নীলফামারী থেকে
সাদ্দাম আলী।।
নীলফামারীর জলঢাকা একটি রাসেলস ভাইপার সাপের ৩০টি বাচ্চাসহ পিটিয়ে মেরেছেন এলাকাবাসী। সোমবার -২৪ জুন- বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের আলসিয়া পাড়ার বুড়ীতিস্তা নদীতে সাপটি দেখার পর পিটিয়ে মারার এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় কয়েকজন যুবক নদীতে গোসল করতে গিয়ে দেখতে পান একটি সাপ কিনারা দিয়ে যাচ্ছিলো। পরে তারা আশপাশের লোকজনকে ডাক দিলে সবাই গিয়ে বিষধর সাপটিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। এ সময় সাপের পেট থেকে প্রায় ৩০টি বাচ্চা বের হলে স্থানীয়রা বাচ্চা গুলোকে মেরে ফেলে। সাপটির ছবি দেখে অনেকে সেটি রাসেলস ভাইপার বলে শনাক্ত করেন।
কৃষক মোতানাব্বির রহামান বলেন- মানুষের উপস্থিতি টের পেলে যেকোনো সাপ সরে যায়। তবে আজ দেখলাম- এই বিষধর সাপ তেড়ে আসে। পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় সাপ ও বাচ্চা্ গুলোকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।
এ ঘটনার পর আশপাশের জমিতে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে দল বেঁধে সাপ মারতে লাঠি নিয়ে জমিতে অভিযান চালাতেও দেখা গেছে।
কৈমারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য -মেম্বার- হাফিজুল ইসলাম বলেন- সেখানে গিয়েছি অনেক লোক দেখার জন্য এসেছে সাপটি দেখে মনে হচ্ছে রাসেলস ভাইপার। কারন তার পেটে ৩০টির অধিক বাচ্চা পাওয়া যায়। আমরা জানি সাপের তো বাচ্চা হয়না- কিন্তু এ সাপের বাচ্চা দেখে শিয়র হলাম। এরপরও বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়েছে।
নীলফামারী বন বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন- রাসেলস ভাইপার সাপটি বিষধর হলেও এটি বন্য প্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই এটি নিধনের কোনো সুযোগ নেই। একটি গুজব রয়েছে- এই সাপ কাটলে নিশ্চিত মৃত্যু। এটি আসলে ঠিক কথা নয়। সাপটি বিষধর, তাই কাটা স্থানে কাপড় বা দড়ি দিয়ে বেঁধে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা হয়- রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।

























