণের কল্যাণেই সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন নেতৃত্বে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, ভিসি হলেন চবি’র অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন মোংলায় ট্রলার থেকে পড়ে যুবক নিখোঁজ মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন সরকার শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিভা বিকাশের ধারা শক্তিশালী করতে চায়:- প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল তিস্তা সেতু দিয়ে পাচারকালে দুই কোটি টাকার ডলারসহ কুড়িগ্রামের যুবক গ্রেপ্তার বিদেশ ফেরত ক্ষতিগ্রস্ত নারী অভিবাসী কর্মীদের মাঝে- আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ওকাপের ছাগল বিতরণ। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে :- ডা. শাহাদাত হোসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজার পর কোতোয়ালীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল, যুবলীগ নেতাসহ ১৯ জন গ্রেফতার, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হালিশহরে শীর্ষ ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ পাখির আস্তানা গুড়িয়ে দিল র‍্যাব ৭ চট্টগ্রাম মীরসরাই থানা পুলিশের অভিযানে ৮২ কেজি গাঁজাসহ ১ জন গ্রেফতার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলা বিশেষ শাখার কর্মকর্তাদের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খোঁজা প্রয়োজন:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পাইকগাছায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে পৌর প্রশাসক পাইকগাছায় আধুনিক প্লান্টে মনুষ্য বর্জ্য পরিশোধন শুরু; কার্যক্রম মনিটরিংয়ে ইউএনও পাইকগাছায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরুর খামার পরিচালনা; খামারিকে জরিমানা পাইকগাছায় ভূমিহীনদের বসতভিটা দখলচেষ্টার অভিযোগে ইউএনও’র কাছে আবেদন জামায়াত আমির ও ইইউ রাষ্ট্রদূতের মধ্যে কী আলোচনা হলো হামে আক্রান্ত যমজ শিশু হাসান-হোসেনের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে হোটেলে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৬ গ্যাস বিস্ফোরণে বাবার পর একে একে মারা গেল ৩ ভাইবোন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলায় রাজাপুরের বালক-বালিকা দল চ্যাম্পিয়ন

সেবা নয়, ঘুষই নিয়ম শ্রীপুর ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:43:05 pm, Tuesday, 6 May 2025
  • 113 বার পড়া হয়েছে

সেবা নয়, ঘুষই নিয়ম শ্রীপুর ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব

এম এইচ হৃদয় খান গাজীপুর প্রতিনিধি
দলিল নেই, দখল নেই, এমনকি মামলা চলমান—এসব কিছুই যেন কোনও বাধা নয়। ঘুষের টাকায় শ্রীপুরে ভূমি নামজারি এখন ‘হাতের মুঠোয়’। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসিল্যান্ড ও ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, যারা সরকারি জমি থেকে শুরু করে রাস্তার জমিও বিক্রি করে দিচ্ছে অবলীলায়।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর রাজাবাড়ি গ্রামের শামসুন্নাহার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক: ১৭৫০২ নম্বরে অভিযোগ করেন—তার ভাই বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মাত্র ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করে নেন। অথচ অভিযোগকারী শুনানির আবেদন করলেও, তা উপেক্ষিত হয়।
শুধু তাই নয়, গজারিয়া গ্রামের মো. সেলিম গং ২০১৬ সালের দেওয়ানি মামলা (নং: ২৫২/১৬) চলাকালেও এসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল মামুন বিপরীত পক্ষের নামে নামজারি সম্পন্ন করেন। এভাবে মামলার রায় না হয়েই মালিকানা বদলে যাচ্ছে বারবার। সূর্যনারায়ণপুরের জহিরুল হোসেনের ক্ষেত্রেও ২০১৩ সালে একই কৌশলে জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়।
আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ এসেছে ‘অর্পিত ক গেজেটভুক্ত’ জমি নিয়েও। ২০২৩ সালে বিমল চন্দ্র দাস এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যেখানে ‘সরকারি খাস জমি’ শ্রেণি বদল করে বেসরকারি দখলে নেওয়া হয়। এসএ শাখা ইউএনও’র কাছে প্রতিবেদন চাইলেও স্মারক ১৯৩৮-এর জবাব আজও আসেনি।
রাস্তা থেকেও প্লট বানানো হচ্ছে! ধলাদিয়ার জহিরুল ইসলামের ‘রাস্তা শ্রেণিভুক্ত’ জমিকে ‘চালা’ হিসেবে দেখিয়ে নামজারি করা হয়। জড়িত ছিলেন তৎকালীন এসিল্যান্ড রেহেনা আক্তার ও উপসহকারী কর্মকর্তা নূর এ আলম।
এমনকি একই জমিতে একাধিক ব্যক্তির নামে নামজারি দেওয়া হচ্ছে—যেমন রাজা মিয়ার জমির ক্ষেত্রে, যেখানে তার আবেদন উপেক্ষা করে অন্যের নামে মালিকানা দেওয়া হয়। এটা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।
ভূমি অফিসের কাণ্ডজ্ঞান এতটাই ভয়াবহ যে, মূল ভলিউম বই পর্যন্ত কাঁচি ও প্রিন্টআউটের মাধ্যমে বদলে ফেলা হয়! সাবেক সহকারী কর্মকর্তা এম এ মান্নান এবং অফিস সহায়ক মনিরুজ্জামান মনির এই জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্যরা হলেন:
আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেহেনা আক্তার, উজ্জ্বল হালদার (সাবেক এসিল্যান্ড)
> আতাহার শাকিল (বর্তমান এসিল্যান্ড, ছুটিতে দেশের বাইরে)
> এম এ মান্নান (সাবেক সহকারী কর্মকর্তা)
> মনিরুজ্জামান মনির (অফিস সহায়ক)
> নূর এ আলম (উপসহকারী কর্মকর্তা)
এসএ শাখার কর্মকর্তা খলিউর রহমান বলেন, “আমরা ইউএনও অফিসে স্মারক ১৯৩৮-এর মাধ্যমে প্রতিবেদন চেয়েছিলাম, আজও কোনো জবাব পাইনি।”
বর্তমান এসিল্যান্ড আতাহার শাকিল ছুটিতে বিদেশে রয়েছেন। সরকারি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বাংলাভূমিকে জানান, “আমি জানার পর অভিযোগকারীসহ সবাইকে নোটিশ দিয়েছি। বাকি অভিযোগগুলোর নথিপত্র পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জামায়াত আমিরের

