Dhaka , Saturday, 14 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় মুক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে র‌্যালি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)’র কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে আওয়ামী সমাবেশ আয়োজনের অপচেষ্টা রোধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহ্বান। রামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে খালেদা জিয়ার বিদ্রোহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল পাইকগাছায় অবৈধ জাল জব্দ; পোনা নদীতে অবমুক্ত ১০ কেজির বদলে ৮ কেজি: রূপগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ বেগমগঞ্জের গোপালপুর ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত  রাজাপুরে চাঁদাবাজির মামলার দুই আসামি গ্রেফতার আতঙ্কের সাম্রাজ্য ফারাজ করিম, মানবিকতার মুখোশে অভিযোগের পাহাড় চট্টগ্রামে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় থেকে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ ০৫ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-৭,চট্টগ্রাম শ্রীপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার রামু গর্জনিয়ায় তাঁতীদলের আয়োজনে দোয়া ও মাহফিল ইফতার সম্পন্ন ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দুর্গাপুর উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান বলে দেশীয় শাড়ি-থ্রি-পিস বিক্রি হিলি বাজারে ভোক্তা অধিকার অভিযানে জরিমানা ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ লালমনিরহাট: বায়ুদূষণ রোধে মাঠে নামলো ভ্রাম্যমাণ আদালত লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়াড়ি চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার: ডিবির অভিযানে মোবাইল ও সিম জব্দ পাইকগাছায় ওয়াশ ফর আপ-২ প্রকল্পের কর্মশালা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় গ্রাম সমিতির নবনির্মিত অফিস ভবন উদ্বোধন রংপুরের পীরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: নারায়ণগঞ্জে র‍্যাবের যৌথ অভিযানে প্রধান আসামি গ্রেফতার কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৫ বিজিবি’র অভিযান: ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ি ও মাদক উদ্ধার গুলির ভয় দেখিয়ে গারো পরিবারের বাড়ি ঘর ভাঙার অভিযোগ আর্থিক সহায়তা পেল ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পবিত্র রমজানে বাংলাদেশজুড়ে ১০ হাজার অসহায় পরিবারের পাশে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন সাভার আশুলিয়ায় দারুল ইহসান ট্রাস্টের ভু-সম্পত্তি ও মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র সংঘাত, সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো নোয়াখালীতে বিয়ের ফাঁদে ফেলে স্বামী পরিত্যাক্তা নারীকে গণধর্ষণ নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থান হলে সালিশ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করবে না: এমপি ফখরুল ইসলাম “আল আমিন শিশু একাডেমির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত” ইবিতে শিক্ষার্থীদের সম্মানে শহীদ আনাস হল ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল পাইকগাছায় খুচরা তেল বিক্রেতাদের ওপর প্রশাসনের মনিটরিং মধুপুর থানার উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া   মাহফিল অনুষ্ঠিত বিশ্ব নারী দিবসে বিএইচআরএফ’র ‘স্বনির্ভর নারী’ কর্মসূচির আওতায় সেলাই মেশিন বিতরণ

সদরপুরে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:10:20 pm, Saturday, 2 September 2023
  • 217 বার পড়া হয়েছে

সদরপুরে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন।।

শিমুল তালুকদার

 সদরপুর ।।

 

ফরিদপুরের সদরপুরের দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পদ্মায় নদী ভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণের ফলে তীব্র ¯্রােতে নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে ইউনিয়টির প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা পাড়ের শত শত ঘর, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। সব হারিয়ে ভাঙনকবলিতরা আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় স্কুল ঘর ও খোলা মাঠে। সেই সাথে খাদ্য, চিকিৎসা, বিদ্যুৎসহ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সংকট। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না কোন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বলে জানায় স্থানীয়রা।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ কালে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র ¯্রােতে ইউনিয়নটির নন্দলাপুর, নুরুদ্দিন সরদারের কান্দি, জহুরুল হক বেপারীর কান্দি ও কুদ্দুস মোল্যার কান্দি গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়া নদী ভাঙনের শঙ্কায় পদ্মার পাড় থেকে সরে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। নদী ভাঙনের ফলে ইউনিয়নটিতে প্রায় ১০ দিন যাবত বিছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ভাঙন রোধে এখনো নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।

