
ফারহান ইসলাম, হিলি ও পাঁচবিবি প্রতিনিধি:
ফুটন্ত গরম তেল, ধোঁয়ায় ভরা চুলা আর চারপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় এই দৃশ্যেই প্রতিদিন জীবিকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন পেঁয়াজু বিক্রেতা আব্দুল কালাম আজাদ। কোনো প্রকার সুরক্ষা ছাড়াই খালি হাতে গরম তেলের মধ্যে পেঁয়াজু তৈরি করে তাক লাগিয়েছেন তিনি। প্রায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এভাবেই পেঁয়াজু বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন এই মানুষটি।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মদিনা মসজিদ এলাকার ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি ছোট্ট অস্থায়ী দোকানে দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তৈরি হয় শত শত পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, রসুন চপ ও মরিচ চপ। এখানে পেঁয়াজু বিক্রি হয় মাত্র ১ টাকা পিস, রসুন চপ জোড়া ৫ টাকা, আলুর চপ জোড়া ৫ টাকা, বেগুনি চপ ১ টাকা ও মরিচ চপ ১ টাকা পিস। এত কম দামে বিক্রি করেও থেমে থাকার সুযোগ নেই তার।
পেঁয়াজু কিনতে আসা আমিনুল ইসলাম নয়ন বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এখান থেকে পেঁয়াজু খাচ্ছি। খাবারের মান অনেক ভালো। সবচেয়ে অবাক লাগে উনি খালি হাতে গরম তেলে পেঁয়াজু বানান। সিরিয়াল দিয়েও কিনতে হয়, তবুও খেতে আসি।
আরেক ক্রেতা নাইমুল বলেন, টিভিতে দেখতাম গরম তেলে হাত দিয়ে পেঁয়াজু বানায়। কখনো ভাবিনি বাস্তবে এমনটা দেখবো। আজ নিজের চোখে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে।
পেঁয়াজু কিনতে আসা স্কুল শিক্ষার্থী রিদয় হোসেন জানায়, স্কুল শেষে বাসায় যাওয়ার সময় এখান থেকে পেঁয়াজু খাই। প্রতি পিস ১ টাকা হওয়ায় ৫ টাকায় ৫টা খেতে পারি। অন্য দোকানে যেখানে ৫ টাকা পিস, সেখানে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য এটা অনেক উপকার।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ক্রেতা রাশেদ বলেন,
কয়েকদিন আগে এই পেঁয়াজুর কথা শুনে খেতে আসি। মান অনেক ভালো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও নজর কাড়ে। বাসার জন্যও কিছু নিয়ে যাবো।
পেঁয়াজু বিক্রেতা আব্দুল কালাম আজাদ বলেন,
আমি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পেঁয়াজু তৈরি করছি। আগে হোটেলে কাজ করতাম। এই ব্যবসা করে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, ঘর বানিয়েছি, ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় ৪ কেজি ডালের পেঁয়াজু, ২ কেজি বেগুনি চপ, দেড় কেজি রসুন চপ এবং ৫০০ থেকে ৬০০ পিস মরিচ চপ তৈরি করি। এতে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা লাভ হয়। গরম তেলে হাত দেওয়া এখন আমার অভ্যাস কোনো সমস্যা হয় না।
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শ্রী তরুণ কুমার পাল বলেন, গরম তেলে হাত দিলে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। আমাদের পরামর্শ, খুন্তি বা কাঠি ব্যবহার করে খাবার তৈরি করা, যাতে হাতের কোনো ক্ষতি না হয়।

























