Dhaka , Wednesday, 18 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি ভুক্তভোগীর রূপগঞ্জে সাংবাদিকদের হুমকি-অপহরণে নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের উদ্বেগ শরীয়াতপুরের পদ্মার বুকে ভাসমান মরদেহ, রহস্যে ঘেরা অজ্ঞাত তরুণের মৃত্যু লালমনিরহাটে পৌর কাউন্সিলর কল্যাণ পরিষদ গঠিত, সভাপতি সালাম, সম্পাদক সেনা নিলক্ষা ইউনিয়নের বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠিতে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, তিন দিনের মধ্যে জবাবের নির্দেশ ঝালকাঠিতে বন বিভাগের গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে জুয়েলার্স ব্যবসায়ী অপহরণ, উদ্ধারে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মধুপুরে ৩ মাদক কারবারিকে ১ বছরের কারাদণ্ড রূপগঞ্জে পথচারী ও চালকদের মাঝে ইফতার বিতরণ পাইকগাছায় অনুমোদনহীন ক্লিনিকে অভিযান; জরিমানা ও কারাদণ্ড বিজিবির ধাওয়া খেয়ে গাঁজা ফেলে পালালো চোরাকারবারী: অনন্তপুর সীমান্তে বড় সাফল্য মেহনতি মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী, চট্টগ্রামে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করলেন ডা. শাহাদাত রূপগঞ্জে বরিশাল ও চাঁদপুরগামী যাত্রীদের বিকল্প নৌপথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘরমুখী ও কর্মজীবী যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর- নৌ-পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারালেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবা চট্টগ্রামের নতুন ডিআইজি মনিরুজ্জামান, সিএমপি’র নতুন কমিশনার শওকত আলী বুড়িমারী স্থলবন্দরে ১১ দিনের বিরতি: বন্ধ থাকছে আমদানি-রপ্তানি স্বপ্ন কেড়ে নিল ঘাতক ট্রাক: পাটগ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যের করুণ মৃত্যু বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য রমজানের উপহার পাঠালেন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন চন্দনাইশে ফসলি জমির টপসয়েল কাটায় প্রশাসনের অভিযান: এসকেভেটর জব্দ নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন সিএমপি কমিশনার পাইকগাছায় সমুদ্রগামী জেলেদের মাঝে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ পাইকগাছায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পাইকগাছায় ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান রূপগঞ্জের শিমুলিয়া টুরিস্ট ঘাট থেকে চাঁদপুর ও বরিশালগামী বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু ॥ খুশি ঘরমুখো যাত্রীরা রূপগঞ্জের সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি থানায় জিডি রামগঞ্জের ‎ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বিএএফ শাহীন হাজী আশ্রাফ আলী স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন

শেবাচিমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানসহ জরুরী করণীয় ২২ প্রস্তাবণা আমলে নিলেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:17:21 pm, Wednesday, 8 January 2025
  • 114 বার পড়া হয়েছে

শেবাচিমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানসহ জরুরী করণীয় ২২ প্রস্তাবণা আমলে নিলেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর।।

 

আরিফ আহমেদ।।

   

শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান প্রয়োজন, পাশাপাশি প্রয়োজন প্রকৃত পরিচ্ছন্ন কর্মী বা সুইপার। ঔষধের দোকান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হাসপাতাল সীমানার ৩০০ গজ দূরে সরিয়ে নেয়ার দাবী দীর্ঘদিনের। বলা যায়, গত পনের বছর ধরে এসব দাবি জানিয়ে আসছে বরিশালের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ ও হাসপাতাল প্রশাসনও। ইতিপূর্বে এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, হয়েছে বৈঠক। কিন্তু ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বরিশালের জন্য পাঠানো হলেও তাদের কেউ কেউ আজ পর্যন্ত এসে পৌছায়নি আবার কেউ কেউ এসে ষড়যন্ত্রের মুখে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা টেকনিশিয়ানের পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়াই বলে দেয়া হচ্ছে মেশিন নষ্ট। চক্ষু বিভাগের জন্য নিয়ে আসা অত্যাধুনিক মেশিনটি কোনোদিন ব্যবহারই হয়নি। কারণ এটি চালাতে সক্ষম লোকবল এখানে নেই। তাহলে এটি নষ্ট না ভালো কি করে বুঝা যাবে? অথচ বলে দেয়া হয়েছে – মেশিন নষ্ট। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গত ৭ জানুয়ারী বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বরিশাল সাহিত্য সংসদ এর সভাপতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মিজানুর রহমান এর সাথে একান্তে মতবিনিময় করেছেন বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের -শেবাচিম- পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর। তিনি নিজেও তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান জরুরী প্রয়োজন বলে স্বীকার করেন। এসময় কাজী মিজানুর রহমান তার একটি উন্নয়ন প্রতিবেদন হাসপাতালের পরিচালকের হাতে তুলে দেন। মুলত তার এই প্রতিবেদনটি নজরে আসায় পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর তার সাথে এই মতবিনিময় করেছেন বলে জানান তিনি।
ঐ প্রতিবেদনে কাজী মিজানুর রহমান বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও সরকারি জেনারেল হাসপাতালের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে ২২টি প্রস্তবণা তুলে ধরেন। এতে তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সরকারি হাসপাতাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতাল বহুবছর যাবত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে রোগীদের আকাঙ্ক্ষার সাথে সঙ্গতি রেখে সেবা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখানে দুটি হাসপাতালেরই প্রায় একই সমস্যা। বিশেষায়িত চিকিৎসা নাই, একটু জটিল রোগি হলেই ঢাকায় রেফার করার প্রবনতা দেখা যায়। যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বেশিরভাগই নষ্ট থাকে, কোন কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট সময়ে চালু না করায় প্যাকেটেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ভঙ্গুর। ডাক্তার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ জনবলের অভাব প্রকট। ১০০০ বেডের হাসপাতালে ২৫০০ থেকে ৩০০০ রোগী ভর্তি থাকে। অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ বর্তমান পরিচালকের হস্তক্ষেপে কিছুটা সহনীয় হলেও দালাল ও ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভদের উৎপাত এখনো অসহনীয়।
এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য এবং দক্ষিণাঞ্চলের দেড় কোটি মানুষের স্বল্প খরচে, মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার সমুন্নত রাখতে বরিশালের হাসপাতাল দুটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রশাসককে কঠিন হতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে দলমত নির্বিশেষে নাগরিক সংলাপ ও সহযোগিতা নিয়ে বহু বছরের অনিয়ম ও পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধান করতে হবে। হাসপাতাল দুটির ব্যবস্থাপনাতেই ত্রুটি রয়েছে দাবী করে কাজী মিজানুর রহমান বলেন, এই প্রতিবেদনটি মূলত সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে দিতে তৈরি করা হয়েছিল। শেবাচিম পরিচালকের আগ্রহের কারণে এটি তার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে তিনি বলেন- দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এ ব্যর্থতা থেকে রাতারাতি উত্তরনের সম্ভবনা প্রায় অসম্ভব। স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহনের মাধ্যমে হাসপাতাল দুটির সেবার মান বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়ার বিকল্প নাই। আমাদের দাবীর মুখে সেনাবাহিনী থেকে পরিচালক আমরা পেয়েছি। এবার তার হাত ও কাজকে শক্তিশালী করতে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রস্তাবনাগুলো

১/ পরিচালক এর অফিস সময়সূচী অন্য সরকারি দপ্তরের ন্যায় ৯টা-৫টা করা হলে সেবা প্রত্যাশীগনের অনেক দুর্ভোগ কমে আসবে;

২/ পুরো হাসপাতাল সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা প্রয়োজন। সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রশিক্ষিত জনবলের সমন্বয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হলে যাবতীয় তদারকি বিশেষত সকল প্রকার টেষ্ট- ঔষধ বিতরন- খাদ্য প্রস্তুত, অবাঞ্ছিত প্রবেশ রোধ নিশ্চিতসহ সর্বত্র শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছি।

