Dhaka , Monday, 18 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রামুতে শতশত বনভূমির মাঝে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অসহায় মুফিজের একমাত্র ঘর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিবৃতি অকাল ঝড়ে কৃষক-ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, তবুও গাজীপুরের লিচু ঘিরে সম্ভাবনার স্বপ্ন সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, জিম্মি ৪ জেলে উদ্ধার মেঘনা ভাঙনে উপকূল, জরুরি কাজের আশ্বাস পানিসম্পদ মন্ত্রীর কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোন অরাজকতা চলবেনা:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকার ১২টা বাজিয়ে গেছে: আবদুস সালাম দুই দিনের সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় ঈদুল আজহা ২৭ মে আহত খেলোয়াড়কে আর্থিক সহায়তা দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মাদক প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাইলেন মধুপুরের ওসি ফজলুল হক রূপগঞ্জ টেলিভিশন মিডিয়া ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা ৭টি পাসপোর্টসহ সীমান্তে আটক সাবেক পররাষ্ট্র ডিজি সাব্বির কারাগারে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে দিল্লিতে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪৫ ডিগ্রিতে আবুধাবির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা রাশিয়ায় ইউক্রেনের পালটা ড্রোন হামলা, নিহত ৪ ঈদুল আজহা কবে জানাল আফগানিস্তান ইসলামের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করছে জামায়াত: রাশেদ খান এবার অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের সব ঘটনার তদন্ত চেয়ে রিট উন্নয়নের মহাযজ্ঞে পাল্টে যাচ্ছে পাইকগাছা পৌরসভার যোগাযোগ ব্যবস্থা হরমুজ ইস্যুতে চীনের অবস্থানকে সমর্থন করবে রাশিয়া ঈদের নামাজের আগে কোরবানি করা যাবে? মোটরসাইকেল মালিক-চালকদের ওপর কর চান না বিরোধী দলীয় নেতা চট্টগ্রামে র‌্যাবের পৃথক অভিযান, জাল নোটসহ গ্রেফতার ৩ ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: বিপুল পরিমাণ গাঁজা জব্দ গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দড়ি ছাড়াই ঘুরে বেড়ায় ১৩শ কেজির ‘নেইমার’ ড. ইউনূসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট জামায়াত নেতার বাড়িতে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

ঝালকাঠিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েও সরকারি সাহায্য পেলো না রেমালের ক্ষতিগ্রস্তরা।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:12:37 pm, Thursday, 10 October 2024
  • 148 বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েও সরকারি সাহায্য পেলো না রেমালের ক্ষতিগ্রস্তরা।।

মো. নাঈম হাসান ঈমন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

ঝালকাঠির নলছিটিতে ঘুসের টাকা দিয়েও  ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন বাছাই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত এক ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে। 

 

উপজেলার মগড় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের দুই মহিলা ইউপি সদস্য আশা আক্তার ও ময়না বেগম ট্যাগ অফিসার উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারীর বিরুদ্ধ এ অভিযোগ করে। গত -মঙ্গলবার ৮ অক্টোবর- উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তারা লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন- সদ্য সাবেক উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উজ্জল কৃষ্ণ বেপারী। যিনি অন্যত্র ঢাকা হেড অফিস বদলি হয়ে মঙ্গলবার -৮ অক্টোবর- নলছিটি ছেড়ছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- ঘূর্ণিঝড় রেমালে উপজেলার মগড় ইউপির এক শত বায়ান্ন -১৫২- জন ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন দাখিল করেন। আবেদন যাছাই বাছাই করতে ট্যাগ অফিসার উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারীকে মৌখিক নির্দেশে দেন উপজেলা নির্বার্হী অফিসার। জমা দেয়া নামের তালিকা সরেজমিনে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তদন্তে যান উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারী। ইউপি সদস্যদের দেওয়া তালিকা বাছাইয়ে ঠিক রাখার আশ্বাস দিয়ে ওই কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে ঘুষ নেন। ইউপি সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে ওই ঘুষের টাকা তুলেন। সম্প্রতি -৫ অক্টোবর- গৃহ নির্মাণের জন্য সরকারি সাহায্য জনপ্রতি এক বান্ডিল -এক বান- টিন ও ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে টিন ও টাকার চেক বন্টনকালে ইউপি সদস্যদের দেওয়া তালিকার অনেকেই এই সাহায্য পায়নি। ঘুষের টাকা দিয়েও সাহায্য না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

 

মগড় ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য আশা আক্তার অভিযোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জনের নামের তালিকা ইউএনও -উপজেলা নির্বাহী অফিসার- স্যারের মৌখিক নির্দেশে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে জমা দেন তিনি। সরেজমিনে যাচাইয়ে তা ঠিক রাখার জন্য ট্যাগ অফিসার উজ্জল কৃষ্ণ বেপারীকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে পনের জনের জন্য ১৫ -পনের- হাজার টাকা দেন তিনি। কিন্তু তার দেওয়া তালিকার ক্ষতিগ্রস্তরা কেউ সাহায্য পায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তারা ভাবছেন তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি ওই কর্মকর্তাকে টাকা দেননি। 

 

