প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৯, ২০২৫, ১০:৩৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৬, ২০২৫, ২:৪৩ পি.এম

এম এইচ হৃদয় খান গাজীপুর প্রতিনিধি
দলিল নেই, দখল নেই, এমনকি মামলা চলমান—এসব কিছুই যেন কোনও বাধা নয়। ঘুষের টাকায় শ্রীপুরে ভূমি নামজারি এখন ‘হাতের মুঠোয়’। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসিল্যান্ড ও ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে এক সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, যারা সরকারি জমি থেকে শুরু করে রাস্তার জমিও বিক্রি করে দিচ্ছে অবলীলায়।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর রাজাবাড়ি গ্রামের শামসুন্নাহার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক: ১৭৫০২ নম্বরে অভিযোগ করেন—তার ভাই বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মাত্র ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করে নেন। অথচ অভিযোগকারী শুনানির আবেদন করলেও, তা উপেক্ষিত হয়।
শুধু তাই নয়, গজারিয়া গ্রামের মো. সেলিম গং ২০১৬ সালের দেওয়ানি মামলা (নং: ২৫২/১৬) চলাকালেও এসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল মামুন বিপরীত পক্ষের নামে নামজারি সম্পন্ন করেন। এভাবে মামলার রায় না হয়েই মালিকানা বদলে যাচ্ছে বারবার। সূর্যনারায়ণপুরের জহিরুল হোসেনের ক্ষেত্রেও ২০১৩ সালে একই কৌশলে জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়।
আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ এসেছে ‘অর্পিত ক গেজেটভুক্ত’ জমি নিয়েও। ২০২৩ সালে বিমল চন্দ্র দাস এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যেখানে ‘সরকারি খাস জমি’ শ্রেণি বদল করে বেসরকারি দখলে নেওয়া হয়। এসএ শাখা ইউএনও’র কাছে প্রতিবেদন চাইলেও স্মারক ১৯৩৮-এর জবাব আজও আসেনি।
রাস্তা থেকেও প্লট বানানো হচ্ছে! ধলাদিয়ার জহিরুল ইসলামের ‘রাস্তা শ্রেণিভুক্ত’ জমিকে ‘চালা’ হিসেবে দেখিয়ে নামজারি করা হয়। জড়িত ছিলেন তৎকালীন এসিল্যান্ড রেহেনা আক্তার ও উপসহকারী কর্মকর্তা নূর এ আলম।
এমনকি একই জমিতে একাধিক ব্যক্তির নামে নামজারি দেওয়া হচ্ছে—যেমন রাজা মিয়ার জমির ক্ষেত্রে, যেখানে তার আবেদন উপেক্ষা করে অন্যের নামে মালিকানা দেওয়া হয়। এটা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।
ভূমি অফিসের কাণ্ডজ্ঞান এতটাই ভয়াবহ যে, মূল ভলিউম বই পর্যন্ত কাঁচি ও প্রিন্টআউটের মাধ্যমে বদলে ফেলা হয়! সাবেক সহকারী কর্মকর্তা এম এ মান্নান এবং অফিস সহায়ক মনিরুজ্জামান মনির এই জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্যরা হলেন:
আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেহেনা আক্তার, উজ্জ্বল হালদার (সাবেক এসিল্যান্ড)
> আতাহার শাকিল (বর্তমান এসিল্যান্ড, ছুটিতে দেশের বাইরে)
> এম এ মান্নান (সাবেক সহকারী কর্মকর্তা)
> মনিরুজ্জামান মনির (অফিস সহায়ক)
> নূর এ আলম (উপসহকারী কর্মকর্তা)
এসএ শাখার কর্মকর্তা খলিউর রহমান বলেন, “আমরা ইউএনও অফিসে স্মারক ১৯৩৮-এর মাধ্যমে প্রতিবেদন চেয়েছিলাম, আজও কোনো জবাব পাইনি।”
বর্তমান এসিল্যান্ড আতাহার শাকিল ছুটিতে বিদেশে রয়েছেন। সরকারি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বাংলাভূমিকে জানান, “আমি জানার পর অভিযোগকারীসহ সবাইকে নোটিশ দিয়েছি। বাকি অভিযোগগুলোর নথিপত্র পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।