
নিজস্ব প্রতিবেদক,
দনিয়া-মাতুয়াইল ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের গডফাদার কর্মকর্তা সঞ্জীব ও আসাদুজ্জামান সেবা নিতে বাধ্যতামূলক দালাল ধরতে হয়,
তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো প্রক্রিয়া সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে ভড়কে গেলেন সঞ্জীব,উত্তেজিত আচরণ করলেন আসাদুজ্জামান ভূমি সেবা নিতে আসা জনগণকে হয়রানি করে প্রতি মাসেই কামিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা।
রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন ধোলাইপাড় এলাকায় অবস্থিত মতিঝিল রাজস্ব সার্কেলের দনিয়া ভূমি অফিস এবং ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের মাতুয়াইল ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ করে আসছেন সেবা প্রত্যাশীরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হলে নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করতে হয়, অন্যথায় ফাইল আটকে রাখা বা হয়রানির শিকার হতে হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অফিস প্রাঙ্গণের ভেতর-বাইরে সক্রিয় কিছু দালাল সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা আদায় করছে। সূত্র জানায়, এসব দালাল সরাসরি সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ পরিচালনা করে এবং পুরো ঘুষ লেনদেনের ‘চাবিকাঠি’ হিসেবে কাজ করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দালাল ছাড়া কাজ করতে গেলে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও হয়রানির শিকার হতে হয়।
ভূমি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের সহযোগিতায় দালালচক্রের মাধ্যমে রেকর্ড রুমের কার্যক্রম পরিচালনা, ঘুষ বাণিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তথ্য সংগ্রহ গিয়ে দেখা যায় দালালদের মাধ্যমে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পর্চা ও খতিয়ানের কাজ সম্পন্ন করা হয়। সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত থাকলেও রেকর্ড রুমে দালালদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। চিত্র ও তথ্য ধারণের সময় বহিরাগত দালাল ও সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় ।
কর্মকর্তা সঞ্জীবের কাছে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দৃশ্যত বিব্রত হয়ে পড়েন এবং স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে ফুটেজে দেখা যায়। এ সময় পাশে থাকা ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের মাতুয়াইল ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান হঠাৎ উত্তেজিত আচরণ করেন, যা ভিডিওচিত্রে ধারণ হয়েছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ভূমি অফিস দুটিতে প্রতিটি সেবা ঘিরেই অঘোষিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে এবং স্থানীয় কিছু দালালকে ব্যবহার করে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, দালালদের মাধ্যমে অনেক সময় সেবা প্রত্যাশীদের ভয়ভীতি দেখানো বা চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটে।
সূত্র আরও জানায়, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এর আগে বাড্ডায় কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তার বিরুদ্ধে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে সাংবাদিকদের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে স্থানীয় লোকজন দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, বর্তমান কর্মস্থলেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে তিনি আরও সক্রিয় হয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
