৩/ ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের হাসপাতাল কম্পাউন্ডে প্রবেশ একেবারে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। এদের কারনে ডাক্তারদের প্রচুর সময় অপচয় হয়, রোগী সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়াও এদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে। ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলিকে হাসপাতালে প্রতিনিধি প্রেরণ না করার জন্য অনুরোধ জানানো যেতে পারে।

৪/ হাসপাতালের ভিতর ও বাহিরের পরিচ্ছন্নতা সমান হতে হবে। আমরা ঝকঝকে তকতকে পরিবেশ চাই। কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে হাসপাতালের ওয়াশরুম ব্যবহার অসম্ভব। ওয়াশরুম সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্ন রাখতে কঠোর তদারকির বিকল্প নাই। সুইপারদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। পেশাদার সুইপারদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়া আবশ্যক।

৫/ অভিযোগ আছে সরকার নিয়োজিত আয়া, সুইপারগন নিজেরা কোন কাজ করে না। ঠিকা ভিত্তিতে তারা নিজেরা লোক দিয়ে কাজ করায়। এদের দৌরাত্ম্য, আচরণ অসহনীয়। অনেকের টাকা পয়সা মোবাইল ইত্যাদি চুরি হয়।

৬/ একজনের বেশি এটেন্ডেট হাসপাতালে প্রবেশ, অবস্থান এবং রাত্রিযাপনের কারনে অপরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তার অভাব ঘটে। রাতে করিডরকে মনে হয় সরাইখানা। এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ পরিবেশকে স্বাভাবিক-সহনীয় রাখতে সহায়তা করবে।

৭/ অন্তত ৪টি নতুন এম্বুলেন্স দ্রুত সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। সেটা সরকারিভাবে বা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের অনুদানে হতে পারে। পাশাপাশি বেসরকারি এম্বুলেন্সগুলো হাসপাতাল কম্পাউন্ডের বাইরে রাখার কঠোর নির্দেশ প্রয়োজন। বিপদের সময় মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যোগসাজশে এরা রোগিকে অমানবিক ভাবে সর্বশান্ত করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
বেসরকারি এম্বুলেন্স এর যোগাযোগ নম্বর একাধিক দর্শনীয় স্থানে টানানো থাকবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার করার সুযোগ নিতে পারে।
ইতিপূর্বে ভারত থেকে উপহার প্রাপ্ত লাইফ সাপোর্ট এম্বুলেন্স এর ব্যবহার সুফল থেকে বরিশালবাসী বঞ্চিত রয়েছে। এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে (জনবল এবং সরঞ্জামাদি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ মুমুর্ষু রোগিদের সেবা প্রদানের মান বাড়াতে সহায়ক হবে।

৮/ ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নিয়মিত বাধ্যতামূলক ভাবে নির্দিষ্ট পোষাক পরে আসবে হবে। এটা খুবই জরুরী।

৯/ হাসপাতালে সকল পরীক্ষা যাতে নির্ভুল ভাবে, কম সময়ে, স্বল্প খরচে, হয়রানি মুক্ত ভাবে হতে পারে সেই পদক্ষেপ নেয়া এবং এজন্য প্রয়োজনে টিকিট মূল্য বৃদ্ধি করে ১০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা হতে পারে। এজন্য জনমত জরিপ করে বরিশালের সাধারণ মানুষের এতে সহমত পাওয়া গেছে।

১০/ পুরাতন এবং ঝুঁকিপূর্ণ লিফট প্রতিস্থাপন বিবেচনার দাবি সকলের।

১১/ চিকিৎসা সংক্রান্ত সরঞ্জামাদি স্থানীয় ভাবে মেরামতে সক্ষম জনবলের পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ প্রদান করা হলে অনেক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

১২/ একই ঠিকাদার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ ইডিসিএল বহির্ভূত ঔষধ, ডায়েট সরবরাহ করে আসছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে। খাবারের মান অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের। তদুপরি এই খাবার বাইরেও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। দরিদ্র রোগী সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সঠিক মান এবং পরিমাণ মত খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

