
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সরকারি খাল দখল করে রাতের আঁধারে অবৈধ ভাবে সেতু নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জানা গেছে উপজেলার ৩ নং ভাদুর ইউনিয়নের হানুবাইশ গ্রামের জাফর আহাম্মদ নামের এক ব্যাক্তি সরকারি খাল দখল করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সেতু নির্মাণ করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাফর নামের এক ব্যক্তি কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন, নকশা বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই খালের ওপর সেতু নির্মাণ করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে জাফর আহাম্মদ দাবি করেন, সেতুটি তাঁর নিজস্ব জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, হানুবাইশ খাল সরকারি খতিয়ানভুক্ত এবং বহু বছর ধরে এটি উন্মুক্ত জলপ্রবাহ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “এটা সরকারি খাল—কাগজপত্রেই প্রমাণ আছে। সরকারি খাল দখল করেই সেতু বানানো হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করলেও কেউ শোনেনি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ সেতু নির্মাণের ফলে খালের স্বাভাবিক পানি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। পরিবেশ ও জলাধার রক্ষা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, “সরকারি খাল দখল বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ আইনবিরোধী। অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রামগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “খাল বা জলাশয় দখল গুরুতর অপরাধ। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগ ওঠার পরও নির্মাণকাজ কীভাবে নির্বিঘ্নে রাতের আঁধারে চলে? প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি, না কি প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অবৈধ কাজ চলছে—তা নিয়েই এখন এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
























