Dhaka , Sunday, 15 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছায় সুন্দরবন দিবস পালিত রূপগঞ্জের শিমুলিয়া বিএনপির কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ ॥ দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি ‎মির্জাপুরে শিশু অপহরণের ৭ দিনপর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ ধর্ম মন্ত্রণালয়ে যোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশা: রফিকুল ইসলাম জামালকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় আলেম সমাজ ও নেতাকর্মীরা ভালোবাসা যখন পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধনের উৎসব চবি ল্যাবরেটরী কলেজের ১১ শিক্ষককে অমানবিকভাবে অপসারণ, প্রশ্নবিদ্ধ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া    চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামফলক উপড়ে ফেলে চিরসত্য ইতিহাসকে মুছে দেয়ার অপচেষ্টা… রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা হামলা; আগুনে পুড়ে ছাঁই ঝালকাঠিতে প্রত্যয় তরুণ সংঘের পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ রাউজান পৌরসভা এলাকা হতে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ০১টি দেশীয় তৈরী পাইপগান, ০৪টি কার্তুজ ও ০২টি পিস্তলের কার্তুজ উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ফরিদপুর-০৪ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপি’র ধানের শীষের বিজয়। রায়পুরে নিখোঁজ অটোরিকশা চালক সোহাগের লাশ বালুর নিচ থেকে উদ্ধার। নেত্রকোণা ১ আসনে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গাজীপুরে বিএনপি ৪ টি , জামায়াত ১ টি আসনে বিজয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর জয়, PR পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের পথে দেশ; সংসদে আসতে পারেন নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী পাইকগাছায় শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন পাইকগাছা-কয়রায় দাঁড়িপাল্লা প্রার্থীর বিজয় পাইকগাছায় বিএনপি–জামায়াতের উত্তেজনা; ইউএনও’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পাইকগাছায় নির্বাচনী টহল জোরদার; বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো হাটহাজারী-বায়েজিদই আমার ঘর, এলাকাবাসীই আমার পরিবার :- মীর হেলাল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অভূতপূর্ব বিজয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অভিনন্দন বিএনপির বিজয়ে পেশাজীবি পরিষদের অভিনন্দন চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে প্রথম অগ্রাধিকার:- ডা. শাহাদাত ফতুল্লার সস্তাপুরে গ্যাস বিস্ফোরণ: নরসুন্দরসহ ৫ পথচারী অগ্নিদগ্ধ আড়াইহাজারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তল ও গুলি উদ্ধার ঈদগাঁও বাজারে ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে দোকান দখলের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকির দাবি মালিক পক্ষের: লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের জয়জয়কার লালমনিরহাটে ধানের শীষের জয়জয়কার: নেপথ্যে দুলুর একক রাজনৈতিক ক্যারিশমা নরসিংদীতে ৫টি আসনেই বিএনপির বিজয় ঢাকা-১১ আসনে ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী নাহিদ ইসলাম

ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:40:51 am, Monday, 19 December 2022
  • 664 বার পড়া হয়েছে

ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

 

দৈনিক আজকের বাংলা ডেস্ক।।

ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ইতিহাসের একধাপ দূরে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। লুসেইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে প্রথমার্ধেই কাজটা অনেকখানি এগিয়ে রেখেছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। পেনাল্টি থেকে মেসির পর লিড বাড়ানো গোল করেছেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। ২-০ গোলের লিড রেখে বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তে দল।

বিরতি কাটিয়ে ফিরে বিপত্তি। এমবাপের জোড়া গোলে নির্ধারিত সময় শেষে স্কোর হয় ২-২। ম্যাচ যায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে মেসি ও এমবাপের গোলে হয় ৩-৩। খেলা এখন টাইব্রেকারে।

এমবাপের জোড়া গোলে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। রান্ডাল কোলো মুয়ানিকে ডি বক্সের ভেতর ফাউল করেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। ৮০ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার ব্যবধান কমান।

 

মাত্র ৯৭ সেকেন্ড পর মাঝ মাঠ থেকে কিংসলে কোম্যানের বাড়ানো বল নেন মার্কাস থুরাম। তিনি বল এমবাপেকে বাড়ান। ডান পায়ের শটে ২৩ বর্ষী ফুটবলারের শট এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তার আঙুলে লেগে জালে জড়ায়। মেসিকে ছাড়িয়ে এবারের বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৭ গোলও করে ফেলেন।