১৩/ রোগীদের কক্ষের ফ্যান, লাইট এবং এসি নবায়ন, সংস্কার এবং নতুন ট্রলি ক্রয় জরুরি। গণপূর্ত মেডিকেল উপবিভাগ সেবা প্রদানে প্রোএক্টিভ হলে অনেক দুরাবস্থা এড়ানো সম্ভব।

১৪/ প্রফেসর, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং টেকনিশিয়ান এর সকল শুন্যপদ পূরন করা না হলে মানসম্মত সেবা দেয়া অসম্ভব।

১৫/ মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সক্ষমতা অর্জন করা দরকার। বর্তমানে দৈনন্দিন সকল বর্জ্য সিটি কর্পোরেশন উন্মুক্ত স্থানে ডাম্পিং করায় এবং প্রক্রিয়াজাত করনের ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি বাড়ছে।

১৬/ শিশু হাসপাতাল, ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি হাসপাতাল, এবং জেনারেল হাসপাতালের ভবন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। এই কাজে গতি আনা খুবই জরুরী। বিলম্বে সরকারের ব্যয় বাড়বে এবং মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নির্মান সমাপ্তির সাথে সাথে যাতে দ্রত প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা যায় সেটাও নজরে রাখলে জনগন উপকৃত হবে।

১৭/ ইন্টার্ন ডাক্তারদের সাথে তাদের কর্ম এবং বাসস্থান সুবিধা-অসুবিধা নিয়া আলোচনা চিকিৎসা সেবায় মান বৃদ্ধির সহায়ক হতে পারে।

১৮/ জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যের এন্টিরেবিস ভ্যাক্সিন নিয়মিত পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে চড়া দামে (এক ভায়েল ৫০০ টাকা) কিনে আনতে হয়। এতে অধিকার বঞ্চিত গরীব রোগীগন খুবই বিপদে পড়েন এবং অনেকের জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ববান ও প্রোএক্টিভ হতে হবে। সচেতন রোগী এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ দায়সারা জবাব দেন।

১৯/ হাসপাতালে আগত রোগি এবং তাদের স্বজনদের সাথে ভাল ব্যবহার প্রত্যাশিত কিন্তু এক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি আছে । বিভিন্ন অজুহাতে কর্মবিরতি এই পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

২০/ সকল প্রকার দালাল, ভিখিরি এবং হকারদের হাসপাতালে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে চিকিৎসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিকল্প নাই। এক বা একাধিক মানসম্মত রেস্টুরেন্ট স্থাপনের বিষয় বিবেচনার দাবি রাখে।

২১/ হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমকে আন্তরিকতার সাথে আরও গতিশীল করতে পারলে দরিদ্র, অসহায় রোগীদের বাঁচার স্বপ্ন একটু দীর্ঘায়িত হতে পারে।

২২) সর্বোপরি সাধারন মানুষের প্রত্যাশা, গেজেট অনুসারে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে এবং কার্যবিবরণী, অগ্রগতি সকলে অবহিত হতে পারবে।
কাজী মিজানুর রহমান এর এই প্রস্তাবনার প্রায় সবগুলোর সাথে সহমত পোষণ করেন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর। তিনি বলেন, আগামীকাল ঢাকায় যাবো। সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আমি এ নিয়ে কথা বলবো। তবে সবার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি। এটি সম্পন্ন হলেই বরিশালের সুশীল সমাজের পরামর্শ ও মতামত নিতে তাদের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করা হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি ভুক্তভোগীর

শেবাচিমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানসহ জরুরী করণীয় ২২ প্রস্তাবণা আমলে নিলেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর।।

আপডেট সময় : 04:17:21 pm, Wednesday, 8 January 2025

 

আরিফ আহমেদ।।

   

শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান প্রয়োজন, পাশাপাশি প্রয়োজন প্রকৃত পরিচ্ছন্ন কর্মী বা সুইপার। ঔষধের দোকান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হাসপাতাল সীমানার ৩০০ গজ দূরে সরিয়ে নেয়ার দাবী দীর্ঘদিনের। বলা যায়, গত পনের বছর ধরে এসব দাবি জানিয়ে আসছে বরিশালের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ ও হাসপাতাল প্রশাসনও। ইতিপূর্বে এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, হয়েছে বৈঠক। কিন্তু ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বরিশালের জন্য পাঠানো হলেও তাদের কেউ কেউ আজ পর্যন্ত এসে পৌছায়নি আবার কেউ কেউ এসে ষড়যন্ত্রের মুখে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা টেকনিশিয়ানের পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়াই বলে দেয়া হচ্ছে মেশিন নষ্ট। চক্ষু বিভাগের জন্য নিয়ে আসা অত্যাধুনিক মেশিনটি কোনোদিন ব্যবহারই হয়নি। কারণ এটি চালাতে সক্ষম লোকবল এখানে নেই। তাহলে এটি নষ্ট না ভালো কি করে বুঝা যাবে? অথচ বলে দেয়া হয়েছে – মেশিন নষ্ট। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গত ৭ জানুয়ারী বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বরিশাল সাহিত্য সংসদ এর সভাপতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মিজানুর রহমান এর সাথে একান্তে মতবিনিময় করেছেন বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের -শেবাচিম- পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর। তিনি নিজেও তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান জরুরী প্রয়োজন বলে স্বীকার করেন। এসময় কাজী মিজানুর রহমান তার একটি উন্নয়ন প্রতিবেদন হাসপাতালের পরিচালকের হাতে তুলে দেন। মুলত তার এই প্রতিবেদনটি নজরে আসায় পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর তার সাথে এই মতবিনিময় করেছেন বলে জানান তিনি।
ঐ প্রতিবেদনে কাজী মিজানুর রহমান বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও সরকারি জেনারেল হাসপাতালের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে ২২টি প্রস্তবণা তুলে ধরেন। এতে তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সরকারি হাসপাতাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতাল বহুবছর যাবত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে রোগীদের আকাঙ্ক্ষার সাথে সঙ্গতি রেখে সেবা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখানে দুটি হাসপাতালেরই প্রায় একই সমস্যা। বিশেষায়িত চিকিৎসা নাই, একটু জটিল রোগি হলেই ঢাকায় রেফার করার প্রবনতা দেখা যায়। যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বেশিরভাগই নষ্ট থাকে, কোন কোন যন্ত্র নির্দিষ্ট সময়ে চালু না করায় প্যাকেটেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ভঙ্গুর। ডাক্তার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ জনবলের অভাব প্রকট। ১০০০ বেডের হাসপাতালে ২৫০০ থেকে ৩০০০ রোগী ভর্তি থাকে। অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ বর্তমান পরিচালকের হস্তক্ষেপে কিছুটা সহনীয় হলেও দালাল ও ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভদের উৎপাত এখনো অসহনীয়।
এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য এবং দক্ষিণাঞ্চলের দেড় কোটি মানুষের স্বল্প খরচে, মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার সমুন্নত রাখতে বরিশালের হাসপাতাল দুটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রশাসককে কঠিন হতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে দলমত নির্বিশেষে নাগরিক সংলাপ ও সহযোগিতা নিয়ে বহু বছরের অনিয়ম ও পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধান করতে হবে। হাসপাতাল দুটির ব্যবস্থাপনাতেই ত্রুটি রয়েছে দাবী করে কাজী মিজানুর রহমান বলেন, এই প্রতিবেদনটি মূলত সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে দিতে তৈরি করা হয়েছিল। শেবাচিম পরিচালকের আগ্রহের কারণে এটি তার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে তিনি বলেন- দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এ ব্যর্থতা থেকে রাতারাতি উত্তরনের সম্ভবনা প্রায় অসম্ভব। স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহনের মাধ্যমে হাসপাতাল দুটির সেবার মান বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়ার বিকল্প নাই। আমাদের দাবীর মুখে সেনাবাহিনী থেকে পরিচালক আমরা পেয়েছি। এবার তার হাত ও কাজকে শক্তিশালী করতে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে।
প্রস্তাবনাগুলো

