
কক্সবাজার অফিস।।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির এবং আশেপাশের এলাকায় কলেরা রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় শুরু হয়েছে টিকা কার্যক্রম।
রোববার -১২ জানুয়ারি- উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘ওরাল ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এটিএম সাইফুল ইসলাম।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কলেরার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীসহ অংশীজনদের সহায়তায় বৃহৎ পরিসরে এ ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে- উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩ টি রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির- উখিয়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন, টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হৃীলা ইউনিয়ন- রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ থেকে ৯ নং ওয়ার্ড- বান্দরবান জেলার নাইক্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ থেকে ৩ নং ওয়ার্ডের ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫১৪ জন রোহিঙ্গা ও স্হানীয় জনগোষ্ঠীকে খাওয়ানো হবে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন।যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫১৭ জন ও স্হানীয় জনগোষ্ঠী ৪ লাখ ৭ হাজার ৯৯৭ জন।
২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই ক্যাম্পেইনে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে ১ হাজার ৬০৫ টি দলে বিভক্ত হয়ে ৩ হাজার ২১০ জন স্বেচ্ছাসেবী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভ্যাকসিন খাওয়াবেন। পাশাপাশি স্হানীয় জনগোষ্ঠীদের জন্য ২৭২ টি দলের ৭৪৪ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রতিদিন ৩০০ জনকে টিকা দেবেন।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: টিটু কান্তি শীল জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত কলেরা শনাক্ত হওয়া কোন রোগী মারা যায়নি, সবাই সুস্থ আছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘ইউভিকল এবং ইউভিকল প্লাস নামের মুখে খাওয়ার এ টিকার কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এক বছরের বেশি বয়সী সবাইকে এই টিকা দেওয়া সম্ভব। তবে গর্ভবতী নারী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের এ টিকা দেওয়া হবেনা। কারও কারও এই টিকা খাওয়ার পর বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে, তবে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে সেরে উঠবে।

