 

রোববার শুরু থেকেই আক্রমণ চালায় আলবিসেলেস্তে দল। ৫৯ শতাংশ বল দখল নিয়ে তৈরি করে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ। ২১ মিনিটে ডি মারিয়াকে উসমানে ডেম্বেলে পেছন থেকে ফাউল করে বসলে নির্ভুল পেনাল্টি শটে দলকে এগিয়ে নেন মেসি। ৩৬ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের দুর্দান্ত পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান সেমিতে বেঞ্চে বসে থাকা ডি মারিয়া।

শিরোপার মঞ্চে তৃতীয় মিনিটেই সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডে পল বল নিয়ে জুলিয়ান আলভারেজের দিকে বাড়ান, তবে শট নেয়ার আগে বল যায় লরিসের হাতে। মিনিট দুয়েক পর আলভারেজের থেকে বল নিয়ে দূরপাল্লার শট নেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আট মিনিটে বল ফাঁকায় পেয়েও আকাশে উড়িয়ে দেন ডি মারিয়া।

লিওনেল স্কালোনির একাদশে ফিরে বাম উইং ধরে আক্রমণ চালান ডি মারিয়া। চোট ও ফর্মেশনের কারণে খেলতে না পারার শঙ্কায় থাকা ‘ফাইনালম্যান’ ব্যবধান গড়ে দেন। ২১ মিনিটের মাথায় বল নিয়ে ডি বক্সে ঢুকে গেলে পেছন থেকে পা বাড়িয়ে দেন ডেম্বেলে, ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। মেসিও দলকে এগিয়ে নেন।

প্রথমার্ধে চাপে থাকা এমবাপেরা ২০ মিনিটের মাথায় প্রথম সুযোগ তৈরি করে। জিরুদের হেড যায় জালের অনেকখানি উপর দিয়ে। ১১ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর কনুইয়ের আঘাতে লরিস আহত হলে কিছুটা সময় বন্ধ থাকে খেলা।

 

খেলার ৩৬ মিনিটে টানা আক্রমণের ফল পায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে মেসির পায়ের জাদুতে বল নিয়ে এগিয়ে যায় অ্যালিস্টার। দুর্দান্ত দক্ষতায় বল পাঠান বামপাশে থাকা মারিয়ার কাছে। ‘ফাইনালম্যান’ ভুল করেননি, জোরাল শটে হুগো লরিসকে পরাস্ত করে মাতেন উদযাপনে। প্রথমার্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন লিওনেল মেসি-ডি মারিয়ারা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ২-২ ব্যবধানে ড্র হওয়ার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে গোল করে (১০৮ মিনিটে) আর্জেন্টিনাকে ফের এগিয়ে নেন লিওনেল মেসি। এরপর মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে (১১৮ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক করার মধ্য দিয়ে ফ্রান্সকে ফের সমতায় (৩-৩) ফেরান এমবাপ্পে।

১২০ মিনিটের খেলা ৩-৩ ড্র হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জিতে তৃতীয় শিরোপাা নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা।

এটা ছিল ফ্রান্সের চতুর্থবার বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে ১৯৯৮ সালের পর ২০১৮ সালে শিরোপা জিতে নেয় ফরাসিরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পেদের।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এনিয়ে ছয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাতিন আমেরিকান দলটি।

রোববার কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মধ্য দিয় ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটাল আর্জেন্টাইনরা।

এর আগে ১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয় সন্তুষ্ঠ থাকে আর্জেন্টিনা।

 

রোববার কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে খেলার ২৩ মিনিটে ডি মারিয়াকে ডি বক্সের মধ্যে ফ্রান্সের ফুটবলার উসমান দেম্বেল ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি। চলতি আসরে এটি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের ষষ্ঠ গোল।

৩৬তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইনজুরি থেকে ফেরা ডি মারিয়া। তার করা গোলেও মেসির অবদান রয়েছে।

মাঝমাঠে মেসি ছোট্ট এক সুন্দর টোকায় পাস বাড়ান ডান দিকে, বল ধরে হুলিয়ান আলভারেস এগিয়ে গিয়ে সামনে বাড়ান মাক আলিস্তেরকে। তার পাস বক্সের বাঁ দিকে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শট নেন ডি মারিয়া। ঝাঁপিয়ে পড়া ফ্রান্সের লরিসকে ফাঁকি দিয়ে বল খুঁজে নেয় ঠিকানা।

