মো.ইমরান হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার।।
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই গাজীপুরে দিনদিন শ্রমিক অসন্তোষ ক্রমেই
উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকার কর্তৃক শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরী ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষণা করলেও শ্রমিকদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন। বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে ফের বিক্ষোভ করেছে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মহানগরীর চান্দনা এলাকায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে শিল্প ও থানা পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এর কিছু সময় পর নাওজোড় এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ার আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এসময়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে নাওজোড় সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় অর্ধ শতাধিক পোশাক কারখানায় বৃহস্পতিবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানায়, ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের চান্দনা ও নাওজোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুর করেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে তারা নাওজোড় এলাকায় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও রাস্তার উপর কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন।
পরে বাসন থানা পুলিশ, র্যাব ও শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া করে। এ সময় শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। পুলিশ শ্রমিকদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট মহাসড়কে ধরিয়ে দেওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার গাজীপুরে বিক্ষোভে নামেন বেশকটি গার্মেন্টের শ্রমিকরা। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। এ সময় পুলিশের গুলিতে এক নারী শ্রমিক নিহত হন। দুপুরের এ ঘটনার পর শেষ বিকালে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের এক সদস্যের হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও ঘটে। পর্যায়ক্রমে কোনাবাড়ি, কাশিমপুর এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে বেশকিছু কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে চান্দনা এলাকায় একটি কারখানায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে এরপরই নাওজোড় এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা ভাঙচুর করেন এবং সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেন। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।

























