
মো: আব্দুর রহিম. শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে ভেসে ওঠা এক অজ্ঞাত তরুণের পচাগলা মরদেহকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তীরে স্থানীয়দের নজরে আসার পর খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার আওতাধীন উকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি গ্রামের হযরত বাড়ির উত্তর পাশে পদ্মা নদীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি নৌ পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আনুমানিক ১৭ বছর বয়সী এক তরুণের। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরেছে এবং চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিহত তরুণের বাম হাতে নীল রঙের একটি ট্যাটু আঁকা ছিল। ওই ট্যাটুর সূত্র ধরেই তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো এক সময় তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং স্রোতের টানে মরদেহটি এই এলাকায় এসে ভেসে ওঠে।
তবে এখনো নিহতের পরিচয় না মেলায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। এদিকে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম শরীয়তপুর শাখার মাধ্যমে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
মাঝিরঘাট নৌপুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি মরদেহটির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
























