
ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বক্তারা বলেন, গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এতে জড়িত সরকার, মন্ত্রী, এমপি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে। এতে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরাও অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, গুম হয়ে যাওয়া মানুষদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা পরিবারগুলো জানতে পারছে না। যেহেতু মৃত্যুসনদ নেই, তাই তাদের সম্পত্তিও অরক্ষিত রয়ে গেছে। ফলে পরিবারগুলো সীমাহীন ভোগান্তির শিকার। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, সরকারের প্রতিবন্ধকতা কোথায়? কেন এক বছরের বেশি সময়েও গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান দেওয়া সম্ভব হয়নি? তারা জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগেই গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে হবে। গুমের সংস্কৃতি চালু করেছে র্যাব-এ মন্তব্য করে বক্তারা সংগঠনটির বিলুপ্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে গুমের শিকার পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহেদুল করিম কচি। তিনি বলেন, আজকে আনু মোহাম্মদরা মব নিয়ে কথা বলেন। ১৯৯১ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন আনু মোহাম্মদরা বিএনপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিল। কিন্তু আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ, বেগম খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর উপর যখন ভয়াবহ মব করা হয়েছিল তখন আনুরা মুখে কুলুপ এঁটেছিল। ১৯৯৬ সালে সরকারি কর্মকর্তা আবু আলম, শহীদ খানরা জনতার মঞ্চ সৃষ্টি করে বাংলাদেশে প্রথম মব কালচার শুরু করে। পুরো বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনপ্রশাসনকে বিভক্ত করে দিয়েছিল তারা। জনতার মঞ্চের কুশিলবরা এখন আবার নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। আজকে আবু আলম খান, শহীদ খানরা আবার সোচ্চার হয়েছে। সরকারকে বলতে চাই অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
অধিকারের ‘স্টেটমেন্ট’ পাঠ করেন মীর বরকত। বক্তব্য দেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজের হোসেন, এডভোকেট মোস্তফা নূর, সাংবাদিক সোহাগ কুমার বিশ্বাস, এডভোকেট সাইফুল আবেদীন, সাংবাদিক কামাল পারভেজসহ ভিকটিম পরিবারের সদস্য আব্দুল মান্নান, আনিকা আক্তার নূর ও সৌদিআরা বেগম।
অনুষ্ঠান শেষে একটি র্যালি প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে চেরাগী পাহাড় মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অধিকার চট্টগ্রামের ফোকাল পারসন ওসমান জাহাঙ্গীর। সঞ্চালনা করেন ওচমান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।