
ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম:
মঙ্গলবার বিকালে সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এটিকে ধ্বংস করা এবং ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। গত ১৬ বছরে এ জাদুঘর রক্ষায় আমরা আন্দোলন, মানববন্ধন, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছি।
তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য পর্যন্ত কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ তাঁর সম্পর্কে জানতে না পারে। এমনকি একসময় এটি সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। আমরা তখন এটিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে বারবার সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং জাদুঘরটিকে ধীরে ধীরে জীর্ণ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
জাদুঘর সংরক্ষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগের অভাবের সমালোচনা করে মেয়র বলেন, “গত ১৬ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকেও আমরা বারবার বিষয়টি জানিয়েছি। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাও পরিদর্শনে এসেছেন, কিন্তু বাস্তব কোনো কাজ শুরু হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার, স্বাধীনতার ঘোষক এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এই সার্কিট হাউজেই তিনি শহীদ হন। তাঁর স্মৃতিকে সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।”
তিনি বলেন, শুধু জিয়া জাদুঘর নয়, চট্টগ্রামের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাও সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুলশীর বধ্যভূমি সংরক্ষণ এবং বিপ্লব উদ্যানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যেখান থেকে ২৫ মার্চের কালরাতে শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
মেয়র আশা প্রকাশ করে বলেন, “জিয়া স্মৃতি জাদুঘর যেহেতু সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তাই মন্ত্রণালয় দ্রুত উদ্যোগ নিলে এটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এটিকে হেরিটেজ ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। আমরা চাই জাদুঘরটি সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত করা হোক, যাতে তারা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।”
জিয়া শিশু পার্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জিয়া শিশু পার্কটি নতুনভাবে নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পূর্বে এটি সেনাবাহিনীর অধীনে ছিল, তবে আলোচনা করে আমরা জায়গাটি পুনরুদ্ধার করেছি। এখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে একটি আধুনিক, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ইকো পার্ক গড়ে তোলা হবে। কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা থাকবে না—এটি হবে একটি ‘গ্রিন ইকো পার্ক’, যেখানে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সবাই নির্মল বিনোদনের সুযোগ পাবে।”
