৭৮ মিনিটে কুলো মুয়ানিকে ডিবক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ওতামেন্দি। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে বিশ্বকাপে নিজের ৬ষ্ঠ গোলটি করেন এমবাপ্পে।

এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও গোল করেন এমবাপ্পে। ৮১ মিনিটে দুর্দান্ত ভঙ্গিতে গোল করে দলকে ২-২ এ সমতায় ফেরান এই পিএসজি তারকা।

২ গোল করে ৭৯ মিনিট এগিয়ে থেকেও দুই মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের করা ২ গোল দারুণভাবে খেলায় সমতায় ফেরে ফ্রান্স।

খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে

অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ানোর পর ১০৮তম মিনিটে ডান দিক থেকে লাউতারো মার্তিনেসের বুলেট গতির কোনাকুনি শট কোনোমতে ফেরান উগো লরিস, তবে বল হাতে রাখতে পারেননি তিনি। গোলমুখে বল পেয়ে ডান পায়ের টোকায় দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান মেসি।

১১৮তম মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে গনসালো মনতিয়েলের হ্যান্ডবলের জন্য পেনাল্টি পেয়ে যায় ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক করার মধ্য দিয়ে ফ্রান্সকে ফের সমতায় (৩-৩) ফেরান এমবাপ্পে।

খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টিশুটাউটে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপার উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় সুন্দরবন দিবস পালিত

ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় : 12:40:51 am, Monday, 19 December 2022

 

দৈনিক আজকের বাংলা ডেস্ক।।

ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ইতিহাসের একধাপ দূরে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। লুসেইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে প্রথমার্ধেই কাজটা অনেকখানি এগিয়ে রেখেছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। পেনাল্টি থেকে মেসির পর লিড বাড়ানো গোল করেছেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। ২-০ গোলের লিড রেখে বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তে দল।

বিরতি কাটিয়ে ফিরে বিপত্তি। এমবাপের জোড়া গোলে নির্ধারিত সময় শেষে স্কোর হয় ২-২। ম্যাচ যায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে মেসি ও এমবাপের গোলে হয় ৩-৩। খেলা এখন টাইব্রেকারে।

এমবাপের জোড়া গোলে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। রান্ডাল কোলো মুয়ানিকে ডি বক্সের ভেতর ফাউল করেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। ৮০ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকার ব্যবধান কমান।

 

মাত্র ৯৭ সেকেন্ড পর মাঝ মাঠ থেকে কিংসলে কোম্যানের বাড়ানো বল নেন মার্কাস থুরাম। তিনি বল এমবাপেকে বাড়ান। ডান পায়ের শটে ২৩ বর্ষী ফুটবলারের শট এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তার আঙুলে লেগে জালে জড়ায়। মেসিকে ছাড়িয়ে এবারের বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৭ গোলও করে ফেলেন।

 

রোববার শুরু থেকেই আক্রমণ চালায় আলবিসেলেস্তে দল। ৫৯ শতাংশ বল দখল নিয়ে তৈরি করে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ। ২১ মিনিটে ডি মারিয়াকে উসমানে ডেম্বেলে পেছন থেকে ফাউল করে বসলে নির্ভুল পেনাল্টি শটে দলকে এগিয়ে নেন মেসি। ৩৬ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের দুর্দান্ত পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান সেমিতে বেঞ্চে বসে থাকা ডি মারিয়া।

শিরোপার মঞ্চে তৃতীয় মিনিটেই সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডে পল বল নিয়ে জুলিয়ান আলভারেজের দিকে বাড়ান, তবে শট নেয়ার আগে বল যায় লরিসের হাতে। মিনিট দুয়েক পর আলভারেজের থেকে বল নিয়ে দূরপাল্লার শট নেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আট মিনিটে বল ফাঁকায় পেয়েও আকাশে উড়িয়ে দেন ডি মারিয়া।

লিওনেল স্কালোনির একাদশে ফিরে বাম উইং ধরে আক্রমণ চালান ডি মারিয়া। চোট ও ফর্মেশনের কারণে খেলতে না পারার শঙ্কায় থাকা ‘ফাইনালম্যান’ ব্যবধান গড়ে দেন। ২১ মিনিটের মাথায় বল নিয়ে ডি বক্সে ঢুকে গেলে পেছন থেকে পা বাড়িয়ে দেন ডেম্বেলে, ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। মেসিও দলকে এগিয়ে নেন।

