
চঞ্চল,
লালমনিরহাট উৎসবের আনন্দ শুধু উদযাপনেই নয়, বরং নাগরিক দায়বদ্ধতা পালনেও যে বর্তমান প্রজন্ম বদ্ধপরিকর, তার এক অনন্য নজির দেখালো লালমনিরহাটের তরুণরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জেলা শহরের রেলওয়ে মুক্তমঞ্চ ও সংলগ্ন পার্কে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্যের পিঠা উৎসব’ শেষে অনুষ্ঠানস্থল পরিষ্কার করে মাঠটিকে তার স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে এনেছে আয়োজক ‘জেন-জি’ (Gen-Z) সদস্যরা। তাদের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জেন-জি এর সাথে ২৪টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহ আয়োজনে আয়োজিত এই উৎসব ছিল প্রায় ৫০টি পিঠার স্টল। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে পিঠা বিতরণ, ২ হাজার প্রতিযোগীকে নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা, ২০ জন বিজয়ীকে পুরস্কার প্রদান এবং দুই সহস্রাধিক চারাগাছ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিনোদন খরা মেটানোর চেষ্টা করে জেন-জি।
সাংস্কৃতিক আয়োজন ও উৎসব শেষ হওয়ার পর সাধারণত মাঠজুড়ে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। কিন্তু জেন-জি সদস্যরা তা হতে দেননি। তারা উৎসব শেষে অবিলম্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামেন। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পুরো পার্ক ও মুক্তমঞ্চ এলাকাটি ময়লামুক্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সচেতন সমাজ মনে করছেন, জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানের পর মাঠ পরিচ্ছন্ন রাখার এই সংস্কৃতি সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শহিদ ইসলাম সুজন বলেন, “লালমনিরহাটে দীর্ঘদিন কোনো উল্লেখযোগ্য বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড না থাকায় তরুণ প্রজন্ম এক ধরনের হতাশায় ভুগছিল। তাদের মনোবল বাড়াতে এবং উজ্জীবিত করতেই আমাদের এই প্রয়াস।”
অন্যদিকে, আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আতিকুর রহমান শাকিল বলেন, “আমরা চেয়েছি শুধু একটি উৎসব উদযাপন করেই দায়িত্ব শেষ না করতে। বরং অনুষ্ঠানস্থল পরিষ্কার করে আমরা একটি বার্তা দিতে চেয়েছি যাতে ভবিষ্যতে এই দায়িত্বশীল সংস্কৃতি বজায় থাকে।”
দীর্ঘ বিরতির পর এমন আয়োজন শহরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। পরিবারসহ আসা দর্শনার্থীরা জানান, সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের এই সচেতনতা অত্যন্ত আধুনিক ও সময়োপযোগী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। আয়োজকদের এই কাজ লালমনিরহাটের প্রতিটি আয়োজনের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

























