
তৌহিদ বেলাল
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।।
বাড়িতে স্বামীর লাশ রেখে হত্যামামলার আসামি, জেলফেরত স্ত্রী কৌশলে পালিয়ে গেছেন। মাঝরাতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায়।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত দেড়টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাজারপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে মুহাম্মদ রিদোয়ান (৩৪) নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই রিদোয়ানের দ্বিতীয় স্ত্রী রুমি আক্তার পালিয়ে যান। নিহত মুহাম্মদ রিদোয়ান পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন রাজাখালির মুহাম্মদ নুরুল ইসলামের পুত্র। রুমি আক্তার একই উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মুলারপাড়ার তাজউদ্দিনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিদোয়ানের প্রথম স্ত্রী থাকেন পেকুয়ার রাজাখালিতে। বছরখানেক পূর্বে তিনি রুমি আক্তারকে বিয়ে করেন। রুমি আক্তার একটি হত্যামামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করে মাসখানেক আগে জেল থেকে বের হন। গত ২৮ আগস্ট তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনজুর আলম নামের এক দিনমজুর খুন হয়। রুমি ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন।
জানা যায়, বছরখানেক আগে রুমি আক্তারকে বিয়ে করেন রিদোয়ান। দ্বিতীয় স্ত্রী রুমিকে নিয়ে মগনামা ইউনিয়নের বাজারপাড়ায় থাকতেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে রিদোয়ান ও রুমির মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে রাত বারোটার দিকে স্বজনেরা সংবাদ পেয়ে রিদোয়ানের বাড়িতে গিয়ে তাকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এর আগেই রিদোয়ানের দ্বিতীয় স্ত্রী রুমি আক্তার পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পেকুয়া থানার পুলিশ গিয়ে রিদোয়ানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রিদোয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবুল খায়ের জানান, মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে পুলিশ মৃত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার মুখে বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে, তবে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর হায়দার বলেন, রিদোয়ানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।