প্রথমার্ধে চাপে থাকা এমবাপেরা ২০ মিনিটের মাথায় প্রথম সুযোগ তৈরি করে। জিরুদের হেড যায় জালের অনেকখানি উপর দিয়ে। ১১ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর কনুইয়ের আঘাতে লরিস আহত হলে কিছুটা সময় বন্ধ থাকে খেলা।

 

খেলার ৩৬ মিনিটে টানা আক্রমণের ফল পায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে মেসির পায়ের জাদুতে বল নিয়ে এগিয়ে যায় অ্যালিস্টার। দুর্দান্ত দক্ষতায় বল পাঠান বামপাশে থাকা মারিয়ার কাছে। ‘ফাইনালম্যান’ ভুল করেননি, জোরাল শটে হুগো লরিসকে পরাস্ত করে মাতেন উদযাপনে। প্রথমার্ধে বড় ব্যবধানে এগিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন লিওনেল মেসি-ডি মারিয়ারা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ২-২ ব্যবধানে ড্র হওয়ার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে গোল করে (১০৮ মিনিটে) আর্জেন্টিনাকে ফের এগিয়ে নেন লিওনেল মেসি। এরপর মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে (১১৮ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক করার মধ্য দিয়ে ফ্রান্সকে ফের সমতায় (৩-৩) ফেরান এমবাপ্পে।

১২০ মিনিটের খেলা ৩-৩ ড্র হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জিতে তৃতীয় শিরোপাা নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা।

এটা ছিল ফ্রান্সের চতুর্থবার বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে ১৯৯৮ সালের পর ২০১৮ সালে শিরোপা জিতে নেয় ফরাসিরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পেদের।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এনিয়ে ছয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাতিন আমেরিকান দলটি।

রোববার কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মধ্য দিয় ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটাল আর্জেন্টাইনরা।

এর আগে ১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয় সন্তুষ্ঠ থাকে আর্জেন্টিনা।

 

রোববার কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে খেলার ২৩ মিনিটে ডি মারিয়াকে ডি বক্সের মধ্যে ফ্রান্সের ফুটবলার উসমান দেম্বেল ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি। চলতি আসরে এটি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের ষষ্ঠ গোল।

৩৬তম মিনিটে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইনজুরি থেকে ফেরা ডি মারিয়া। তার করা গোলেও মেসির অবদান রয়েছে।

মাঝমাঠে মেসি ছোট্ট এক সুন্দর টোকায় পাস বাড়ান ডান দিকে, বল ধরে হুলিয়ান আলভারেস এগিয়ে গিয়ে সামনে বাড়ান মাক আলিস্তেরকে। তার পাস বক্সের বাঁ দিকে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শট নেন ডি মারিয়া। ঝাঁপিয়ে পড়া ফ্রান্সের লরিসকে ফাঁকি দিয়ে বল খুঁজে নেয় ঠিকানা।

৭৮ মিনিটে কুলো মুয়ানিকে ডিবক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ওতামেন্দি। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে বিশ্বকাপে নিজের ৬ষ্ঠ গোলটি করেন এমবাপ্পে।

এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও গোল করেন এমবাপ্পে। ৮১ মিনিটে দুর্দান্ত ভঙ্গিতে গোল করে দলকে ২-২ এ সমতায় ফেরান এই পিএসজি তারকা।

২ গোল করে ৭৯ মিনিট এগিয়ে থেকেও দুই মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের করা ২ গোল দারুণভাবে খেলায় সমতায় ফেরে ফ্রান্স।

খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে

অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ানোর পর ১০৮তম মিনিটে ডান দিক থেকে লাউতারো মার্তিনেসের বুলেট গতির কোনাকুনি শট কোনোমতে ফেরান উগো লরিস, তবে বল হাতে রাখতে পারেননি তিনি। গোলমুখে বল পেয়ে ডান পায়ের টোকায় দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান মেসি।

১১৮তম মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে গনসালো মনতিয়েলের হ্যান্ডবলের জন্য পেনাল্টি পেয়ে যায় ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক করার মধ্য দিয়ে ফ্রান্সকে ফের সমতায় (৩-৩) ফেরান এমবাপ্পে।

খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টিশুটাউটে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপার উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা।