ইবি প্রতিনিধি।।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘আন্তর্জাতিক হিসাববিজ্ঞান দিবস-২০২৩’ উদযাপিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (১১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। একইসাথে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অংশগ্রহণে সমন্বিত একটি অনলাইন কনফারেন্সও অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি বের করেন তারা। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় র্যালিতে বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীন ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে র্যালি শেষে বেলা ১১ টায় বিভাগের ২১৩ নং হলরুমে অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
দিবসটি উদযাপন নিয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুড গভর্নেন্সের কোনও বিকল্প নেই। আর গুড গভর্নেন্স নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেও আর্থিক কার্যক্রমের সঠিকতা নিরুপনে হিসাববিজ্ঞান কাজ করে।
প্রসঙ্গত, পৃথিবীর ইতিহাসে হিসাব সংরক্ষণের প্রয়োজনে সর্বপ্রথম হিসাবের বইতে অঙ্কের মাধ্যমে লেখা (হিসাব) শুরু করেন ইতালিয়ান গণিতবিদ ও দার্শনিক লুকা প্যাসিওলি। আর এই ধারণা ১৪৯৪ সালের ১০ নভেম্বর তিনি তার “সুম্মা ডি এরিথমেটিকা জিওমেট্রিয়া প্রপোরশনি এট প্রপোরশনালিটা” গ্রন্থে তুলে ধরেন। এতে তিনি পাটিগণিত, জ্যামিতি এবং ভগ্নাংশের ব্যবহার করে একটি একক হিসাব পদ্ধতি ও হিসাবরক্ষণের প্রধান মূলনীতি “দুতরফা দাখিলা” উদঘাটন করেন যা আজও আধুনিক বিশ্বে সমাদৃত। এই মূলনীতি থেকেই পরে জাবেদা, খতিয়ান, আর্থিক বিবরণী ও উদ্বৃত্তপত্র তৈরির ধারণা পাওয়া যায়। হিসাব পদ্ধতির এই নব-পরিবর্তনের কারণে তিনি হিসাববিজ্ঞানের জনক হওয়ার খ্যাতি পান। এবং তার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সারাবিশ্বে হিসাব পেশাজীবীরা প্রতিবছর ১০ নভেম্বর দিনটিকে হিসাববিজ্ঞান দিবস হিসেবে উদযাপন করে থাকেন।

























