
তৌহিদ বেলাল, কক্সবাজার।।
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি এলাকায় মাছ শিকারে গিয়ে অপহৃত ৮ জন অবশেষে ফিরে এসেছে। অপহরণকারীদের চাহিদামতো মুক্তিপণ দিয়েই তাদের ফিরতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) রাত দুইটার পর ওই আটজন নিজেদের বাড়িতে পৌঁছায়। স্থানীয় বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চেয়ারম্যান খোকন জানান, অপহরণকারীদের দাবি ও চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ মুক্তিপণ দিয়ে অপহৃত আটজনকে ফিরে পাওয়া গেছে।
ঠিক কতো টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অপহৃতদের ফিরিয়ে আনা গেছে, এবিষয়ে কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি। তবে অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের লোকজন জানায়, সন্ত্রাসী-অপহরণকারীদের সাথে দেনদরবার করে মুক্তিপণ দিয়ে ওই আটজনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা পাহাড়ি এলাকার ছড়াখালে মাছ শিকারে যায় তিন শিক্ষার্থীসহ ৮ জন। পরে অপহরণকারীরা জনপ্রতি তিন লক্ষ করে মোট ২৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা হলেন- বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জাহাজপুরা গ্রামের সৈয়দ আমিরের পুত্র কলিম উল্লাহ, নুরুল হকের পুত্র নুর মুহাম্মদ, রশিদ আহমদের পুত্র মোহাম্মদ উল্লাহ, কাদির হোসেনের পুত্র নুরুল হক, ছৈয়দ আমিরের পুত্র মোস্তফা কামাল, রশিদ আহমদের পুত্র নুরুল আবছার, মমতাজ আহমদের পুত্র মুহাম্মদ রিদুয়ান ও রুস্তম আলির পুত্র সেলিম উল্লাহ।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হালিম অপহৃত ৮জনের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার আদ্যোপান্ত জিজ্ঞাসাবাদ ও অপহরণকারীদের তথ্য উদঘাটনের জন্য তাদের থানায় আনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, অপহৃতদের উদ্ধার অভিযানে যারাই পুলিশকে সহযোগিতা করেছে তাদের নিকট অপহরণকারীরা ফোন করে হুমকি দিয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হয়, অপহরণকারীদের সাথে এলাকার অপরাধচক্রের যোগসাজশ রয়েছে।
এদিকে, অপহরণের ঘটনায় ভিকটিম কলিমুল্লাহর ভাই ও স্হানীয় জাহাজপুরা গ্রামের সৈয়দ আমিরের পুত্র হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রফিকুল ইসলাম অপহৃতরা ফিরে আসার বিষয় জানিয়ে বলেন, ‘একসাথে এতো লোক অপহরণের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। এখন দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে চেষ্টা চলছে’

