তিনি আরও জানান- ওই কর্মকর্তা ইউনিয়নের ১২  জন ইউপি সদস্যের কাছ থেকেই ওই হারে টাকা নিয়েছেন। এখন হয়তো অনেকেই তা স্বীকার করবেন না। অপর ইউপি সদস্য ময়না বেগম জানান- তিনি ৫জন ক্ষতিগ্রস্তের জন্য ওই কর্মকর্তাকে ৫০০০ টাকা দিয়েছেন। তারাও কেউ সাহায্য পায়নি।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে যাদের ঘরবাড়ির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ দেখেছি- তাদের নাম ঠিক রেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তালিকা দিয়েছি। তাতে অভিযোগকারী ওই মেম্বার সাহেবদের দেওয়া তালিকা থেকে যারা সাহায্য পাওয়ার যোগ্য তাদের কয়েকজনের নামও দিয়েছি। কিন্তু কেন তারা সাহায্য পায়নি তাতো আমি বলতে পারব না। আমিতো চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ নই। আমি শুধু যাচাই বাছাই করেছি। ইউএনও স্যার চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মেম্বর সাহেবদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তারা এসব কথা বলছেন।

 

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন- সমস্ত উপজেলায় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টিন ও টাকার চেক স্বচ্ছভাবে বন্টন করা হয়েছে। যেটা সবাই জানে। আমি ওই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এরপর ওই মেম্বার সাহেবদেরকে বলেছি যদি একান্ত ক্ষতিগ্রস্ত কেউ সাহায্য না পেয়ে থাকেন- তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে শতশত বনভূমির মাঝে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অসহায় মুফিজের একমাত্র ঘর

ঝালকাঠিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েও সরকারি সাহায্য পেলো না রেমালের ক্ষতিগ্রস্তরা।।

আপডেট সময় : 01:12:37 pm, Thursday, 10 October 2024

মো. নাঈম হাসান ঈমন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

ঝালকাঠির নলছিটিতে ঘুসের টাকা দিয়েও  ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন বাছাই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত এক ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে। 

 

উপজেলার মগড় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের দুই মহিলা ইউপি সদস্য আশা আক্তার ও ময়না বেগম ট্যাগ অফিসার উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারীর বিরুদ্ধ এ অভিযোগ করে। গত -মঙ্গলবার ৮ অক্টোবর- উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তারা লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন- সদ্য সাবেক উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উজ্জল কৃষ্ণ বেপারী। যিনি অন্যত্র ঢাকা হেড অফিস বদলি হয়ে মঙ্গলবার -৮ অক্টোবর- নলছিটি ছেড়ছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে- ঘূর্ণিঝড় রেমালে উপজেলার মগড় ইউপির এক শত বায়ান্ন -১৫২- জন ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন দাখিল করেন। আবেদন যাছাই বাছাই করতে ট্যাগ অফিসার উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারীকে মৌখিক নির্দেশে দেন উপজেলা নির্বার্হী অফিসার। জমা দেয়া নামের তালিকা সরেজমিনে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তদন্তে যান উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারী। ইউপি সদস্যদের দেওয়া তালিকা বাছাইয়ে ঠিক রাখার আশ্বাস দিয়ে ওই কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে ঘুষ নেন। ইউপি সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে ওই ঘুষের টাকা তুলেন। সম্প্রতি -৫ অক্টোবর- গৃহ নির্মাণের জন্য সরকারি সাহায্য জনপ্রতি এক বান্ডিল -এক বান- টিন ও ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে টিন ও টাকার চেক বন্টনকালে ইউপি সদস্যদের দেওয়া তালিকার অনেকেই এই সাহায্য পায়নি। ঘুষের টাকা দিয়েও সাহায্য না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

 

মগড় ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য আশা আক্তার অভিযোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জনের নামের তালিকা ইউএনও -উপজেলা নির্বাহী অফিসার- স্যারের মৌখিক নির্দেশে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে জমা দেন তিনি। সরেজমিনে যাচাইয়ে তা ঠিক রাখার জন্য ট্যাগ অফিসার উজ্জল কৃষ্ণ বেপারীকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে পনের জনের জন্য ১৫ -পনের- হাজার টাকা দেন তিনি। কিন্তু তার দেওয়া তালিকার ক্ষতিগ্রস্তরা কেউ সাহায্য পায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তারা ভাবছেন তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি ওই কর্মকর্তাকে টাকা দেননি। 

 

তিনি আরও জানান- ওই কর্মকর্তা ইউনিয়নের ১২  জন ইউপি সদস্যের কাছ থেকেই ওই হারে টাকা নিয়েছেন। এখন হয়তো অনেকেই তা স্বীকার করবেন না। অপর ইউপি সদস্য ময়না বেগম জানান- তিনি ৫জন ক্ষতিগ্রস্তের জন্য ওই কর্মকর্তাকে ৫০০০ টাকা দিয়েছেন। তারাও কেউ সাহায্য পায়নি।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল কৃষ্ণ বেপারী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে যাদের ঘরবাড়ির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ দেখেছি- তাদের নাম ঠিক রেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তালিকা দিয়েছি। তাতে অভিযোগকারী ওই মেম্বার সাহেবদের দেওয়া তালিকা থেকে যারা সাহায্য পাওয়ার যোগ্য তাদের কয়েকজনের নামও দিয়েছি। কিন্তু কেন তারা সাহায্য পায়নি তাতো আমি বলতে পারব না। আমিতো চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ নই। আমি শুধু যাচাই বাছাই করেছি। ইউএনও স্যার চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মেম্বর সাহেবদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তারা এসব কথা বলছেন।

 

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন- সমস্ত উপজেলায় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টিন ও টাকার চেক স্বচ্ছভাবে বন্টন করা হয়েছে। যেটা সবাই জানে। আমি ওই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এরপর ওই মেম্বার সাহেবদেরকে বলেছি যদি একান্ত ক্ষতিগ্রস্ত কেউ সাহায্য না পেয়ে থাকেন- তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।