ইউনিয়নের নন্দলাপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ বেলাল জানান, গত সোমবার (২৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে আমাদের গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে আমার ও আমার প্রতিবেসীদের বাড়ি ভাঙ্গা শুরু হয়। আমরা আমাদের ছেলে-মেয়ে, গরু-ছাগল ও ঘরের মালামাল নিয়ে বেরিয়ে আসি। তাড়াহুড়ো করে ঘরের কিছু অংশ ভেঙে এনেছিলাম তা দিয়েই পরিবার নিয়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নিয়েছি। এখন আমরা খুব অসহায় অবস্থায় দিন পার করছি।

নুরুদ্দিন সরদার কান্দি গ্রামের ইলিয়াস আলী বলেন, নদীতে আমাদের সব নিয়ে গেছে। এদিকে আমাদের কোন কর্মও নেই। পরিবার নিয়ে অর্ধ অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। এখনো সরকারি ভাবে কোন সাহায্য সহযোগীতা পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য চাই।

কুদ্দুস মোল্যার কান্দি গ্রামের রহিমা খাতুন জানান, সন্তানদের নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে এলাকাবাসীর ডাক-চিৎকার শুনে বাইরে আসি। দেখি নদীতে সবকিছু বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমার স্বামী, সন্তান নিয়ে দ্রæত ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে নিতেই সব শেষ হয়ে যায়। এখন খুব অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছি। আমি ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান প্রার্থনা করছি, যাতে আর কেউ ভিটা-মাটি হারা না হয়।

নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাসির হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়নটি পদ্মা নদী বেষ্টিত হওয়ায় প্রতি বছরই ভাঙনের শিকার হয়। আমি ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে আবেদন করেছি। আসা করছি ভাঙন রোধে খুব শীঘ্রই সরকার কার্যকারী পদক্ষেপ নিবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউনিয়নে প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ ভাঙন কবলিত রয়েছে। আমরা তাদের নামের তালিকা করে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগীতা করার প্রস্তুতি নিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি- এই কাজ চলমান রয়েছে। আমরা দ্রæত ভাঙন কবলিতদের পাশে দাড়াবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিমুল তালুকদার , সদরপুর থেকেঃ

ফরিদপুরের সদরপুরের দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পদ্মায় নদী ভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণের ফলে তীব্র ¯্রােতে নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে ইউনিয়টির প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা পাড়ের শত শত ঘর, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। সব হারিয়ে ভাঙনকবলিতরা আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় স্কুল ঘর ও খোলা মাঠে। সেই সাথে খাদ্য, চিকিৎসা, বিদ্যুৎসহ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সংকট। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না কোন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বলে জানায় স্থানীয়রা।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ কালে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র ¯্রােতে ইউনিয়নটির নন্দলাপুর, নুরুদ্দিন সরদারের কান্দি, জহুরুল হক বেপারীর কান্দি ও কুদ্দুস মোল্যার কান্দি গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়া নদী ভাঙনের শঙ্কায় পদ্মার পাড় থেকে সরে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। নদী ভাঙনের ফলে ইউনিয়নটিতে প্রায় ১০ দিন যাবত বিছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ভাঙন রোধে এখনো নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।

ইউনিয়নের নন্দলাপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ বেলাল জানান, গত সোমবার (২৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে আমাদের গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে আমার ও আমার প্রতিবেসীদের বাড়ি ভাঙ্গা শুরু হয়। আমরা আমাদের ছেলে-মেয়ে, গরু-ছাগল ও ঘরের মালামাল নিয়ে বেরিয়ে আসি। তাড়াহুড়ো করে ঘরের কিছু অংশ ভেঙে এনেছিলাম তা দিয়েই পরিবার নিয়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নিয়েছি। এখন আমরা খুব অসহায় অবস্থায় দিন পার করছি।

