Dhaka , Sunday, 1 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আকাশপথে অচলাবস্থা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আটকা কয়েক হাজার যাত্রী মির্জাপুরে মাটিবোঝাই ট্রাক ঢুকল ঘরে, চাপা পড়ে ঘুমন্ত বৃদ্ধ নিহত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে: পানি সম্পদ মন্ত্রী হাজীদের কষ্ট দিলে শাস্তি পেতে হবে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নরসিংদীসহ সারাদেশে খুন-ধর্ষণের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে মশাল মিছিল ট্র্যাব এর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৬ আসনের নবনির্বাচিত এমপি কর্নেল (অব:) মোহাম্মদ আব্দুল বাতেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা এই জনপদ আমাদের সন্তানদের জন্য উপযোগী করে রাখতে হবে- প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা: চবি এলাকায় মসজিদ সংস্কার কার্যক্রম রামগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত “বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারী লেসন ভিউ একাডেমি’র শিক্ষার্থীদের সাফল্য অর্জন “ স্যার কে.জি. গুপ্ত : কৃতিত্ব থাকলেও পালন করা হয় না জন্মবার্ষিকী পলিথিন বর্জন ও পরিবেশ রক্ষায় সদর উপজেলা প্রশাসনের পাটের ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচি জনগণের ‘দুলু ভাই’-এর নির্দেশে রমজানে বড়বাড়ীতে ‘জনতার বাজার’: অর্ধেক দামে মিলছে দুধ-মাংস সাতকানিয়ায় অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে মধ্যরাতের অভিযান, ২ এস্কেভেটর বিকল সাতকানিয়ায় টপসয়েল কাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ট্রাক-এক্সেভেটর জব্দ, জরিমানা ৪০ হাজার আইসিটি খাতে ১০লাখ লোকের কর্মসংস্থান করা হবে: তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ঝালকাঠিতে অটোরিকশা-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোচালক নিহত নোয়াখালীতে নিখোঁজের ২ দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ স্বামীর দেয়া আগুনে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা আমেনা (২০) বেতন ভাতা, শ্রমিক নির্যাতন ও ছাটাই এর প্রতিবাদে রূপগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ, শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২০, ৫ ঘন্টা ঢাকা সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ১৮ কিমি যানজট নারায়নগঞ্জ আইন কলেজের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহাফিল কাজে বের হয়ে প্রাণ হারালেন ওয়ালটন ব্যবস্থাপক; মহাসড়কে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ত্যাগ সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী গাজীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড,ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস এমপি মজিবুর রহমান বেতাগী ১০০ একর জমিতে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন -খুশি কৃষক  কালীগঞ্জে ১৫ বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান; গাঁজা ও ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ কুড়িগ্রাম সীমান্তে দুই ভারতীয় নাগরিক আটক; বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি দুর্গাপুরে আল-খিদমাহ স্বেচ্ছাসেবক যুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

উপকূলে ‘চায়না দুয়ারি হুমকিতে ছোট মাছ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:07:24 pm, Monday, 4 April 2022
  • 358 বার পড়া হয়েছে

উপকূলে ‘চায়না দুয়ারি হুমকিতে ছোট মাছ