সেবা নয়, ঘুষই নিয়ম শ্রীপুর ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব

আপডেট সময় : 02:43:05 pm, Tuesday, 6 May 2025
এম এইচ হৃদয় খান গাজীপুর প্রতিনিধি
দলিল নেই, দখল নেই, এমনকি মামলা চলমান—এসব কিছুই যেন কোনও বাধা নয়। ঘুষের টাকায় শ্রীপুরে ভূমি নামজারি এখন ‘হাতের মুঠোয়’। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসিল্যান্ড ও ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, যারা সরকারি জমি থেকে শুরু করে রাস্তার জমিও বিক্রি করে দিচ্ছে অবলীলায়।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর রাজাবাড়ি গ্রামের শামসুন্নাহার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক: ১৭৫০২ নম্বরে অভিযোগ করেন—তার ভাই বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মাত্র ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করে নেন। অথচ অভিযোগকারী শুনানির আবেদন করলেও, তা উপেক্ষিত হয়।
শুধু তাই নয়, গজারিয়া গ্রামের মো. সেলিম গং ২০১৬ সালের দেওয়ানি মামলা (নং: ২৫২/১৬) চলাকালেও এসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল মামুন বিপরীত পক্ষের নামে নামজারি সম্পন্ন করেন। এভাবে মামলার রায় না হয়েই মালিকানা বদলে যাচ্ছে বারবার। সূর্যনারায়ণপুরের জহিরুল হোসেনের ক্ষেত্রেও ২০১৩ সালে একই কৌশলে জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়।
আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ এসেছে ‘অর্পিত ক গেজেটভুক্ত’ জমি নিয়েও। ২০২৩ সালে বিমল চন্দ্র দাস এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যেখানে ‘সরকারি খাস জমি’ শ্রেণি বদল করে বেসরকারি দখলে নেওয়া হয়। এসএ শাখা ইউএনও’র কাছে প্রতিবেদন চাইলেও স্মারক ১৯৩৮-এর জবাব আজও আসেনি।
রাস্তা থেকেও প্লট বানানো হচ্ছে! ধলাদিয়ার জহিরুল ইসলামের ‘রাস্তা শ্রেণিভুক্ত’ জমিকে ‘চালা’ হিসেবে দেখিয়ে নামজারি করা হয়। জড়িত ছিলেন তৎকালীন এসিল্যান্ড রেহেনা আক্তার ও উপসহকারী কর্মকর্তা নূর এ আলম।
এমনকি একই জমিতে একাধিক ব্যক্তির নামে নামজারি দেওয়া হচ্ছে—যেমন রাজা মিয়ার জমির ক্ষেত্রে, যেখানে তার আবেদন উপেক্ষা করে অন্যের নামে মালিকানা দেওয়া হয়। এটা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।
ভূমি অফিসের কাণ্ডজ্ঞান এতটাই ভয়াবহ যে, মূল ভলিউম বই পর্যন্ত কাঁচি ও প্রিন্টআউটের মাধ্যমে বদলে ফেলা হয়! সাবেক সহকারী কর্মকর্তা এম এ মান্নান এবং অফিস সহায়ক মনিরুজ্জামান মনির এই জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্যরা হলেন:
আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেহেনা আক্তার, উজ্জ্বল হালদার (সাবেক এসিল্যান্ড)
> আতাহার শাকিল (বর্তমান এসিল্যান্ড, ছুটিতে দেশের বাইরে)
> এম এ মান্নান (সাবেক সহকারী কর্মকর্তা)
> মনিরুজ্জামান মনির (অফিস সহায়ক)
> নূর এ আলম (উপসহকারী কর্মকর্তা)
এসএ শাখার কর্মকর্তা খলিউর রহমান বলেন, “আমরা ইউএনও অফিসে স্মারক ১৯৩৮-এর মাধ্যমে প্রতিবেদন চেয়েছিলাম, আজও কোনো জবাব পাইনি।”
বর্তমান এসিল্যান্ড আতাহার শাকিল ছুটিতে বিদেশে রয়েছেন। সরকারি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বাংলাভূমিকে জানান, “আমি জানার পর অভিযোগকারীসহ সবাইকে নোটিশ দিয়েছি। বাকি অভিযোগগুলোর নথিপত্র পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।