নুরুদ্দিন সরদার কান্দি গ্রামের ইলিয়াস আলী বলেন, নদীতে আমাদের সব নিয়ে গেছে। এদিকে আমাদের কোন কর্মও নেই। পরিবার নিয়ে অর্ধ অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। এখনো সরকারি ভাবে কোন সাহায্য সহযোগীতা পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য চাই।

কুদ্দুস মোল্যার কান্দি গ্রামের রহিমা খাতুন জানান, সন্তানদের নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে এলাকাবাসীর ডাক-চিৎকার শুনে বাইরে আসি। দেখি নদীতে সবকিছু বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমার স্বামী, সন্তান নিয়ে দ্রæত ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে নিতেই সব শেষ হয়ে যায়। এখন খুব অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছি। আমি ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান প্রার্থনা করছি, যাতে আর কেউ ভিটা-মাটি হারা না হয়।

নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাসির হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়নটি পদ্মা নদী বেষ্টিত হওয়ায় প্রতি বছরই ভাঙনের শিকার হয়। আমি ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে আবেদন করেছি। আসা করছি ভাঙন রোধে খুব শীঘ্রই সরকার কার্যকারী পদক্ষেপ নিবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউনিয়নে প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ ভাঙন কবলিত রয়েছে। আমরা তাদের নামের তালিকা করে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগীতা করার প্রস্তুতি নিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি- এই কাজ চলমান রয়েছে। আমরা দ্রæত ভাঙন কবলিতদের পাশে দাড়াবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় মুক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

সদরপুরে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন।।

আপডেট সময় : 05:10:20 pm, Saturday, 2 September 2023

শিমুল তালুকদার

 সদরপুর ।।

 

ফরিদপুরের সদরপুরের দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পদ্মায় নদী ভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণের ফলে তীব্র ¯্রােতে নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে ইউনিয়টির প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা পাড়ের শত শত ঘর, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। সব হারিয়ে ভাঙনকবলিতরা আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় স্কুল ঘর ও খোলা মাঠে। সেই সাথে খাদ্য, চিকিৎসা, বিদ্যুৎসহ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সংকট। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না কোন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বলে জানায় স্থানীয়রা।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ কালে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র ¯্রােতে ইউনিয়নটির নন্দলাপুর, নুরুদ্দিন সরদারের কান্দি, জহুরুল হক বেপারীর কান্দি ও কুদ্দুস মোল্যার কান্দি গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়া নদী ভাঙনের শঙ্কায় পদ্মার পাড় থেকে সরে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। নদী ভাঙনের ফলে ইউনিয়নটিতে প্রায় ১০ দিন যাবত বিছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ভাঙন রোধে এখনো নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।

ইউনিয়নের নন্দলাপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ বেলাল জানান, গত সোমবার (২৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে আমাদের গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে আমার ও আমার প্রতিবেসীদের বাড়ি ভাঙ্গা শুরু হয়। আমরা আমাদের ছেলে-মেয়ে, গরু-ছাগল ও ঘরের মালামাল নিয়ে বেরিয়ে আসি। তাড়াহুড়ো করে ঘরের কিছু অংশ ভেঙে এনেছিলাম তা দিয়েই পরিবার নিয়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নিয়েছি। এখন আমরা খুব অসহায় অবস্থায় দিন পার করছি।

নুরুদ্দিন সরদার কান্দি গ্রামের ইলিয়াস আলী বলেন, নদীতে আমাদের সব নিয়ে গেছে। এদিকে আমাদের কোন কর্মও নেই। পরিবার নিয়ে অর্ধ অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। এখনো সরকারি ভাবে কোন সাহায্য সহযোগীতা পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য চাই।

কুদ্দুস মোল্যার কান্দি গ্রামের রহিমা খাতুন জানান, সন্তানদের নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে এলাকাবাসীর ডাক-চিৎকার শুনে বাইরে আসি। দেখি নদীতে সবকিছু বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমার স্বামী, সন্তান নিয়ে দ্রæত ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে নিতেই সব শেষ হয়ে যায়। এখন খুব অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছি। আমি ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান প্রার্থনা করছি, যাতে আর কেউ ভিটা-মাটি হারা না হয়।

নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাসির হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়নটি পদ্মা নদী বেষ্টিত হওয়ায় প্রতি বছরই ভাঙনের শিকার হয়। আমি ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে আবেদন করেছি। আসা করছি ভাঙন রোধে খুব শীঘ্রই সরকার কার্যকারী পদক্ষেপ নিবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউনিয়নে প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ ভাঙন কবলিত রয়েছে। আমরা তাদের নামের তালিকা করে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগীতা করার প্রস্তুতি নিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি- এই কাজ চলমান রয়েছে। আমরা দ্রæত ভাঙন কবলিতদের পাশে দাড়াবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিমুল তালুকদার , সদরপুর থেকেঃ

ফরিদপুরের সদরপুরের দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পদ্মায় নদী ভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষণের ফলে তীব্র ¯্রােতে নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে ইউনিয়টির প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মা পাড়ের শত শত ঘর, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। সব হারিয়ে ভাঙনকবলিতরা আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় স্কুল ঘর ও খোলা মাঠে। সেই সাথে খাদ্য, চিকিৎসা, বিদ্যুৎসহ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সংকট। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না কোন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বলে জানায় স্থানীয়রা।

গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ কালে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র ¯্রােতে ইউনিয়নটির নন্দলাপুর, নুরুদ্দিন সরদারের কান্দি, জহুরুল হক বেপারীর কান্দি ও কুদ্দুস মোল্যার কান্দি গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষ নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। এছাড়া নদী ভাঙনের শঙ্কায় পদ্মার পাড় থেকে সরে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। নদী ভাঙনের ফলে ইউনিয়নটিতে প্রায় ১০ দিন যাবত বিছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ভাঙন রোধে এখনো নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।

ইউনিয়নের নন্দলাপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ বেলাল জানান, গত সোমবার (২৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করে আমাদের গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে আমার ও আমার প্রতিবেসীদের বাড়ি ভাঙ্গা শুরু হয়। আমরা আমাদের ছেলে-মেয়ে, গরু-ছাগল ও ঘরের মালামাল নিয়ে বেরিয়ে আসি। তাড়াহুড়ো করে ঘরের কিছু অংশ ভেঙে এনেছিলাম তা দিয়েই পরিবার নিয়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নিয়েছি। এখন আমরা খুব অসহায় অবস্থায় দিন পার করছি।

নুরুদ্দিন সরদার কান্দি গ্রামের ইলিয়াস আলী বলেন, নদীতে আমাদের সব নিয়ে গেছে। এদিকে আমাদের কোন কর্মও নেই। পরিবার নিয়ে অর্ধ অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। এখনো সরকারি ভাবে কোন সাহায্য সহযোগীতা পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা সরকারের কাছে সাহায্য চাই।

কুদ্দুস মোল্যার কান্দি গ্রামের রহিমা খাতুন জানান, সন্তানদের নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে এলাকাবাসীর ডাক-চিৎকার শুনে বাইরে আসি। দেখি নদীতে সবকিছু বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমার স্বামী, সন্তান নিয়ে দ্রæত ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে নিতেই সব শেষ হয়ে যায়। এখন খুব অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছি। আমি ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান প্রার্থনা করছি, যাতে আর কেউ ভিটা-মাটি হারা না হয়।

নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাসির হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়নটি পদ্মা নদী বেষ্টিত হওয়ায় প্রতি বছরই ভাঙনের শিকার হয়। আমি ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে আবেদন করেছি। আসা করছি ভাঙন রোধে খুব শীঘ্রই সরকার কার্যকারী পদক্ষেপ নিবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউনিয়নে প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ ভাঙন কবলিত রয়েছে। আমরা তাদের নামের তালিকা করে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগীতা করার প্রস্তুতি নিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, আমি ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি- এই কাজ চলমান রয়েছে। আমরা দ্রæত ভাঙন কবলিতদের পাশে দাড়াবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।