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো।।

জালের নাম ‘চায়না দুয়ারিথ। মরণফাঁদ নামের এই জালে একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না মাছ। চলতি পথে নানা জলজ প্রাণী ঢুকে পড়লেও নিশ্চিত মৃত্যু। এক সময় দেশের উত্তরবঙ্গের নদ-নদী এবং পদ্মা-মেঘনার অগভীর তীরে এ জালের দেখা মিললেও এখন তা পৌঁছেছে দক্ষিণের সাগর পাড়ে।সমুদ্র মোহনায় থাকা নদীগুলোর অগভীর পানিতে ব্যাপক হারে বাড়ছে এ জালের ব্যবহার। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে মাছসহ নানা জলজ প্রাণী। সূ² ফাঁসের এই জালের পদ্ধতিটাই এমন যে স্রোতের টানে সব ধরনের জলজ প্রাণী ঢুকে যাবে এতে। বর্গাকৃতি লোহার খাঁচায় আটকে হারাতে হবে প্রাণ।কম দাম এবং বেশি মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে এই জালের জনপ্রিয়তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারেন্ট জালের চেয়েও মারাত্মক এই জাল। এর ব্যবহার বন্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের মৎস্যসম্পদ। বিলুপ্তি ঘটবে নানা জলজ প্রাণীর।বছর দুই আগে বাংলাদেশে ব্যবহার শুরু হয় চায়না দুয়ারির। প্রথম দিকে পদ্মা-মেঘনাসহ উত্তরবঙ্গের নদ-নদীতে দেখা যেত এগুলো। চায়না থেকে আসা সূ² ফাঁসের নেট দিয়ে তৈরি হয় এ জাল। ১শ থেকে দেড়শ ফুট লম্বা এই জালের প্রস্থ সর্বোচ্চ দেড় ফুট।দেখতে অনেকটা মোটা পাইপের মতো এই জালের দেড় দুই ফুট পরপর থাকে চার কোনা অথবা গোল লোহার ফ্রেম। এই ফ্রেমের সঙ্গে আবার একমুখী ফাঁদ। পাইপ সদৃশ জালের ভেতরে ঢোকার পর এসব ফাঁদ পার হয়ে জালের শেষাংশে চলে যায় মাছ।লোহার ফ্রেমের সঙ্গে থাকা ফাঁদগুলো এমন পদ্ধতিতে তৈরি যে একবার এই ফাঁদ পার হলে পেছনে ফেরার উপায় থাকে না।বরগুনার পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, ‘কারেন্ট জালের চেয়েও ভয়ংকর এই জালের ফাঁস এতটাই ছোট যে এর ভেতরে মাছের রেনু পোনা পর্যন্ত আটকে যায়। সেই সঙ্গে আটকা পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী। এককথায় পানি ছেকে সবকিছু নিয়ে আসে এই জাল।ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে প্রচলিত জালের মধ্যে যেগুলো নিষিদ্ধ তার তালিকায় এখনো আসেনি চায়না দুয়ারি। অসাধু জেলেরা এই সুযোগটিই ব্যবহার করছে।দাম কম এবং নদী তীরের কম পানিতে পাততে হয় বিধায় জেলে ছাড়াও নদীর পাড়ে বসবাসকারী অনেক সাধারণ মানুষও এখন এই জাল কিনে মাছ ধরছে। দিন দিন বাড়ছে এই জালের ব্যবহার। যাতে করে ধ্বংসের মুখে পড়ছে মৎস্যসম্পদ।থ
বিভিন্ন ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সমুদ্র তীরবর্তী বরগুনা, পটুয়াখালী এবং ভোলা জেলার প্রায় সব এলাকাতেই এখন দেদার ব্যবহার হচ্ছে ‘চায়না দুয়ারিথ।বিশেষ করে সাগর মোহনার নদীগুলোর অগভীর অংশ এবং নদী থেকে ঢোকা খালের মুখে। সরেজমিন এরকম অসংখ্য জাল পাততে দেখা গেছে বরগুনার তালতলির জয়ালভাঙ্গা, বগি বাজারসংলগ্ন ¯øুুইচ গেট, পাথরঘাটার চরদোয়ানী ¯øুুইচ, বাঁশবুনিয়া এবং বুকাবুনিয়া এলাকায়।জয়ালভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আলী কদম ব্যাপারী বলেন, ‘নদীতে জোয়ার আসার সময় জোয়ারের দিকে মুখ করে পাতা হয় এসব জাল। জোয়ার শেষে ভাটা শুরু হলে তুলে নেওয়া হয় তা। শুধু নদী নয়, নদী থেকে যেসব খাল জনবসতির দিকে গেছে সেসব জায়গাতেও এই জাল পাতে জেলেরা। পুরো তালতলী জুড়েই মিলবে এরকম অসংখ্য জাল পাতার দৃশ্য।বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘এমন কোনো নদী খাল পাওয়া যাবে না যেখানে চায়না দুয়ারি জাল পাতা হয় না। অনেক জেলে যারা আগে নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরত তারাও এখন এই চায়না দুয়ারির জেলে। তাছাড়া মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা যায় একেকটা চায়না দুয়ারি জাল। ফলে সহজেই তা কিনে নদীতে ফেলতে পারছে সবাই।থনদী ও মৎস্য গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইমেজ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নির্বাহী পরিচালক হাসান আবিদুর রেজা বলেন, ‘আমাদের দেশে এমনিতেই এখন অস্তিত্ব বিলোপের মুখে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ। এসব মাছ মূলত বিচরণ করে নদী-খালের অগভীর অংশে। চায়না দুয়ারি যেহেতু অগভীর পানিতে পাতা হয় তাই অস্তিত্বের সংকটে থাকা এসব ছোট মাছই ধরা পড়ে এই জালে। সূ² ফাঁসের হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাছের পোনা এবং নানা ধরনের জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে এই জালে। জেলেদের যেহেতু লক্ষ থাকে শুধু মূল্যবান মাছের দিকে তাই তীরে উঠার পর ওইসব পোনা এবং জলজ প্রাণী ফেলে দেওয়া হয় শুকনো ডাঙ্গায়। ফলে এগুলো মারা যায়। এর আগে যখন উপকূলে নেট জালের মাধ্যমে বাগদা চিংড়ির রেনু পোনা শিকার হতো তখনও এরকম সংকটে পড়েছিলাম আমরা। অবশ্য এখন সেটা অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। কিন্তু নতুন করে এই চায়না দুয়ারি জাল এসে আবারও সেই আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনেছে। ছোট ছোট প্রজাতির মাছ এবং মাছের রেনু পোনা মূলত নদী তীরের অগভীর পানিতেই থাকে। সেই জায়গায় এরকম ভয়ানক জাল পাতা মানে পুরো মৎস্যসম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এখনই এটা বন্ধ করা না গেলে দেশের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব বিলুপ্তির মাধ্যমে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।
সাগর পাড়ের নদ-নদীর মোহনাই শুধু নয়, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার প্রায় সর্বত্রই এখন ছড়িয়ে পড়েছে চায়না দুয়ারি। যার প্রমাণ মিলেছে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক আনিসুর রহমান তালুকদারের বক্তব্যে।চায়না দুয়ারি নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গেজেটে নাম থাকুক বা না থাকুক, মৎস্য আইনে এই জাল নিষিদ্ধ। এর প্রস্তুত পদ্ধতি এবং জাল ফার্মের যে ফাঁকা তা আইন সিদ্ধ নয়। এরইমধ্যে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় এই জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি আমরা। বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া থেকে বিপুলসংখ্যক জাল আটক করে ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ করে অগভীর বিল এলাকায় বেশি সংখ্যায় ব্যবহার হচ্ছে এই জাল।উপকূলীয় নদী এবং নদী মোহনায় এ জালের ব্যবহার রোধে কি কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানেই এই জালের ব্যবহার হচ্ছে বলে খবর মিলছে সেখানেই অভিযান চালাচ্ছি আমরা। তবে যেহেতু জেলেরা সংখ্যায় কয়েক লাখ সেখানে আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে সবক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে তারপরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এখানে সবচেয়ে যেটা জরুরি সেটা হচ্ছে জনসচেতনতা। সে দিকটাতেও জোর দিয়েছি আমরা। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই পুরো দক্ষিণ উপকূল থেকে মারাত্মক ক্ষতিকর এ জাল বিলুপ্ত করে দিতে পারব আমরা।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আকাশপথে অচলাবস্থা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আটকা কয়েক হাজার যাত্রী