১/ পরিচালক এর অফিস সময়সূচী অন্য সরকারি দপ্তরের ন্যায় ৯টা-৫টা করা হলে সেবা প্রত্যাশীগনের অনেক দুর্ভোগ কমে আসবে;

২/ পুরো হাসপাতাল সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা প্রয়োজন। সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রশিক্ষিত জনবলের সমন্বয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হলে যাবতীয় তদারকি বিশেষত সকল প্রকার টেষ্ট- ঔষধ বিতরন- খাদ্য প্রস্তুত, অবাঞ্ছিত প্রবেশ রোধ নিশ্চিতসহ সর্বত্র শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছি।

৩/ ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের হাসপাতাল কম্পাউন্ডে প্রবেশ একেবারে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। এদের কারনে ডাক্তারদের প্রচুর সময় অপচয় হয়, রোগী সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়াও এদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে। ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলিকে হাসপাতালে প্রতিনিধি প্রেরণ না করার জন্য অনুরোধ জানানো যেতে পারে।

৪/ হাসপাতালের ভিতর ও বাহিরের পরিচ্ছন্নতা সমান হতে হবে। আমরা ঝকঝকে তকতকে পরিবেশ চাই। কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে হাসপাতালের ওয়াশরুম ব্যবহার অসম্ভব। ওয়াশরুম সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্ন রাখতে কঠোর তদারকির বিকল্প নাই। সুইপারদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। পেশাদার সুইপারদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়া আবশ্যক।

৫/ অভিযোগ আছে সরকার নিয়োজিত আয়া, সুইপারগন নিজেরা কোন কাজ করে না। ঠিকা ভিত্তিতে তারা নিজেরা লোক দিয়ে কাজ করায়। এদের দৌরাত্ম্য, আচরণ অসহনীয়। অনেকের টাকা পয়সা মোবাইল ইত্যাদি চুরি হয়।

৬/ একজনের বেশি এটেন্ডেট হাসপাতালে প্রবেশ, অবস্থান এবং রাত্রিযাপনের কারনে অপরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তার অভাব ঘটে। রাতে করিডরকে মনে হয় সরাইখানা। এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ পরিবেশকে স্বাভাবিক-সহনীয় রাখতে সহায়তা করবে।

৭/ অন্তত ৪টি নতুন এম্বুলেন্স দ্রুত সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। সেটা সরকারিভাবে বা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের অনুদানে হতে পারে। পাশাপাশি বেসরকারি এম্বুলেন্সগুলো হাসপাতাল কম্পাউন্ডের বাইরে রাখার কঠোর নির্দেশ প্রয়োজন। বিপদের সময় মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যোগসাজশে এরা রোগিকে অমানবিক ভাবে সর্বশান্ত করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
বেসরকারি এম্বুলেন্স এর যোগাযোগ নম্বর একাধিক দর্শনীয় স্থানে টানানো থাকবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার করার সুযোগ নিতে পারে।
ইতিপূর্বে ভারত থেকে উপহার প্রাপ্ত লাইফ সাপোর্ট এম্বুলেন্স এর ব্যবহার সুফল থেকে বরিশালবাসী বঞ্চিত রয়েছে। এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে (জনবল এবং সরঞ্জামাদি) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ মুমুর্ষু রোগিদের সেবা প্রদানের মান বাড়াতে সহায়ক হবে।

৮/ ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নিয়মিত বাধ্যতামূলক ভাবে নির্দিষ্ট পোষাক পরে আসবে হবে। এটা খুবই জরুরী।

৯/ হাসপাতালে সকল পরীক্ষা যাতে নির্ভুল ভাবে, কম সময়ে, স্বল্প খরচে, হয়রানি মুক্ত ভাবে হতে পারে সেই পদক্ষেপ নেয়া এবং এজন্য প্রয়োজনে টিকিট মূল্য বৃদ্ধি করে ১০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা হতে পারে। এজন্য জনমত জরিপ করে বরিশালের সাধারণ মানুষের এতে সহমত পাওয়া গেছে।