উপকূলে ‘চায়না দুয়ারি হুমকিতে ছোট মাছ

আপডেট সময় : 08:07:24 pm, Monday, 4 April 2022

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো।।

জালের নাম ‘চায়না দুয়ারিথ। মরণফাঁদ নামের এই জালে একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না মাছ। চলতি পথে নানা জলজ প্রাণী ঢুকে পড়লেও নিশ্চিত মৃত্যু। এক সময় দেশের উত্তরবঙ্গের নদ-নদী এবং পদ্মা-মেঘনার অগভীর তীরে এ জালের দেখা মিললেও এখন তা পৌঁছেছে দক্ষিণের সাগর পাড়ে।সমুদ্র মোহনায় থাকা নদীগুলোর অগভীর পানিতে ব্যাপক হারে বাড়ছে এ জালের ব্যবহার। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে মাছসহ নানা জলজ প্রাণী। সূ² ফাঁসের এই জালের পদ্ধতিটাই এমন যে স্রোতের টানে সব ধরনের জলজ প্রাণী ঢুকে যাবে এতে। বর্গাকৃতি লোহার খাঁচায় আটকে হারাতে হবে প্রাণ।কম দাম এবং বেশি মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে এই জালের জনপ্রিয়তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারেন্ট জালের চেয়েও মারাত্মক এই জাল। এর ব্যবহার বন্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের মৎস্যসম্পদ। বিলুপ্তি ঘটবে নানা জলজ প্রাণীর।বছর দুই আগে বাংলাদেশে ব্যবহার শুরু হয় চায়না দুয়ারির। প্রথম দিকে পদ্মা-মেঘনাসহ উত্তরবঙ্গের নদ-নদীতে দেখা যেত এগুলো। চায়না থেকে আসা সূ² ফাঁসের নেট দিয়ে তৈরি হয় এ জাল। ১শ থেকে দেড়শ ফুট লম্বা এই জালের প্রস্থ সর্বোচ্চ দেড় ফুট।দেখতে অনেকটা মোটা পাইপের মতো এই জালের দেড় দুই ফুট পরপর থাকে চার কোনা অথবা গোল লোহার ফ্রেম। এই ফ্রেমের সঙ্গে আবার একমুখী ফাঁদ। পাইপ সদৃশ জালের ভেতরে ঢোকার পর এসব ফাঁদ পার হয়ে জালের শেষাংশে চলে যায় মাছ।লোহার ফ্রেমের সঙ্গে থাকা ফাঁদগুলো এমন পদ্ধতিতে তৈরি যে একবার এই ফাঁদ পার হলে পেছনে ফেরার উপায় থাকে না।বরগুনার পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, ‘কারেন্ট জালের চেয়েও ভয়ংকর এই জালের ফাঁস এতটাই ছোট যে এর ভেতরে মাছের রেনু পোনা পর্যন্ত আটকে যায়। সেই সঙ্গে আটকা পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী। এককথায় পানি ছেকে সবকিছু নিয়ে আসে এই জাল।ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে প্রচলিত জালের মধ্যে যেগুলো নিষিদ্ধ তার তালিকায় এখনো আসেনি চায়না দুয়ারি। অসাধু জেলেরা এই সুযোগটিই ব্যবহার করছে।দাম কম এবং নদী তীরের কম পানিতে পাততে হয় বিধায় জেলে ছাড়াও নদীর পাড়ে বসবাসকারী অনেক সাধারণ মানুষও এখন এই জাল কিনে মাছ ধরছে। দিন দিন বাড়ছে এই জালের ব্যবহার। যাতে করে ধ্বংসের মুখে পড়ছে মৎস্যসম্পদ।থ
বিভিন্ন ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সমুদ্র তীরবর্তী বরগুনা, পটুয়াখালী এবং ভোলা জেলার প্রায় সব এলাকাতেই এখন দেদার ব্যবহার হচ্ছে ‘চায়না দুয়ারিথ।বিশেষ করে সাগর মোহনার নদীগুলোর অগভীর অংশ এবং নদী থেকে ঢোকা খালের মুখে। সরেজমিন এরকম অসংখ্য জাল পাততে দেখা গেছে বরগুনার তালতলির জয়ালভাঙ্গা, বগি বাজারসংলগ্ন ¯øুুইচ গেট, পাথরঘাটার চরদোয়ানী ¯øুুইচ, বাঁশবুনিয়া এবং বুকাবুনিয়া এলাকায়।জয়ালভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা আলী কদম ব্যাপারী বলেন, ‘নদীতে জোয়ার আসার সময় জোয়ারের দিকে মুখ করে পাতা হয় এসব জাল। জোয়ার শেষে ভাটা শুরু হলে তুলে নেওয়া হয় তা। শুধু নদী নয়, নদী থেকে যেসব খাল জনবসতির দিকে গেছে সেসব জায়গাতেও এই জাল পাতে জেলেরা। পুরো তালতলী জুড়েই মিলবে এরকম অসংখ্য জাল পাতার দৃশ্য।বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘এমন কোনো নদী খাল পাওয়া যাবে না যেখানে চায়না দুয়ারি জাল পাতা হয় না। অনেক জেলে যারা আগে নৌকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরত তারাও এখন এই চায়না দুয়ারির জেলে। তাছাড়া মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা যায় একেকটা চায়না দুয়ারি জাল। ফলে সহজেই তা কিনে নদীতে ফেলতে পারছে সবাই।থনদী ও মৎস্য গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইমেজ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নির্বাহী পরিচালক হাসান আবিদুর রেজা বলেন, ‘আমাদের দেশে এমনিতেই এখন অস্তিত্ব বিলোপের মুখে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ। এসব মাছ মূলত বিচরণ করে নদী-খালের অগভীর অংশে। চায়না দুয়ারি যেহেতু অগভীর পানিতে পাতা হয় তাই অস্তিত্বের সংকটে থাকা এসব ছোট মাছই ধরা পড়ে এই জালে। সূ² ফাঁসের হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাছের পোনা এবং নানা ধরনের জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে এই জালে। জেলেদের যেহেতু লক্ষ থাকে শুধু মূল্যবান মাছের দিকে তাই তীরে উঠার পর ওইসব পোনা এবং জলজ প্রাণী ফেলে দেওয়া হয় শুকনো ডাঙ্গায়। ফলে এগুলো মারা যায়। এর আগে যখন উপকূলে নেট জালের মাধ্যমে বাগদা চিংড়ির রেনু পোনা শিকার হতো তখনও এরকম সংকটে পড়েছিলাম আমরা। অবশ্য এখন সেটা অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। কিন্তু নতুন করে এই চায়না দুয়ারি জাল এসে আবারও সেই আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনেছে। ছোট ছোট প্রজাতির মাছ এবং মাছের রেনু পোনা মূলত নদী তীরের অগভীর পানিতেই থাকে। সেই জায়গায় এরকম ভয়ানক জাল পাতা মানে পুরো মৎস্যসম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। এখনই এটা বন্ধ করা না গেলে দেশের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব বিলুপ্তির মাধ্যমে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।
সাগর পাড়ের নদ-নদীর মোহনাই শুধু নয়, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার প্রায় সর্বত্রই এখন ছড়িয়ে পড়েছে চায়না দুয়ারি। যার প্রমাণ মিলেছে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক আনিসুর রহমান তালুকদারের বক্তব্যে।চায়না দুয়ারি নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গেজেটে নাম থাকুক বা না থাকুক, মৎস্য আইনে এই জাল নিষিদ্ধ। এর প্রস্তুত পদ্ধতি এবং জাল ফার্মের যে ফাঁকা তা আইন সিদ্ধ নয়। এরইমধ্যে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় এই জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি আমরা। বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া থেকে বিপুলসংখ্যক জাল আটক করে ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ করে অগভীর বিল এলাকায় বেশি সংখ্যায় ব্যবহার হচ্ছে এই জাল।উপকূলীয় নদী এবং নদী মোহনায় এ জালের ব্যবহার রোধে কি কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানেই এই জালের ব্যবহার হচ্ছে বলে খবর মিলছে সেখানেই অভিযান চালাচ্ছি আমরা। তবে যেহেতু জেলেরা সংখ্যায় কয়েক লাখ সেখানে আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে সবক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে তারপরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এখানে সবচেয়ে যেটা জরুরি সেটা হচ্ছে জনসচেতনতা। সে দিকটাতেও জোর দিয়েছি আমরা। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই পুরো দক্ষিণ উপকূল থেকে মারাত্মক ক্ষতিকর এ জাল বিলুপ্ত করে দিতে পারব আমরা।