১০/ পুরাতন এবং ঝুঁকিপূর্ণ লিফট প্রতিস্থাপন বিবেচনার দাবি সকলের।

১১/ চিকিৎসা সংক্রান্ত সরঞ্জামাদি স্থানীয় ভাবে মেরামতে সক্ষম জনবলের পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ প্রদান করা হলে অনেক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

১২/ একই ঠিকাদার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ ইডিসিএল বহির্ভূত ঔষধ, ডায়েট সরবরাহ করে আসছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে। খাবারের মান অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের। তদুপরি এই খাবার বাইরেও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। দরিদ্র রোগী সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সঠিক মান এবং পরিমাণ মত খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

১৩/ রোগীদের কক্ষের ফ্যান, লাইট এবং এসি নবায়ন, সংস্কার এবং নতুন ট্রলি ক্রয় জরুরি। গণপূর্ত মেডিকেল উপবিভাগ সেবা প্রদানে প্রোএক্টিভ হলে অনেক দুরাবস্থা এড়ানো সম্ভব।

১৪/ প্রফেসর, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং টেকনিশিয়ান এর সকল শুন্যপদ পূরন করা না হলে মানসম্মত সেবা দেয়া অসম্ভব।

১৫/ মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সক্ষমতা অর্জন করা দরকার। বর্তমানে দৈনন্দিন সকল বর্জ্য সিটি কর্পোরেশন উন্মুক্ত স্থানে ডাম্পিং করায় এবং প্রক্রিয়াজাত করনের ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি বাড়ছে।

১৬/ শিশু হাসপাতাল, ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি হাসপাতাল, এবং জেনারেল হাসপাতালের ভবন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। এই কাজে গতি আনা খুবই জরুরী। বিলম্বে সরকারের ব্যয় বাড়বে এবং মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নির্মান সমাপ্তির সাথে সাথে যাতে দ্রত প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা যায় সেটাও নজরে রাখলে জনগন উপকৃত হবে।

১৭/ ইন্টার্ন ডাক্তারদের সাথে তাদের কর্ম এবং বাসস্থান সুবিধা-অসুবিধা নিয়া আলোচনা চিকিৎসা সেবায় মান বৃদ্ধির সহায়ক হতে পারে।

১৮/ জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যের এন্টিরেবিস ভ্যাক্সিন নিয়মিত পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে চড়া দামে (এক ভায়েল ৫০০ টাকা) কিনে আনতে হয়। এতে অধিকার বঞ্চিত গরীব রোগীগন খুবই বিপদে পড়েন এবং অনেকের জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ববান ও প্রোএক্টিভ হতে হবে। সচেতন রোগী এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ দায়সারা জবাব দেন।

১৯/ হাসপাতালে আগত রোগি এবং তাদের স্বজনদের সাথে ভাল ব্যবহার প্রত্যাশিত কিন্তু এক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি আছে । বিভিন্ন অজুহাতে কর্মবিরতি এই পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

২০/ সকল প্রকার দালাল, ভিখিরি এবং হকারদের হাসপাতালে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে চিকিৎসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিকল্প নাই। এক বা একাধিক মানসম্মত রেস্টুরেন্ট স্থাপনের বিষয় বিবেচনার দাবি রাখে।

২১/ হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমকে আন্তরিকতার সাথে আরও গতিশীল করতে পারলে দরিদ্র, অসহায় রোগীদের বাঁচার স্বপ্ন একটু দীর্ঘায়িত হতে পারে।

২২) সর্বোপরি সাধারন মানুষের প্রত্যাশা, গেজেট অনুসারে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে এবং কার্যবিবরণী, অগ্রগতি সকলে অবহিত হতে পারবে।
কাজী মিজানুর রহমান এর এই প্রস্তাবনার প্রায় সবগুলোর সাথে সহমত পোষণ করেন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর। তিনি বলেন, আগামীকাল ঢাকায় যাবো। সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আমি এ নিয়ে কথা বলবো। তবে সবার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি। এটি সম্পন্ন হলেই বরিশালের সুশীল সমাজের পরামর্শ ও মতামত নিতে তাদের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করা হবে বলে জানান তিনি।